1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

রেঞ্জ কর্মকর্তাকে লাঞ্চিত করে ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নিলেন সেই বিতর্কিত চেয়ারম্যান

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৫
  • ১২ দেখা হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক :
রেঞ্জ কর্মকর্তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নিয়েছেন রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের বিতর্কিত চেয়ারম্যান নুরুল আমিন। সামাজিক বনায়ন ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনে দাওয়াত না করায় তিনি এ ঘটনা ঘটান।
লাঞ্চনার শিকার এসএম সাহিদুল হক বাঘখালী রেঞ্জ এর বন কর্মকর্তা। গতকাল শনিবার (২৯ আগষ্ট) বেলা সোয়া ১২ টায় এ ঘটনা ঘটে। ইতিপূর্বে চেয়ারম্যান নুরুল আমিন স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলামকে মারধর এবং সাংবাদিককে হাফিজুল ইসলামকে লাঞ্চিত করেছিলেন। সংরক্ষিত বন ও পাহাড় কেটে পরিবেশ ধ্বংসের দায়ে পরিবেশ অধিদপ্তর চেয়ারম্যান নুরুল আমিনকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করেন।
জানা গেছে, রামু উপজেলার বাঘখালী রেঞ্জের আওতাধিন কচ্ছপিয়া বন বিটে ২০১৩-২০১৪ সালে সৃজিত ২০ হেক্টর (৫০ একর) সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের লক্ষ্যে বিট কর্মকর্তা আজমল হোসেন গত ২৩ আগষ্ট সভা আহবান করেন। ওই সভায় ৯ সদস্যের কমিটির মধ্যে ৭জন বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হন। এছাড়া সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ২ জন করে প্রার্থী থাকায় ২৯ আগষ্ট নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নির্বাচন হওয়ার কথা ছিলো কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের দোছড়ি উত্তরকুল গ্রামের মধ্যমপাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন ফোরকানিয়া মাদরাসার হল রুমে।
বাঘখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা এসএম সাহিদুল হক জানান, নির্বাচন চলাকালে দুপুর সোয়া ১২ টায় চেয়ারম্যান নুরুল আমিন দলবল নিয়ে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। এসময় তিনি তাকে (রেঞ্জ কর্মকর্তা) অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং তাকে কেন দাওয়াত দেওয়া হয়নি তা জানতে চান। গালিগালাজ শেষে চেয়ারম্যান নুরুল আমিন ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নিয়ে কেন্দ্র ত্যাগ করেন। ছিনতাই হওয়া ব্যালট বাক্সে ৭৫ জনের মধ্যে ৬৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। অবশিষ্ট ৬টি ভোট বাকি থাকতেই এ ঘটনা ঘটে।
রেঞ্জ কর্মকর্তা আরো জানান, ব্যালট বাক্স ছিনতাই হওয়ার পর ১৫ মিনিট পর্যন্ত তিনি কেন্দ্রে ছিলেন। পরে কয়েকজন উপকারভোগীর সহায়তায় এলাকা থেকে চলে আসছিলেন রেঞ্জ কর্মকর্তা। পথিমধ্যে উত্তরকুল এলাকায় পৌছলে চেয়ারম্যান নুরুল আমিন তাকে (রেঞ্জ কর্মকর্তা) গতিরোধ করেন এবং তাকে টেনে-হেচড়ে পার্শ্ববর্তী একটি দোকানে নিয়ে আটকে রাখেন।
চেয়ারম্যান নুরুল আমিন তাকে জানান, এমপি সাহেবের নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত তাকে ছাড়া হবে না। কিছুক্ষনের মধ্যে ফোনে চেয়ারম্যান রামু-কক্সবাজার আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলের সাথে কথা বলেন। এসময় সাংসদ নিজেই রেঞ্জ কর্মকর্তার সাথে কথা বলেন।
রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান, ফোনে আলাপকালে সাংসদ কমল তিনি (রেঞ্জ কর্মকর্তা) কেন ঐ এলাকায় গিয়েছিলেন তা জানতে চান। পরে সাংসদ কমল তাকে চলে আসতে বললে, রেঞ্জ কর্মকর্তা তাকে দোকানে আটকে রাখার বিষয়টি জানান। পরে অবশ্য চেয়ারম্যান নুরুল আমিন রেঞ্জ কর্মকর্তাকে ছেড়ে দেন।
রেঞ্জ কর্মকর্তা এসএম সাহিদুল হক জানান, তাকে চেয়ারম্যান নুরুল আমিন যেসব ভাষায় গালিগালাজ করেছেন তা মুখে বলাও সম্ভব না। চাকরি জীবনে এভাবে লাঞ্চনার শিকার হবেন তা কখনো ভাবতে পারেননি। এ ব্যাপারে তিনি আইনী ব্যবস্থার প্রথম ধাপ হিসেবে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষনিক মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। এছাড়া এ বিষয়ে লিখিতভাবেও প্রতিবেদন দেবেন।
অভিযুক্ত কচ্ছপিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন রেঞ্জ কর্মকর্তাকে লাঞ্চিত এবং ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ওই নির্বাচনের বিষয়টি তাকে (চেয়ারম্যান নুরুল আমিন) এবং স্থানীয় মেম্বারকে জানানো হয়নি। তাই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।
এ নিয়ে জানতে চাইলে উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা শাহ-ই-আলম বিষয়টি স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, রামু-কক্সবাজার আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলকে বিচার দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও রেঞ্জ কর্মকর্তা এসএম সাহিদুল হক চাইলে আইনের আশ্রয়ও নিতে পারেন।
নুরুল আমিনের যত অপকর্ম :
রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিনকে নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। পাহাড় ও বন কেটে অবৈধ সড়ক নির্মাণ কাজ চালানোর দায়ে চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তর চেয়ারম্যান নুরুল আমিনকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করেন। ঢাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে এক শুনানির পর অধিদপ্তরের পরিচালক মোঃ আলমগীর এ রায় দেন। এর আগে চেয়ারম্যানকে ঢাকায় তলব করে অধিদপ্তর। দূষণ বিরোধী অভিযানের কার্যক্রম হিসেবে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (মনিটরিং এন্ড এনফোর্সমেন্ট) মোঃ আলমগীর শুনানি গ্রহণ করেন। শুনানিতে চেয়ারম্যান নিজের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অঙ্গীকার করেন। পরে পরিবেশ অধিদপ্তর বিষয়টি বিবেচনা করে শুধু জরিমানা করেন। এর পর থেকে চেয়ারম্যান নুরুল আমিন রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছ থেকে জরিমানার টাকা ফেরৎ নেয়ার পাশাপাশি হত্যাসহ নানা ভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন।
চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে স্থানীয় সংবাদকর্মী হাফিজুল ইসলাম চৌধুরীকে লাঞ্চিত করেন চেয়ারম্যান নুরুল আমিন। পরিষদের হলরুমে উপজেলা কৃষি বিভাগ আয়োজিত একটি সরকারী অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনতার সামনে এ ঘটনা ঘটান নুরুল আমিন।
ত্রাণ বিতরনে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১ নং ওয়ার্ডের সদস্য ও কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি নজরুল ইসলামকে মারধর করেন চেয়ারম্যান নুরুল আমিন। ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার কয়েকমাসের মধ্যে পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
এছাড়াও ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে গর্জনিয়া বাজারে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শত বছরের জমি দখল, সরকারি খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহে অনিয়ম, ইতিপূর্বে দুবাইতে থাকাকালে আবাসিক হোটেল ব্যবসার নামে পতিতা ব্যবসা সহ অনেক অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে।
একের পর এক অপরাধ কর্মকান্ডের কারনে বর্তমানে বিতর্কিত এ চেয়ারম্যানের জনপ্রিয়তা তলানীতে এসেছে। কিন্তু আওয়ামীলীগ বা কোন অঙ্গসংগঠনের সদস্য না হলেও নিজেকে সরকারি দলের নেতা পরিচয়ে এলাকায় নানা অপকর্ম অব্যাহত রেখেছেন।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com