উপজেলাকক্সবাজারলীড

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শুরু হয়েছে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ : কমে আসবে অপরাধ

118views

তারেকুর রহমান:

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে উখিয়া-টেকনাফে রোহিঙ্গা শিবিরের চারপাশে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ। কাঁটাতারের বেড়া স্থাপনের জন্য পিলার বসানো শুরু করেছে সেনাবাহিনী। পিলার বসানোর পর শুরু হবে বেড়া স্থাপনের কাজ।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খুন, অপহরণ, স্থানীয়দের উপর হামলা, ছিনতাই, মাদক ও মানব পাচারের ঘটনা নতুন নয়। এসব ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলছে। ক্যাম্পে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের মধ্য দিয়ে এসব অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে বলে মন্তব্য করছেন স্থানীয় ও সংশ্লিষ্টরা।

কাঁটাতারের বেড়া স্থাপনের মাঝে রোহিঙ্গারা দেখছেন তাদের নিরাপত্তা। তারা মনে করছেন কাঁটাতারের বেড়া স্থাপনের ফলে ক্যাম্পে অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে এবং ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের উপর নিরাপত্তা জোরদার হবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা শিবির সীমানায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য শ্রমিকদের নিয়ে পিলার স্থাপন করছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

সেনাবাহিনীর এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন রোহিঙ্গারা। তবে কিছু কিছু রোহিঙ্গা কাঁটাতারের বেড়া স্থাপনে অখুশি।

রোহিঙ্গা মোহাম্মদ সিদ্দিক বলেন, ‘কাঁটাতারের বেড়া দিলেও কি, না দিলেও কি, এতে আমাদের লাভ ক্ষতি দেখছিনা। বরং লাভের চেয়ে ক্ষতি দেখছি। এখন বাইরে একটু ঘুরতে যেতে পারি। কাঁটাতারের বেড়া দিলে হয়তো বাইরে ঘুরতে পারবো না।’

কাঁটাতারের বেড়া স্থাপনকে সমথর্ন জানিয়ে কিছু রোহিঙ্গা মন্তব্য করেন, বেড়া স্থাপনের ফলে তাদের নিজেদের মধ্যে মারামারি, খুন ডাকাতি বন্ধ হবে।

রোহিঙ্গা মাওলানা জসিম উদ্দিন বলেন, এক ক্যাম্প থেকে কিছু সন্ত্রাসী রোহিঙ্গা অন্য ক্যাম্পে গিয়ে ছিনতাই, খুন, অপহরণের মাধ্যমে অপরাধ সংগঠিত করে। কাঁটাতারের বেড়ার কারণে সন্ত্রাসী রোহিঙ্গারা অবাধ  চলাচল করতে পারবে না। ফলে অপরাধ করার সুযোগ থাকবেনা।’

এমন উপকারমূলক উদ্যোগের জন্য  বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

কয়েকজন স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ অত্যন্ত প্রয়োজন। ক্যাম্পে কাটাতাঁরের বেড়া না থাকায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে রোহিঙ্গারা। কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন করা হলে সহজে তা সম্ভব হবে না। এছাড়াও স্থানীয়দের উপর হামলা, অপহরণ, ইয়াবা ব্যবসাসহ সকল ধরণের অপরাধ করার সুযোগ পাবেনা রোহিঙ্গারা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খুন হয়েছে প্রায় অর্ধশত মানুষ। আর মামলা হয়েছে চার শতাধিক।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইবাল হোসেন বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নানা ঝুঁকি মাথায় রেখে সরকার কাটাতাঁরের বেড়া নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন অপরাধামূলক কর্মকাণ্ড কমবে  বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা বাড়বে।’

প্রসঙ্গত, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর অল্প সময়ের মধ্যে রাখাইন ছেড়ে বাংলাদেশে আসেন প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। এর আগে থেকে এ দেশে অবস্থান করছিলেন আরও চার লাখ রোহিঙ্গা। সীমান্তবর্তী জেলা কক্সবাজারের প্রায় ৩৪টি শিবিরে বর্তমানে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছেন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে হত্যা, অপহরণ, মাদক ও মানব পাচারের মতো ঘটনা রোধে সরকার সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ক্যাম্পের চার পাশে কাঁটাতারের গেরা দেয়ার উদ্যোগ নেয়।

Leave a Response