1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

লন্ডনে খোলা মাঠে ঈদের নামাজ, সে এক ব্যতিক্রমী আমেজ

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
  • ১৮ দেখা হয়েছে

তাইসির মাহমুদঃ

এক যুগেরও বেশি সময় লন্ডন আছি। কিন্তু এবারই প্রথম খোলা মাঠে ঈদের নামাজ পড়ার সুযোগ পেলাম। ঈদ এখন গ্রীস্মকালে চলে আসায় আশা করা যায় আগামী কয়েক বছর এই সুযোগ অব্যাহত থাকবে।

আসলে খোলা মাঠে ঈদের নামাজ পড়ার আনন্দ আলাদা। এক কথায় অপুর্ব। দীর্ঘ ষোল বছর মসজিদের চার-দেয়ালের ভেতর ঠাসাঠাসি বসে ৩২টি ঈদের জামাত পড়েছি। বৃটেনের মসজিদগুলোতে একাধিক জামাত হয়। তাই এক জামাত শেষ হওয়ার আগেই অন্য জামাতের মুসল্লিরা পেছনে দাঁড়িয়ে থাকেন। নামাজ শেষে সম্মুখ দিকে বিশেষ রাস্তা দিয়ে বের হয়ে যেতে হয়। মসজিদের ভেতরে দাঁড়ানো ও পরিচিতজনের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের কোনো সুযোগ থাকেনা। বাইরে বের হওয়ার পর কোথাও দাঁড়ানোরও সুযোগ সেই সুযোগ নেই। ফুটপাতে মানুষ, রাস্তায় গাড়ির জ্যাম। গাড়িতে চড়ে ড্রাইভ করে সোজা চলে আসতে হয় বাসায়।

বাংলাদেশে প্রত্যুষে ঘুম থেকে জেগে গোসল সেরে জায়নামাজ কাঁধে ঝুলিয়ে পায়ে হেঁটে ঈদগাহ ময়দানে পৌঁছা। পথে যেতে যেতে এ বাড়ি ও বাড়ির ভাই, চাচা,ভাতিজার সঙ্গে মিলে-মিশে দল বেঁধে হেঁটে চলা। তাকবির বলতে বলতে ঈদগাহ ময়দানে পৌঁছা। নামাজ শেষে ঈদের ময়দানে পরস্পর কুলাকুলি। এরপর হাঁটতে হাঁটতে ফিরে আসা। গ্রামের এ বাড়ি ও বাড়ি বেড়াতে যাওয়া। পিঠা-পায়েশ খাওয়া। কবরস্থানে গিয়ে মা-বাবা দাদা-দাদীর কবর জেয়ারত করা। এরপর বাড়িতে ফিরে কুরবানীর আয়োজন। কুরবানীর গরুটি জবাইর জন্য প্রস্তুুত। অপেক্ষা শুধু মসজিদের ইমাম সাহেবের। ইমাম সাহেব আজ বড়ই ব্যস্ত। গ্রামের প্রত্যেকের ঘরেই এক একটি জন্তু কুরবানীর জন্য অপেক্ষারত। তাঁকে প্রত্যেকের বাড়িতে যেতে হচ্ছে। গরু-ছাগলগুলো জবেহ করতে হবে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ইমাম সাহেব এলে গরুটিকে ধরে বেঁধে বিশেষ কসরতে মাটিয়ে শুইয়ে ইমাম সাহেব গলায় ছুরি চালালেন। কিছুক্ষণের মধ্যে নিস্তেজ। চামড়া ছুলে নিয়ে গেলো মুচি। মাংস ছুলে কিছু আগে-ভাগে পাঠানো হলো রান্না ঘরে। মা ফ্রেস মাংস উনানে ছড়ালেন। একদিকে মাংস রান্না চলছে, অন্যদিকে চলছে গরুটির মাংস ছুলানোর কাজ।

এরপর বাড়ি বাড়ি ঘুরে চলে মাংস বিলির কাজ। প্রত্যেকেই কুরবানী দিয়েছেন। কিন্তু প্রত্যেকের বাড়িতে কুরবানীর মাংস পৌঁছে দিতে হয়। যেভাবে বিলি করা হয় সেভাবেই আবার ফিরে আসে। কারণ প্রত্যেকেই প্রত্যেকের বাড়িতে কুরবানীর মাংস পৌছে দেন। মাংস বিলি শেষে বাসায় ফিরে এবার ফ্রেস কুরবানীর মাংস দিয়ে বিকেলের খাবার। কী যে মজা। কী যে আনন্দ।

বৃটেনে সারা বছর ফ্রিজ ভর্তি মাংস থাকে। প্রতিদিনের খবারের উপাদানে মাংস আছে। কিন্তু সেই স্বাদ নেই। নেই সেই আসন্দ।

সে যাক। কুরবানীর মাংসের সেই স্বাদ না পেলেও অন্তত খোলা মাঠে নামাজ পড়ার আনন্দ পেলাম এবার। রৌদ্রজ্জল ঝরঝরে দিন হওয়ায় সকাল ৯টা থেকেই মানুষের ঢল নামে মাইল এন্ড পার্কে। নারি পুরুষ, শিশু-কিশোর দলে দলে পার্কে জমায়েত হন।

মাঠে পৌছে দেখলাম টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র জন বিগস একপাশে একাকি পায়চারি করছেন। অপেক্ষায় আছেন নামাজ শেষে বারাবাসীর সঙ্গে কুশর বিনিময় করবেন। বাংলা টিভি চ্যানেলের সাংবাদিকরাও প্রস্তত মুসল্লিদের ইন্টারভিউ নেয়ার জন্য। নামাজ শেষে টিভি ক্যামেরার সামনে দেখা গেলো মুসল্লিদের ভীড়। টিভিগুলো বাড়তি আনন্দ যুগালো মুসল্লিদের জন্য।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com