1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

লিবিয়া উপকূলে নৌযানডুবি : ৬ বাংলাদেশীসহ শতাধিক লাশ উদ্ধার নিখোঁজ শতাধিক

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৫
  • ৫২ দেখা হয়েছে

কক্সবাজার আলো ডেস্ক :
লিবিয়া উপকূলের কাছে প্রায় ৫০০ অভিবাসন প্রত্যাশীকে নিয়ে দুটি নৌযান ডুবিতে নিহতদের মধ্যে রয়েছে ৫ বাংলাদেশী রয়েছে। নৌযান দুটিতে ৪৩ জন বাংলাদেশী ছিলো বলে জানা গেছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে দুটি পরিবারের ২ জন। স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার ওই দুটি নৌযান ডুবে গেলে অন্তত ২০০ অভিবাসন প্রত্যাশীর প্রাণহানি ঘটেছে বলে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ২০০ আশ্রয়প্রার্থীকে। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে দুই শতাধিক।এ বিষয়ে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৭ আগস্ট স্থানীয় সময় রাত ২টার দিকে ৪-৫শ’ অভিবাসী বহনকারী একটি নৌকা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেবার সময় ত্রিপোলীর ৩০০ কি.মি. পশ্চিমের সমুদ্র তীরবর্তী শহর জুয়ারার উপকূলে ডুবে যায়। যার মধ্যে ৪৩ জন বাংলাদেশী ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কাউন্সেলরের নেতৃত্বে একটি দল উদ্ধারকৃত বাংলাদেশীদের চিকিৎসা এবং মানবিক সহায়তা দেবার জন্য কাজ শুরু করেছে। তারা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে বিপদগ্রস্ত নৌকা দুটিতে অবস্থানকারী বাংলাদেশীদের মধ্যে ৫ জন মারা গেছেন এবং ২ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। লিবিয়ান কোস্টগার্ড সদস্যরা এসব অভিবাসীদের উদ্ধার করে এবং তাদেরকে চিকিৎসা সহায়তা দেয়। তারা শিশুসহ চারটি বাংলাদেশী পরিবারকে উদ্ধার করে। এ পর্যন্ত উদ্ধারকৃত সব বাংলাদেশীকে হাসপাতালে ভর্তির পর প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে যে কোন জরুরি প্রয়োজনে বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি জরুরি সেলও চালু করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য লেবার কাউন্সেলর, আশরাফুল ইসলাম, মোবাইল: ০০২১৮৯১৬৯৯৪২০২ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।অন্যদিকে লিবিয়ার নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডুবে যাওয়া নৌকা দুটির আরোহীদের মধ্যে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ, পাকিস্তান, সিরিয়া, মরক্কো এবং বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন। বিবিসি জানিয়েছে, দেশান্তরী প্রায় সাড়ে চারশ’ মানুষকে নিয়ে ইটালি হয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টায় লিবিয়ার জুয়ারা শহরের কাছে ভূমধ্যসাগরে বৃহস্পতিবার নৌকা দুটো ডুবে যায়। এর মধ্যে প্রথম যে নৌকাটি থেকে সাহায্য চেয়ে সংকেত পাঠানো হয়, তাতে প্রায় ৫০ জন ছিলেন। আর দ্বিতীয় নৌকায় ছিলেন চারশ’র বেশি আরোহী। লিবিয়ার কোস্টগার্ডের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, উদ্ধারকর্মীরা নৌকা দুটি থেকে ২০১ জনকে উদ্ধার করতে পারলেও অনেকেই নৌকাডুবির সময় ভেতরে আটকে ছিলেন। অন্তত ১০০ লাশ উদ্ধার করে জুয়ারা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন। উদ্ধার করা অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে ১৪৭ জনকে ত্রিপোলির পশ্চিমে সাবরাথায় একটি ‘ডিটেনশন সেন্টারে’ নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে রয়টার্সের খবরে জানানো হয়েছে। তিউনিসিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশের লিবিয়া দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মোজাম্মেল হক বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ডুবে যাওয়া নৌকা দুটিতে মোট ৩১জন বাংলাদেশী ছিল। নিহতদের মধ্যে দুজন শিশু বলে জানিয়েছেন দূতাবাসের কর্মকর্তা। লাইফ জ্যাকেট পরে থাকায় বেশিরভাগ বাংলাদেশি অভিবাসন প্রত্যাশীকেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে দূতাবাস সূত্র থেকে বলা হয়েছে।মোজাম্মেল হক বলেছেন, ৪টি পরিবারসহ মোট ৩১জন বাংলাদেশি লিবিয়ার জুয়ারা এলাকা দিয়ে ট্রলারে করে ইটালি যাবার চেষ্টা করছিলেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। তবে নৌকার তলদেশে ফুটো থাকায়, প্রায় একঘণ্টা যাওয়ার পরে নৌকাটি উল্টে যায়। ৬ বছর আর ৬ মাস বয়সী দুইটি শিশু সেখানেই মারা যায় বলে মিঃ হক জানান। আরো দুইটি পরিবারের চারজন এখনো নিখোঁজ রয়েছে। তবে অন্যরা লাইফ জ্যাকেট পরে থাকায় সারা রাত ভেসে ছিল। ভোরে তাদের উদ্ধার করা হয়।একটি পরিবারের সাথে কথা হয়েছে বাংলাদেশের দূতাবাসের কর্মকর্তাদের। এদের দুইটি পরিবার সিরতে থেকে এসেছে, অন্যরা ত্রিপলিতেই বসবাস করতেন।মি. হক বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এই পরিবারগুলো লিবিয়াতে রয়েছে। সন্তানদের সবার জন্ম হয়েছে লিবিয়ায়। তবে দেশটির পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যাওয়ায় তারা সমুদ্রপথে ইটালি যাবার চেষ্টা করছিলেন।তিনি বলছেন, এর আগেও তারা খবর পেয়েছিলেন যে, এই পরিবারগুলো ইটালি যাবার চেষ্টা করছে। তাদের বারবার সতর্ক করার পরেও তারা ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্র পথে সেখানে যাবার চেষ্টা করেন। এখন পরিবারগুলোর ইচ্ছা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।যুদ্ধবিধ্বস্ত লিবিয়ায় একক কোনো সরকার না থাকায় দেশটির বিভিন্ন দালাল বিভিন্ন ধরনের ভিসা দেখিয়ে বাংলাদেশে একশ্রেণীর অবৈধ আদম ব্যবসায়ীর যোগসাজশে বাংলাদেশ থেকে লোক নিচ্ছে। এখনো লিবিয়ায় বহু বাংলাদেশী অবস্থান করছেন। লিবিয়ায় সংঘাত চলতে থাকায় বিদেশী কর্মীদের অনেকেই অবৈধ জাহাজযোগে ইতালি পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করেন।উল্লেখ্য, ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপমুখী অভিবাসনের ভয়ঙ্কর চেষ্টায় হাজারো মানুষের মৃত্যুর খবর গত দুই বছরে বহুবার সংবাদের শিরোনাম হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই সাগরে ডুবে অন্তত ২ হাজার ৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জাতিসংঘের তথ্য।জাতিসংঘ বলছে, এই সময়ে অন্তত এক লাখ অবৈধ অভিবাসী ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইটালিতে পৌঁছাতে পেরেছেন। আরও এক লাখ ৬০ হাজার মানুষ ইউরোপে ঢুকেছে গ্রিস হয়ে। গত বুধবার লিবিয়া উপকূলে দুর্ঘটনায় পড়া একটি জাহাজের খোলে ৫১ জনের লাশ পাওয়া যায়। ওই জাহাজ থেকে চারশ’র বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করে সুইডিশ কোস্টগার্ড। ওইদিনই ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার করা হয় অন্তত তিনহাজার মানুষকে। এর আগে গত শনিবার লিবিয়া উপকূল থেকে ৪ হাজার ৪০০ অবৈধ অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়।জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার মুখপাত্র মেলিসা ফ্লেমিং বলেন, জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ লোক গ্রিসে এসে উঠেছে এবং আরো এক লাখ ১০ হাজার লোক ইতালি ভিড়েছে। গত বছর ইউরোপে আগত মোট অভিবাসীর সংখ্যা ছিল দুই লাখ ১৯ হাজার।প্রসঙ্গত, চলতি বছরের এপ্রিল মাসেও ভূমধ্যসাগরে লিবিয়া ও ইতালির মাঝে মর্মান্তিক নৌকাডুবির ঘটনায় ২৫-৩০ জন বাংলাদেশীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। ঐ ঘটনায় জীবিত উদ্ধার হওয়া এক বাংলাদেশীর বরাত দিয়ে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক মহাপরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, জীবিত উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশীর দেয়া তথ্যে তারা জানতে পেরেছেন, ২৫ থেকে ৩০ জন বাংলাদেশী ওই নৌকায় ছিলেন। ওই বাংলাদেশী ছাড়া অন্য কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাদের সবাই মারা গেছেন বলে আশংকা করা হচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com