1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

শহরে ভুয়া ডাক্তার, হারবাল চিকিৎসক ও কবিরাজের জমজমাট বানিজ্য

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
  • ১০১ দেখা হয়েছে

ছৈয়দ আলম, কক্সবাজার আলো :
কক্সবাজার শহরে বিভিন্ন ভুয়া বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, হারবাল চিকিৎসক, কবিরাজের ছড়াছড়িতে সাধারন মানুষ দিশেহারা হয়ে উঠেছে। এই সব ভুয়া অভিজ্ঞতা সম্পন্ন চিকিৎসক, কবিরাজের ফাঁদে পড়ে জীবনের ঝুঁকিসহ কষ্টার্জিত অর্থের অপচয়ের শিকার হচ্ছে অসহায় জনসাধারন। ফলে সু-চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত পুরো কক্সবাজার জেলাবাসী। ড্রাগ সুপারগনের অবহেলা, অনিয়ম, দূর্নীতি এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না থাকায় শহরের মোড়ে মোড়ে হাতুরে ডাক্তাররা নিয়ম বর্হিভূত ভাবে ডাক্তার সাইন বোর্ড টানিয়ে বহাল তবিয়তে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে জমজমাট ভাবে প্রশাসনের চোখের সামনে, যেন দেখার কেউ নেই। স্বাধীনতার ৪৪ বছর পার হলেও পর্যটন জেলা কক্সবাজার জেলার টেকনাফ, উখিয়া, রামু, চকরিয়া, পেকুয়া, কক্সবাজার সদর ও শহরের বিভিন্ন জায়গায় জনসাধারনের চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়ন হয়নি বলে চলে। অপরদিকে সদর হাসপাতালের ও মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা প্রাইভেট বানিজ্য নিয়ে সবসময় ব্যস্ত থাকে। সেই কারনে ভুয়া চিকিৎসকরা যেখানে সেখানে চেম্বার খুলে বসিয়ে যায় এমবিবিএস সাইন বোর্ড দিয়ে। তাদের কাছে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সেবা নিতে আসা সহজ সরল রোগিরা শহরে আসলেই প্রতারনার শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আর এসব ভুয়া ডাক্টারের লালিল কমিশন ভিক্তিক মহিলা ও পুরুষ দালাল রয়েছে। তারা সকাল বিকাল বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে অবস্থান করে থাকে। বিশেষ হাসপাতাল রোডের মাথায় ও সদর হাসপাতালের আশপাশ এলাকায়।
এসব দালালরা অচেনা কোন মানুষ পেলে বিভিন্ন লোভনীয় ও ভাল চিকিৎসক বলে নিয়ে যায় ভুইপোড়দের কাছে। যার ফলে জীম্মি হয়ে বাধ্য করে হারবাল ও অপ্রয়োজনীয় ঔষধ দিয়ে প্রচর টাকা হাকিয়ে নেন। গ্রাম থেকে আসা সহজ সরল লোকজন উন্নত চিকিৎসা ও স্বল্পমুল্যে ভাল হওয়ার জন্য জেলা শহরে আসে। পরে শহরে আসলে হয়ত দালাল চক্র না হয় প্রাইভেট বানিজ্যকরন হাসপাতালে ডুকলেই অতিরিক্ত ভিজিটের কারনে প্রত্যান্ত এলাকার শিশু, বৃদ্ধ, যুবক, গর্ভভতি মহিলারা বিপাকে পড়ে। যার কারনে জেলা শহরে ও রেজিষ্টার্ড চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে তাদের নাম সর্বস্ব হাতুরে ডাক্তার, কবিরাজ ও ফার্মেসীর শরনাপন্ন হচ্ছে। এই সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাঙ্গের ছাতা মত গজিয়ে উঠেছে ফার্মেসী ও বিভিন্ন রোগের অভিজ্ঞতা সমপন্ন ডাক্তার, কবিরাজ ও হারবাল চিকিৎসক। আর যেখানে সেখানে রয়েছে ফার্মেসী। কক্সবাজার শহরে হারবাল, হাতুরে ডাক্তার ও কবিরাজ রয়েছে তিন শতাধিক। এদের মধ্যে কস্তুরি দাওয়াখানা, ঔষদ ঘর, হারবাল সেন্টার, মডার্ন হারবাল সেন্টার, ভুয়া দাঁতের চিকিৎসক হিসেবে শহরের পানবাজার রোডের পাশ্বে ডা: ফরিদা ইয়াছমিন নামের ৫ম শ্রেনী পাস করা এক মহিলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সীলগালা করা সত্বেও দুদিনের মাথায় সে আবার চেম্বার খুলে বসে। তথ্য সুত্রে আরো জানা গেছে, উক্ত ফরিদা ইয়াছমিন শহর থেকে এখন সুদুর হ্নীলা ষ্টেশনে গিয়ে বাহারী সাইন বোর্ড লাগিয়ে এমবিবিএস লিখে মোটাংকের ভিজিটের মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে মাইকিং করে রোগি দেখছে। এছাড়া কক্সবাজার শহরের হাসপাতালের রোডে ও লালদীঘিরপাড়ে বিভিন্ন চেম্বার খুলে সাধারন মানুষের সাথে প্রতারনা করে যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে তাদের চেম্বারে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লোক দেখানো অভিযান হলেও পরে টাকার মাধ্যমে সীলগালা করে দেয়া তালা ভেংগে আবার চেম্বার খুলে বসে।
সুত্রে আরো জানা গেছে, তারা প্রত্যান্ত গ্রামের ও শহরের মানুষের মাঝে ফাঁদ পেতে স্থায়ী ভাবে রয়েছে বহাল তবিয়তে। যারা বেশী টাকার মোনাফার লোভে বিভিন্ন রোগের অভিজ্ঞতার সাইন বোর্ড দোকানে ঝুলিয়ে ও ফার্মেসীতে নিন্ম মানের নাম সর্বস্ব কোম্পানীর উচ্চ মাত্রার এন্টিবায়োটিক ঔষধ সামান্য সর্ধি, জ্বরে, কাশিতে ফার্মেসীর কর্মচারী ও মালিকগন নিজেরাই রোগীদের দিয়ে ডাক্তারী ফলাচ্ছে ইচ্ছে মত।
জানা যায়, এমবিবিএস ছাড়া আর কারো ব্যবস্থা পত্রে কিংবা সাইন বোর্ডে ডাক্তার লিখা আইন গত কোন নিয়ম নেই। এমন কি যারা সহকারী কমিউনিটি অফিসার তারাও তাদের দেয়া ব্যবস্থা পত্রে ডাক্তার লিখতে পারে না।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জন ডা: কমর উদ্দিন জানান-ভুয়া ডাক্তার, কবিরাজ ও ড্রাগ লাইসেন্স বিহীন দোকান চিহ্নিত করে তাদের বিরোদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো: আলী হোসেন জানান- জেলার প্রতিটি শহরে ফার্মেসী, ডাক্তার আছে জনসাধারনের উপকারের জন্য কিন্তু তারা প্রকৃত ডাক্তার ও ফার্মেসীর ড্্রাগ লাইসেন্স এবং তাদের ফার্মাসিষ্টের প্রশিক্ষন আছে কি না তা তদারকী করে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com