শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা স্বর্গের উদ্দেশ্যে আকাশে ফানুসের মেলা

এম.এ আজিজ রাসেল
সিদ্ধার্থ যখন বুদ্ধিসত্ত রূপে শ্রাবন্তী নগর থেকে গৃহত্যাগ করেন। তখন অনুমাদ্ধর্শী নদী তীরে অবস্থান কালে অধিষ্ঠান করে নিজ চুলকে কর্তন করে উপরে দিকে নিক্ষেপ করেন। সে চুল গুচ্ছ মহাতাবতিংস স¦র্গের প্যাগোডা হিসেবে স্থির আছে। তাই চুলামনি নামে প্যাগোডা উদ্দেশ্যেই পূঁজা এবং প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করতে ফানুস উড়ানো হয় বলে জানা গেছে। তথাগত ভগবান বুদ্ধের আড়াই হাজার বছর পূর্বে সময়ের তাবতিংসা স্বর্গের তিন মাস বর্ষাবাস করে কার্ত্তিকী পূর্ণিমাকে ঘিরে মানবকুলের মহাপৃথিবীতে অবতরণ করেন। এই স্মৃতিকে অমলিন করে রাখতে কক্সবাজারের বৌদ্ধ সম্প্রদায় উদযাপন করছে শুভ প্রভারণা পূর্ণিমা। মঙ্গলবার (২৩ অক্টোবর) থেকে শুরু হওয়া বুধবার ছিল পবিত্র এই উৎসবের দ্বিতীয় দিন। সন্ধ্যায় শহরের জাদিরাম, বইল্যাপাড়া, পিটাকেট, থংরো ও অ¹মেধা ক্যাং সংলগ্ন কেন্দ্রীয় মাহাসিংদোগ্রী মন্দির প্রাঙ্গনে স্বর্গের উদ্দেশে উড়ানো হয় শত শত ফানুস। ওইসময় ফানুসের আলোয় আলোকিত হয় পর্যটন নগরীর নীল আকাশ। জীর্ণতা মাড়িয়ে পরিশুদ্ধ জীবন ও সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার আহবানে মন্দির প্রাঙ্গণে মিলিত হয় হিন্দু, বৌদ্ধ, খিস্ট্রান, মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মালম্বীর হাজারো মানুষ। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সাথে হাতে হাত, কাধেঁ কাধঁ মিলিয়ে আকাশে তোলা হয় একের পর এক ফানুস। এসময় রচিত হয় সম্প্রীতির দৃঢ় বন্ধন। যে বন্ধন শত চেষ্টা করেও যেন ছিন্ন করা যাবে না। মুহু মহু ফানুস উড়ানোর সময় সকলেই জঙ্গীবাদ ও মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মানে শপথ নেয়। এ উৎসবকে ঘিরে বৌদ্ধ পল্লীর প্রতিটি ঘরে বিরাজ করছে বর্ণিল উৎসবের আমেজ। ঘরে ঘরে চলছে ধর্মীয় নাচ-গান, বুদ্ধের পবিত্র জীবনালোচনা ও আতশবাজি। বিহারগুলো সেজেছে নব রূপে। যেদিকে চোখ যায় সর্বত্র আলোকসজ্জা। রামু, হারবাং, চৌফলদন্ডী, টেকনাফ, নাইক্ষ্যংছড়িসহ বিভিন্ন বিহারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পিঠা উৎসব, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, আপ্যায়ন করা হয় অতিথিদের। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ শিশু, যুবক-যুবতী, আবালবৃদ্ধা বনিতা নতুন পোশাক ও উন্নতমানের খাবার নিয়ে বিহারে গমন করেন। সেখানে সুখ ও শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করে সবাই।
বুধবার বিকালে শহরের পিটাকেট, মোহাজের পাড়া বৌদ্ধ বিহার, জাদিরাং বিহার ও কেন্দ্রীয় মাহাসিংদোগ্রী মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, রাখাইন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন গুলো ছোট ছোট নজরকাড়া ২০টি প্যান্ডেল তৈরি করেছে। এসব প্যান্ডেলের প্রধান আকর্ষণ বুদ্ধ দেবতা। গত এক সপ্তাহ ধরে ওইসব প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে। নান্দনিকভাবে সেজেছে প্রতিটি প্যান্ডেল।
শহরের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কয়েকজন ছাত্র হতাশার সাথে বলেন, একটি প্যান্ডেলে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। এসব খরচ নিজেদের থেকে বহন করতে হয়। জেলা প্রশাসন বা পৌরসভা থেকে কোন সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। তারা শুধু বিহার গুলোকে অনুদান দিচ্ছে। কিন্তু মূলত প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন করে থাকে ছাত্র-যুবকদের তৈরিকৃত প্যান্ডেলসমূহ। তারা এব্যাপারে জেলা প্রশাসক ও পৌর মেয়রের সুনজর কামনা করেছেন।
এবার মাহাসিংদোগ্রী মন্দিরে প্যান্ডেল সাজিয়েছে আরডিএফ, সিটি বয়েজ, বাংলাদেশ রাখাইন স্টুডেন্ট কাউন্সিল, ফ্রি স্টাইল রিলেশনশীপ, রাজধানী ফ্রেন্ডস সার্কেল, রাখাইন যুব ইউনিটি, হ্যাংগিং গার্ডেন, রাখাইন তরুন প্রজন্ম ঐক্য পরিষদ, কে, আর ভিক্টুরি ক্লাব, রাখাইন ইয়ুথ ইউনিটি, রাখাইন তরুণ সংঘ ও বৌদ্ধ মৈত্রি পরিষদ। বৃহস্পতিবার ২৫ অক্টোবর জাহাজ ভাসার মধ্য দিয়ে এই উৎসবের সমাপনী হবে বলে জানান কক্সবাজার সিটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ ক্যথিং অং ও রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের উপাধ্যক্ষ প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু।

উপদেষ্টা সম্পাদক : হাসানুর রশীদ
চেয়ারম্যান : মুহাম্মদ শাহজাহান

নির্বাহী সম্পাদক : ছৈয়দ আলম

যোগাযোগ : ইয়াছির ভিলা, ২য় তলা শহিদ সরণী, কক্সবাজার। মোবাইল নং : ০১৮১৯-০৩৬৪৬০

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Email:coxsbazaralo@gmail.com

© 2016 allrights reserved to Sarabela24.Com | Desing & Development BY PopularITLtd.Com, Server Manneged BY PopularServer.Com