1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
শিরোনাম :
বসতভিটা দখলে নিতে চেষ্টা: লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা “প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায় বিশ্বমানের পর্যটন নগরী হবে কক্সবাজার”: সচিব হেলালুদ্দীন ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন শহরের পূজা মন্ডপগুলোতে দর্শনার্থী ও পূজারিদের ভিড় অশুভ শক্তির বিনাশই দুর্গোৎসবের বৈশিষ্ট্য-জেলা প্রশাসক প্রেসিডেন্টস কাপে চ্যাম্পিয়ন মাহমুদউল্লাহ একাদশ ঈদগাঁওতে এবার সীমিত পরিসরে শারদীয় দূর্গাৎসব উদযাপিত সরাসরি ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে চবি’তে শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্ত সেন্টমার্টিনে আটকেপড়া চার শতাধিক পর্যটক ফিরলেন রোহিঙ্গাদের ফেরাতে গ্রিসের সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রদূত

শেষ মুহুর্তের কেনাকাটা অভিজাত বিপণি বিতান থেকে ফুটপাত তিল ধারণের ঠাঁই নেই !

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০১৫
  • ১৭ দেখা হয়েছে

এ.এম হোবাইব সজীব,চকরিয়া :
ঈদের বাকি আর মাত্র ১থেকে ২ দিন। চলছে শেষ মুহুর্তের কেনাকাটা। কক্সবাজারের চকরিয়ায় মার্কেটগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। চকরিয়ার পৌর শহরের চিরিঙ্গা অভিজাত বিপণী বিতান থেকে ফুটপাত সর্বত্রই ক্রেতার ঢল। পোশাকের সাথে গয়না আর কসমেটিক মিলাতে ব্যস্ত তরুণ প্রজম্ম। শেষ সময়ে কেনাকাটা করতে ফুটপাতে ভিড় জমাচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষরা। এ শ্রেণীর মানুষের আয় কম হলেও আনন্দের কোন কমতি নেই। গতকাল বুধবার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত মার্কেটগুলোতে। পৌর শহরের চিরিঙ্গার বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, ঈদের পোশাকসহ প্রয়োজনীয় নানা সামগ্রী কিনতে ব্যস্ত ক্রেতারা। দম ফেলানোর যেন সময় পাচ্ছেন না বিক্রেতারা।

বরাবরের মত এবারও ছেলেদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে পাঞ্জাবি। তরুণ ও প্রবীণসহ সব বয়সের পুরুষের পছন্দের তালিকায় পাঞ্জাবি আছেই। এবারের ঈদে পাঞ্জাবির ডিজাইন, রং ও কাপড়ে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে বলে জানান বিক্রেতারা। নক্ষত্র দোকানের ম্যানেজার দৈনিক মুক্তবাণীকে বলেন, গত যেকোন বছরের তুলনায় এবার পাঞ্জাবির চাহিদা বেশি। বরাবরের মত লং পাঞ্জাবিই বেশি বিক্রি হচ্ছে। নতুন নতুন ডিজাইন আসলেও দাম তেমন একটা বাড়েনি। বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় সব ফ্যাশন হাউসই পাঞ্জাবিতে এনেছে সুতি, সিল্ক, হাফসিল্ক, এন্ডি সিল্ক কাপড়ে অ্যামব্রয়ডারি, স্ক্রিন প্রিন্ট ও হাতের কাজে নতুনত্ব। তরুণদের পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে সর্বনিম্ন ৪০০ টাকায়। আর সর্বোচ্চ দাম ৫ হাজার টাকা।

নিউ সিটি সেন্টার, নিউ মার্কেট, ওয়েস্টান প্লাজা, আনোয়ার শপিং কমপ্লেক্স, চকরিয়া শপিং কমপ্লেক্স, সুপার মার্কেট, নিউ সুপার মার্কেট, চিরিংগা সমবায় মার্কেট, আবদুল মতলব শপিং সেন্টার, রূপালী শপিং কমপ্লেক্স, রওশন মার্কেট ও বাবু মিয়া বাজার হকার্স মার্কেট শপিং সহ বিভিন্ন শপিং কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা যায় এসব মার্কেটে দেশীয় পোশাকের পাশাপাশি বিদেশী আইটেমও পাওয়া যাচ্ছে। তবে এবার বিদেশি পোষাক কিরণ মালা তাক লাগিয়ে দিয়েছে তরুণীদের। শিশুদের দেশী আইটেম ৫০ টাকা থেকে সাতশ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বাচ্চাদের বিদেশী পোশাক ৫শ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে। এছাড়া বাচ্চাদের পাঞ্জাবি পাওয়া যায় ৬শ টাকা থেকে সাড়ে ১২শ টাকায়। এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন ডিজাইনের জুতা। পাওয়া যাচ্ছে ৩শ টাকা থেকে ১২শ টাকার মধ্যে। বাচ্চাদের কাপড় বিক্রেতা চিরিঙ্গা সিটি সেন্টারের কর্মচারী রহিম বলেন, এখন বিক্রি মোটামুটি ভালোই চলছে। সামনে বিক্রি আরো বাড়তে পারে। বাবুমিয়া হকার্স মাকের্টে বাচ্চার জন্য জামা কিনতে আসেন সাংবাদিক শাহাদাত আলী জিন্নাহ বলেন, মধ্যবিত্ত বেশিরভাগ পরিবার এখানেই শপিং করতে আসেন। এসব মার্কেটে তুলনামূলক কম দামে ভালো জিনিস পাওয়া যায়।

শহরের সুপার মার্কেটে কাপড়ের সবচেয়ে বড় দোকান সৌদিয়া ক্লথ ষ্টোর। দোকান মালিক মুজিবুল হক দৈনিক মুক্ত বাণীকে বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার কাপড়ের দাম একটু বেশি হলেও গুনগত মান ভাল হওয়ায় ক্রেতারা সানন্দে কিনছেন তাদের পছন্দের কাপড়। তিনি বলেন, তার দোকানে নারী ক্রেতাদের চাহিদা থাকে বরাবরেই বেশি। তিনি আরোও বলেন, দাম কম হওয়ায় আশপাশের অনেকেই এখানে শপিং করতে আসে। বড় মার্কেটের মতোই এখানে ভালো মানের পোশাক পাওয়া যায় এবং তুলনামূলক কম দামে। প্রতিদিনই বেচাবিক্রি বাড়ছে। বাণিজ্যিক এলাকা চিরিঙ্গা কয়েকটি ফুটপাতের বাজারে দেখা গেছে উপচেপড়া ভিড়। ক্রেতারা আসছেন, পছন্দমতো জামা-কাপড় কিনছেন।

চকরিয়ায় এসব মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, রমযানকে কেন্দ্র করে এসব এলাকার অধিকাংশ দোকানেই এখন এক দামে মাল বিক্রি হচ্ছে। এমনকি ফুটপাতের অনেক দোকানেও এক দামে বিক্রি হচ্ছে। সারা বছর দাম হাকিয়ে পণ্য বিক্রি করলেও এ খন এক দামের দোকান। নিজেদের ইচ্ছা মত মূল্য ট্যাগ লাগিয়ে একচেটিয়া ব্যবসা করছে তারা। প্রতিবাদ করার কেউ নেই। দোকানীর এক কথা আপনার পছন্দ হলে নেন। আর পছন্দ না হলে না নেন। দামাদামি করার কিছু নেই।

ক্রেতাদের অভিযোগ ঈদকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণীর বিক্রেতা নিজেদের ইচ্ছামত পণ্য মূল্য বসিয়ে তা বিক্রি করছে। আর এ কাজ করছে ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত সব মার্কেটের দোকানিরা। এসব দেখার কোন লোক নেই। দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী কালারমারছড়া থেকে জার্মান সম্প্রতি মাঠ কমী ইয়াসিন আরাফাত অনিক তিনি কেনাকাটা করতে এসেছেন,চকরিয়ার রওশন মার্কেটে। এই এলাকার অধিকাংশ মার্কেটগুলো পাইকারি বিক্রি করে থাকেন। এর আগে চকরিয়ার নিউ মার্কেটসহ নামিদামি সব মার্কেটের তিনি ঘুরেছেন। এ ঘুরা থেকে তার যে অভিজ্ঞাতা হয়ে তা হলে মার্কেট ভেদে পণ্যের দাম দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ পর্যন্ত হয়ে থাকে। তাই তিনি বাধ্য হয়ে এই পাইকারি মার্কেটে এসেছেন। তবে পাইকারি মার্কেট সমস্যা একটা তা হলে এক দুই পিছ তারা বিক্রি করতে চান না।

বিক্রেতারা বলছেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে কেনাকাটা। বিশ্রামের সময় নেই তাদের। সারাক্ষণই ভিড়। তবে ফুটপাতের অনেক দোকানে একদামে পোশাক বিক্রি হয়। সেখানে সারাদিনই পোশাকের দাম জানিয়ে হাঁকডাক দিতে ব্যস্ত বিক্রেতারা। এসব দোকানে গেলে একদাম দুই শ’ ‘বাইচ্ছা লন দুই শ ‘যেটা নিবেন দুই শ’ এ ধরনের হাঁকডাক শোনা যায়। এসব মার্কেটে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় শার্ট ও শার্টের কাপড় পাওয়া যায়। মেয়েদের থ্রি-পিস পাওয়া যায় ২৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে। এ ছাড়া ১৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায় বাচ্চাদের বিভিন্ন ডিজাইনের জামা। অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, নামিদামি মার্কেটগুলোতে সবসময়ই ধনীদের ভিড় থাকে। বিক্রেতারাও ইচ্ছামতো দাম নিতে পারেন ক্রেতাদের কাছ থেকে। এসব মার্কেটের পণ্য নিম্ন আয়ের মানুষদের নাগালের বাইরে। বাবু মিয়া হকার্স মাকের্ট এলাকায় ফুটপাতের ব্যবসায়ী মো. রহিম বলেন, রোজার মাঝামাঝি সময় থেকে ক্রেতাদের ঢল নেমেছে। তবে গত বছরের তুলনায় অনেকটাই কম। কারণ এখানে মার্কেটের নতুন ভনণ নিমার্ণ কাজ চলায় দোকান পাট অনেক কমে গেছে। অন্যদিকে স্বল্প দামে ভালো পোশাক বিক্রি হওয়ায় ক্রেতারা দূর-দূরান্ত থেকে এখানে আসছেন। কথা হয় এখানকার এক ক্রেতা করিমের সঙ্গে। আমাদের মতো স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্য এটাই ভালো মার্কেট। দাম অনুযায়ী জিনিসপত্রও বেশ ভালো। তাই পরিবারের সদস্যদের জন্য এখান থেকেই ঈদের কেনাকাটা সারলাম।

জানা গেছে, চকরিয়ায় সদ্য শুরু হওয়া ঈদের কেনাকাটা, ঈদ বাজার ও আসন্ন ঈদ উপলক্ষ্যে মৌসমুী অপরাধীদের প্রতিরোধে কক্সবাজার জেলা পুলিশের অংশ হিসেবে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন কক্সবাজার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল-চকরিয়া) মোঃ মাসুদ আলম ও চকরিয়া থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্রধর। এজন্য চকরিয়া পৌর শহরের বিপনী বিতানের প্রধান সড়কে পুলিশ অতিরিক্ত নিরাপত্তা বলয় নিয়োগ করেছে। কক্সবাজার দৈনিক মুক্তবাণীকে কোন অপরাধ ও অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল-চকরিয়া) মোঃ মাসুদ আলম। চকরিয়া থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্রধর বলেন, দুটি অভিযান টিমের নজরদারির কারনে শহরের বিপনী বিতান গুলোতে নির্বিগ্নে চলছে কেনাকাটা। ঈদের দিন ভোররাত পর্যন্ত পুলিশের এই সেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য। তিনি আইনশৃংখলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টিনীর রয়েছে বলে জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com