1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

শোক দিবসের নামে সারাদেশে তুমুল চাঁদাবাজি

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০১৫
  • ৭৬ দেখা হয়েছে

জাতীয় শোক দিবসকে (১৫ আগস্ট) সামনে রেখে রাজধানীসহ সারা দেশে চলছে নীরব চাঁদাবাজি। দিবসটির বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম এবং সমমনা সংগঠনগুলোর কোনো কোনো নেতাকর্মী সরাসরি অথবা তাদের পক্ষ থেকে চাঁদা আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও দলটির হাইকমান্ড এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়ে বলেছে, শোক দিবসের কোনো অনুষ্ঠানের জন্য চাঁদা বা অনুদান নেয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিজস্ব অর্থায়নে এসব অনুষ্ঠান করতে দলের সব স্তরের নেতাকর্মীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু দলের এ নির্দেশ অমান্য করে নানা কৌশলে চাঁদাবাজি হচ্ছে বলে যুগান্তরের নিজস্ব অনুসন্ধানে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বড় ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন মার্কেটসহ ক্ষুদে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও দাবি করা হচ্ছে চাঁদার টাকা। এমনকি থানার প্রধানদের (ওসি) কাছ থেকেও চাওয়া হচ্ছে চাঁদা। জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করতে রাজধানীর অন্তত তিনটি থানার ওসির কাছে চাঁদা হিসেবে দাবি করা হয়েছে চারটি গরু। লালবাগ, মতিঝিল ও মিরপুর বিভাগে কর্মরত তিনটি থানার ওসির কাছে চাঁদা হিসেবে এ গরু দেয়ার জন্য বলা হয়েছে, অভিযোগ ওসিদের। এর মধ্যে লালবাগ বিভাগের এক ওসির কাছে চাওয়া হয়েছে দুটি গরু। তবে এ বিষয়ে তারা কোনো অভিযোগ করেননি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। এমনকি ওইসব ওসি নামও প্রকাশ করতে রাজি হননি। তারা বলেছেন, এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে হলে ক্ষমতাসীন দলের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে হবে, এটাই স্বাভাবিক। আর এটি না করলে চাকরিতে নানা সমস্যা অথবা বদলি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বলে আশংকা তাদের।

এছাড়া ১৫ আগস্টকে সামনে রেখে চাঁদাবাজির ভয়ে অনেক ব্যবসায়ী কয়েকদিন ধরে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ রেখেছেন। এদের অনেকে নানা প্রয়োজনের দোহাই দিয়ে এলাকা থেকে দূরে রয়েছেন। ১৫ আগস্ট শোক দিবস পার হলেই এলাকায় ফিরবেন- এমন তথ্যও জানিয়েছেন ওই ব্যবসায়ীরা। দেশের প্রবীণ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নানা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সময়ে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন এমন ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ বলেছেন, রাজনৈতিক সংগঠনগুলো বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে চাঁদাবাজি করে থাকে, এটি নতুন কিছু নয়। তবে এ বছর দিবসটিকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন দলের কোনো কোনো স্থানীয় নেতা অনেক ব্যবসায়ীকে চাঁদার অর্থ ধার্য করে দিচ্ছেন। এটি তাদের ওপর জুলুম বলে মন্তব্য করেন তারা।

ক্ষমতাসীন দলের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এমন আশংকার কথা ভেবে বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের এক যৌথ সভায়ও শোক দিবসকে ঘিরে চাঁদাবাজির ব্যাপারে হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। ওই সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, শোক দিবস নিয়ে গণচাঁদাবাজির কোনো অভিযোগ শুনতে চাই না। ১৫ আগস্টকে ঘিরে চাঁদাবাজির নামে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্র জানায়, রীতি অনুযায়ী প্রতিবছর দেশব্যাপী আওয়ামী লীগের সব ইউনিট স্ব-স্ব উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস পালন করে থাকে। এদিন সাধারণত কাঙালি ভোজই সীমাবদ্ধ থাকে মূল আয়োজন। এমপিরাও স্ব-স্ব নির্বাচনী আসনে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে শোক দিবস পালন করেন। এবারও একইভাবে দিবসটি উদযাপন করবে দলের নেতা বিভিন্ন ইউনিট।

এ প্রসঙ্গে জানাতে চাইলে, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ শনিবার টেলিফোনে যুগান্তরের কছে দলের সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যে বৈঠকে সৈয়দ আশরাফ শোক দিবস উদযাপন সংক্রান্ত নির্দেশ দিয়েছেন, সেখানে মূল দলের পাশাপাশি সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারাও ছিলেন। তারা তো ওখান থেকেই নির্দেশিত। আর এ নির্দেশ দলের সর্বস্তরে জানানো হয়েছে। মূল দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা এ নিয়ে যথেষ্ট সতর্ক এবং সচেষ্ট। তবে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নামে অসংখ্য ছোট ছোট সংগঠন আগাছার মতো গড়ে উঠেছে। এদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবার্ষিকী জাতীয় শোক দিবসকে কেন্দ্র করে চাঁদা বা অনুদান কোনোটাই নেয়া হবে না। কাজেই সবাই যেন নিজেদের অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায় শোক দিবস পালন করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় একটি সূত্র জানায়, রাজনীতিতে চাঁদা বৈধ। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন যদি দলগুলোর আহ্বানে সাড়া দিয়ে স্বেচ্ছায় অনুদান দেন তা গ্রহণ করা হয়। সে রকম চাঁদা বা অনুদান নেয়ার ক্ষেত্রে দলের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তিও নেই। কিন্তু শোক দিবস উপলক্ষে চাঁদাবাজির নামে ব্যবসা করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের এ সংক্রান্ত নির্দেশনা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, যদি চাপ দিয়ে বা ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা নেয়ার প্রমাণসাপেক্ষ অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ যুগান্তরকে বলেন, শোক দিবস পালনের জন্য দলের কোনো তহবিল নেই। এ জন্য দলের নেতা, মন্ত্রী বা এমপি কারও কাছ থেকে অনুদানও নেয়া হয় না। তবে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা নিজেদের উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনায় তাদের ইউনিটে শোক দিবসের কর্মসূচি আয়োজন করে থাকে।

তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, জাতীয় শোক দিবসকে সামনে রেখে নীরব চাঁদাবাজি চলছে। পুরনো ঢাকার ইসলামপুরে পাইকারি কাপড় ব্যবসায়ী সিরাজ মোল্লা যুগান্তরকে জানিয়েছেন, ১৫ আগস্টকে সামনে রেখে স্থানীয় যুবলীগের এক নেতা তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছেন। সিরাজ মোল্লা জানান, এমনিতে দীর্ঘদিন ধরে তার ব্যবসায় মন্দা চলছে। ব্যবসা করে তিনি খরচ উঠাতে পারছেন না। ১০ হাজার টাকার বেশি তিনি দিতে পারবেন না বলে যুবলীগের ওই নেতাকে জানিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু যুবলীগের ওই নেতা কিছুতেই মানছেন না, উল্টো টাকা নেবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। এ ঘটনা নিয়ে তিনি মানষিক চাপে আছেন বলে যুগান্তরকে জানিয়েছেন।

একই এলাকার আরেক ব্যবসায়ী মোফাজ্জল হোসেন যুগান্তরকে জানান, তিনি নিজে আওয়ামী লীগের একজন সমর্থক। এর আগেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাধ্যমতো টাকা দিয়েছেন। কিন্তু এ বছর শোক দিবসের অনুষ্ঠানে তার কাছেও চাঁদা বাবদ ৫০ হাজার টাকা ধার্য করে দেয়া হয়েছে। ব্যবসায়ী মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘আমি নিজেও একজন আওয়ামী লীগ সমর্থক। সাধ্যমতো আমি আমার দলকে সাহায্য করব, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দল থেকে চাঁদা ধার্য করে দেয়া হবে এটা কোনোভাবে মেনে নেয়া যায় না।’

শোক দিবসের অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে বাড্ডার হোসেন মার্কেটের ওষুধ ব্যবসায়ী শফিকুর রহমানকেও ধার্য করা হয়েছে ১০ হাজার টাকা। গত বৃহস্পতিবার থানা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে এক নেতা এসে ওই টাকা দেয়ার জন্য তাকে বলে গেছেন। শনিবার শফিকুর রহমান টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি সরাসরি কোনো দল করি না। কোনোদিন দলের কোনো অনুষ্ঠানে চাঁদাও দেইনি। এ বছর কেন আমাকে চাঁদা ধার্য করা হল সে বিষয়টি বুঝতে পারছি না। তার ভাষায়, একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে এত টাকা দেয়ার ক্ষমতা তার নেই বলেও তিনি জানান।

শোক দিবসকে সামনে রেখে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায়। গাউছিয়া, চাঁদনীচক ও নিউমার্কেটের বড় বড় কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছে টেলিফোনে চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঢাকা কলেজকেন্দ্রিক ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার নামে এসব চাঁদা দাবি করা হয়েছে। গাউছিয়া মার্কেটের ব্যবসায়ী আমির মোহাম্মদ টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেছেন, চাঁদা দাবি করে তাদের মার্কেটের অন্তত ২০ ব্যবসায়ীকে টেলিফোন করা হয়েছে। এ চাঁদার পরিমাণ ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী আমির মোহাম্মদ। চাঁদনীচক মার্কেটের স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুব্রত হালদার যুগান্তরকে বলেছেন, শোক দিবসের অনুষ্ঠানের কথা বলে তার কাছেও ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের দু’জন নেতার নামে ওই টাকা দাবি করা হয় বলে তিনি জানান। চাঁদনীচক মার্কেটের আরও বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা চেয়ে টেলিফোন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

রাজশাহী ব্যুরো জানিয়েছে, জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে চাঁদা দেয়ার ভয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন একজন ব্যবসায়ী। চাঁদাবাজদের অত্যাচারে তার মোবাইল নম্বরটিও পরিবর্তন করেছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠে বড় ওই চালকলের মালিক চাঁদা দেয়ার ভয়ে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থান করবেন বলেও যুগান্তরকে জানিয়েছেন।

কারণ জানতে চাইলে দেশের বিশিষ্ট ওই চাল ব্যবসায়ী যুগান্তরকে জানান, ‘১৫ আগস্ট পালন উপলক্ষে আমরা ব্যবসায়ীরা এমনিতেই কন্ট্রিবিউট করি। কিন্তু এবার এত বেশি সংগঠনের পক্ষ থেকে চাঁদার চাহিদা দেয়া হয়েছে, যা সম্ভব নয়। এ কারণে তিনি বিকল্প মোবাইল নম্বর ব্যবহার করছেন বলে জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত কয়েক বছর ধরে সরকারি আয়োজনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবার্ষিকী ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়। দলীয়ভাবে খুবই দায়সারাভাবে হয় জাতীয় জীবনের শোকাবহ এই দিনটি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের কয়েকজন ছোট-বড় ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করে জানান, এ উপলক্ষে সরকারি আয়োজকদেরও চাঁদা দিতে হয়। দলীয় আয়োজকদেরও চাঁদা দিতে হচ্ছে। শহর আওয়ামী লীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করে বলেন, খুবই দুঃখজনক যে, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস কিন্তু শোকের কোনো আবহ নেই চাঁপাইনবাবগঞ্জে। জেলা কমিটির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে শোক দিবসের আবহ কীভাবে নেতাকর্মীসহ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে তার কোনো চেষ্টা নেই কিন্তু চাঁদা তোলার তোড়জোড় আছে। কার কাছ থেকে কাঙালিভোজের খাসি আর গরু নেয়া হবে তার হিসাব চলছে।

এদিকে রাজশাহীতেও শোক দিবস উপলক্ষে ক্ষমতাসীন দলের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। তবে কর্মসূচি পালন শুরু হয়নি এখনও। এই জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কোথাও ৪০ দিন, কোথাও মাসব্যাপী, আবার কোথাও সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি পালন শুরু হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে শোক দিবসের যে কর্মসূচি পালিত হচ্ছে তার খরচ কারা দিচ্ছে জানতে চাইলে চারঘাট পৌর আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, টাকা কোথা থেকে আসছে সেটা নেতাকর্মীরা জানেন না।

এই নেতা জানান, কর্মী পর্যায়ে কোনো চাঁদা তোলা হচ্ছে না। গোদাগাড়ীতে শোক দিবসের অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবসায়ী ছাড়াও সরকারি বিভিন্ন অফিস থেকেও চাঁদা তোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। জেলার বাগমারা ও পুঠিয়াতেও শোক দিবস উপলক্ষে চাঁদা তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগেও কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কীভাবে অনুষ্ঠানের খরচ মেটানো হবে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা নিজেদের পকেট থেকেই খরচ করছি। যাদের সামর্থ্য আছে তারা বেশি করে দিচ্ছেন। আমরা চাঁদা নেব না বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছি। উপজেলা পর্যায়ে কেউ যাতে চাঁদা তুলতে না পারে সেজন্যও নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

নাটোর জেলাতেও শোক দিবসের অনুষ্ঠানের জন্য বিশেষ করে উপজেলাগুলোর কয়েকটিতে চাঁদা তোলা হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা ব্যবসায়ী, ঠিকাদার ও বিভিন্ন সরকারি অফিস থেকে চাঁদা তুলছেন। উল্লেখ্য, নাটোর জেলার উপজেলাগুলোতে ৪০ দিনব্যাপী শোক কর্মসূচি শুরু হয়েছে ১ আগস্ট থেকে। তবে জেলা আওয়ামী লীগের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করে বলেন, নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এখনও শোক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। প্রতি বছর গরু-খাসি জবাই করে কাঙালিভোজ করা হয়। এবারও হবে। এতে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা খরচ হয়। এই টাকা চাঁদা তুলেই মেটানো হবে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে নওগাঁ জেলাতেও শোক দিবসের সরকারি কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও দলীয়ভাবে এখনও হয়নি। তবে বিভিন্ন উপজেলাতে শোক পালন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। নওগাঁর একজন পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, উপজেলাগুলোতে বিভিন্ন সরকারি অফিস এমনকি থানা থেকেও চাঁদা নেয়া হচ্ছে। আর জেলার নেতারাও চাঁদা নিয়েই কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

বরিশাল ব্যুরো জানায়, ১৫ আগস্ট শোক দিবস পালন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতারা নীরব চাঁদাবাজি চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সময়-সময় এসব চাঁদাবাজির কিছু ঘটনা প্রকাশ্যে চলে এলেও কেউ মুখ খুলছেন না। বিশেষ করে চাঁদার দাবিদার ও যিনি চাঁদা দিচ্ছেন তারা উভয়েই এ সম্পর্কে কিছুই প্রকাশ করছেন না। তাছাড়া শোক দিবস পালনে এখনও বেশকিছু দিন বাকি থাকায় চাঁদাবাজিতে তোড়জোড় শুরু হয়নি। শোক দিবস পালন উপলক্ষে নগরীর বেশিরভাগ স্থানেই চলছে মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা ও কাঙালিভোজের আয়োজন। এ ছাড়া ব্যানার, বিলবোর্ড, পোস্টার টানানোর কাজও চলছে বিভিন্ন স্থানে। এসব কর্মকাণ্ডের খরচ উঠাতে ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের বর্তমান ও সাবেক নেতার অনুসারীরা চাঁদা উঠাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের অনুসারীরা নগরীর চকবাজার ও সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাদের তর্কবিতর্কও হয়। একপর্যায়ে চকবাজার এলাকার স্থানীয় কাউন্সিলর হারুন-অর-রশিদ ও চৌমাথা বাজার এলাকার স্থানীয় কাউন্সিলর রেজভী চৌধুরী বিষয়টির নিষ্পত্তি করেন। নাজিরের পুল ও কাউনিয়া সড়কে শোক দিবস উপলক্ষে চলছে কর্মসূচির আয়োজন। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তারেক বিন ইসলাম ও বরিশাল ল’ কলেজের সাবেক ভিপি রফিকুল ইসলাম এ কর্মসূচির আয়োজন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, কর্মসূচির খরচ জোগাতে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা উত্তোলন করেছেন ওই নেতাদের অনুসারীরা। বিএম কলেজের ছাত্রাবাসগুলোতেও প্রতিবছর চাঁদাবাজি করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহাত্মা অশ্বিনী কুমার ডিগ্রি হোস্টেলের শিক্ষার্থীরা জানান, গত বছর শোক দিবস উপলক্ষে তাদের কাছ থেকে বাকসুর ভিপি মঈন তুষারের অনুসারীরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চাঁদা উত্তোলন করেছিলেন। তবে এ বছর এখন পর্যন্ত চাঁদা নিতে কেউ আসেননি।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, শোক দিবস পালনের নামে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানেও নীরব চাঁদাবাজি চলছে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের কাছে সালাম পৌঁছে দিয়ে নেতাকর্মী ও ক্যাডাররা এ চাঁদা আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিংবা ভয়ে চাঁদা দিলেও কেউই তাদের নাম প্রকাশ করতে চাইছেন না। যদিও সংগঠনের পক্ষ থেকে চাঁদবাজির বিষয়টি স্বীকার করা হচ্ছে না। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ এবার ১৫ আগস্ট পালনে মাসব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এসব আয়োজনের টাকার ফান্ড বা তহবিল আনতে গিয়েই নগরীর বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও বিত্তশালীদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে চাঁদা। চট্টগ্রামের পাইকারি ব্যবসা কেন্দ্র খাতুনগঞ্জের একাধিক ব্যবসায়ী স্বীকার করেছেন, ১৫ আগস্ট পালনে তাদের কাছ থেকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে চাঁদা নেয়ার কথা। নগরীর শেরশাহ, বায়েজিদ বোস্তামী, লালখান বাজার, আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নামেও ১৫ আগস্ট পালনের কথা বলে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। ৫০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে লাখ টাকা চাঁদারও আবদার করা হচ্ছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন।

তবে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী চাঁদা আদায় বা চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে শুক্রবার বিকালে যুগান্তরকে বলেছেন, চাঁদাবাজির কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এবার অন্যবারের চেয়ে বৃহৎ পরিসরে মাসব্যাপী শোক দিবসের কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। টুঙ্গিপাড়ায় ৩০ হাজার ও চট্টগ্রামে অন্তত ১০ হাজার লোকের মেজবানের আয়োজনের বিশাল ফান্ড কোত্থেকে আসছে- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনের প্রত্যেকের এককভাবেই এ ধরনের আয়োজন সম্পন্ন করার ক্ষমতা আছে। কারও কাছ থেকে কোনো চাঁদা আদায় করা হচ্ছে না। নেতাকর্মী ও শুভাকাক্সক্ষীদের টাকাতেই শোক দিবস পালনের ফান্ড গঠন করা হচ্ছে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের নামেও বিভিন্ন স্থান থেকে শোক দিবস পালনের অজুহাতে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু যুগান্তরকে বলেন, আমার কানেও এসেছে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে শোক দিবস পালনের নামে ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে কেউ কেউ চাঁদাবাজি করছে। কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই এ ব্যাপারে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে তিনি বলেন, সংগঠন থেকে স্পষ্ট বলা আছে- শোক দিবসের নামে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি করা যাবে না। ১২ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশের মাধ্যমে নগর ছাত্রলীগ শোক দিবসের কর্মসূচি শুরু করবে বলে তিনি জানান।

জাতীয় শোক দিবসকে সামনে রেখে যশোর শহরের পাড়া- মহল্লায় চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিনব কৌশলে মেস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘দাওয়াত’ চিঠি রেখে আসছেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, তরুণ লীগ, সৈনিক লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। চিঠি রেখে আসার ক’দিন পরে গিয়ে আদায় করছেন চাঁদা। ভয়ে মুখ খুলছেন না ভুক্তভোগীরা। এলাকার সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিতরা চাঁদাবাজির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এলাকায় থাকতে হলে চাঁদা দিতে হবে নইলে হয়রানির সীমা থাকবে না। হামলা, মামলা ও নির্যাতনের ভয়ে মানুষ চাঁদা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

উৎসঃ   যুগান্তর

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com