1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট পাওয়া যায় নীলক্ষেতে!

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০১৫
  • ৩১ দেখা হয়েছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদপত্র, নম্বরপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ব্যাংক সার্টিফিকেটসহ সবই পাওয়া যায় রাজধানীর নীলক্ষেতে। একাডেমিক কোন যোগ্যতা না থাকলেও টাকার বিনিময়ে এখান থেকে জাল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করছে শত শত মানুষ। জাল সার্টিফিকেট সিন্ডিকেট চক্রের দৌরাত্ম্য শুধু নীলক্ষেতেই সীমাবদ্ধ নেই, এখন সারা ঢাকা শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। দিনের চেয়ে রাতে বেশি চলছে এ অবৈধ কর্মকা-। বিভিন্ন কৌশল আর প্রযুক্তি ব্যবহার করে অসাধু চক্র গভীর রাতে এ কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছে। এসব অনৈতিক কর্মকা-ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর এম এ আমজাদ আলী। তিনি বলেন, এই ধরনের কাজের সাথে যারা জড়িত তাদের ধরার জন্য সঠিক প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না। সঠিক প্রমাণ পেলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা সার্টিফিকেট তৈরীর কাগজ টাকার বিনিময়ে বিক্রয় করে। এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নীলক্ষেতের বাকুশাহ মার্কেটের মধ্যে একটা ফাইল হাতে করে ঘুরতে গিয়ে যা দেখা যায় তা কল্পনাকেও হার মানায়। সার্টিফিকেটের ক্রেতা সেজে ওই মার্কেটের মধ্যে প্রবেশের পর চারিদিক থেকে বলতে শুরু করে সার্টিফিকেট লাগবে, কম টাকায় মূল সার্টিফিকেট পাওয়া যাবে। একাধিক দোকানির সঙ্গে কথা বলে যা জানা যায় তা বিস্ময়কর তথ্য। প্রথমে কথা হয় সাগর কম্পিউটার সিস্টেম দোকানের এক কর্মচারীর সাথে, এসএসসি ও এইচএসসির সার্টিফিকেট পাওয়া যাবে কি-না জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, কবে প্রয়োজন? আজই প্রয়োজন। এর উত্তরে তিনি বলেন, ‘আজ লাগলে দুইটার জন্য ৩ হাজার টাকা লাগবে। আগামীকাল নিলে ২ হাজার টাকা। এই দ্ইুটার সাথে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের টা যদি দেন তাহলে কত টাকা দিতে হবে? উত্তরে তিনি বলেন, ৫ হাজার টাকা। এরপর দরকষাকষির একপর্যায়ে তিনি বলেন, ভাই নেয়ার সময় দেখা যাবে। এরপর কথা হয় মায়ের দোয়া উদয়ন প্রির্ন্টাস দোকানের একজনের বিক্রেতার সঙ্গে। কিছু বলার আগেই তিনি বলেন, ‘ভাই কিছু লাগবে’। আমার একটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স সার্টিফিকেট প্রয়োজন এটা বলার সঙ্গে সঙ্গে ওই দোকানের বিক্রেতা বলেন, সার্টিফিকেট ও মার্কশিট দুইটার জন্য ৭ হাজার টাকা লাগবে। এত টাকা তো অন্য কোন দোকানে দিচ্ছে না। এই উত্তরে তিনি বলেন, অন্য সবার তো নরমাল কাগজ। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের মাধ্যমে ওখান থেকে টাকার বিনিময়ে আসল সার্টিফিকেটের কাগজ দেব। ৪ হাজার টাকার কমে হবে না। একইভাবে নীলক্ষেত এলাকার বাকুশাহ মার্কেটের একাধিক দোকানে ক্রেতা সেজে এ ধরনের জাল সনদ বিক্রির অসংখ্য প্রমাণ পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী চক্র নীলক্ষেতের বাকুশাহ মার্কেট, গাউসুল আজম মার্কেটে অবৈধভাবে জাল সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের নথিপত্র তৈরির কাজ করে আসছে। তবে এই অবৈধ কর্মকা-ের বিষয়টি প্রশাসনসহ অনেকেই জানলেও চক্রটি থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের হুবহু সার্টিফিকেট তৈরি করে ওই চক্রটি, দেখে কোনভাবে বোঝা যাবে না এটা নকল সার্টিফিকেট। এসব অবৈধ কর্মকা- দিনের চেয়ে রাতেই বেশি করা হয়। দিনে নেয়া হয় কাজের অর্ডার। আর রাত ৮টায় মার্কেট বন্ধ হওয়ার পর অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে চলে এ রমরমা ব্যবসা। ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা সার্টিফিকেটে নাম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা বসিয়ে দেয়া হয়। দেখতে হুবহু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেটের মতোই। তফাত শুধু একটাই ওই সার্টিফিকেটটির বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ, হল অফিস ও প্রশাসনিক ভবনে রেকর্ড নেই। কারা এই জাল সার্টিফিকেটের ক্রেতা : এসএসসি পরীক্ষা শেষ করে রাসেল (ছদ্মনাম) ঢাকায় এসেছেন চাকরির খোঁজে। বর্তমানে চাকরির ইন্টারভিউয়ের জন্য বিভিন্ন জায়গায় বায়োডাটা জমা দিচ্ছেন তিনি। তবে বেশিরভাগ চাকরিতে এসএসসি পাস এই জন্য চাকরি হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে চাকরি পেতে অর্নাসের একটা সার্টিফিকেট খুবই প্রয়োজন রাসেলের। পরে এক বন্ধুর কাছে জানতে পেরে তিনি দৌড়ান ঢাকার নীলক্ষেত এলাকায়। নীলক্ষেত এলাকার বাকুশাহ সুপার মার্কেট থেকে মাত্র ১ হাজার টাকার বিনিময়ে তিনি সংগ্রহ করেন তার জাল অনার্সের সার্টিফিকেট। অনুরূপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র (ছদ্মনাম) সজীব অনার্স পরীক্ষা শেষ হলেও এখনো ফল প্রকাশ হয়নি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিয়োগ বিজ্ঞাপন দিলেও কোনোটাতেই আবেদন করতে পারছিলেন না। অতঃপর এক বন্ধুর পরামর্শে অনার্স পরীক্ষার একটি সার্টিফিকেটের মডেল নিয়ে হাজির হন নীলক্ষেতের বাকুশাহ মার্কেটে। ওখান থেকে তিনি একটা অনার্সের সার্টিফিকেট তৈরী করেন।যেভাবে তৈরি করা হয় সার্টিফিকেট : জাল সার্টিফিকেট থেকে শুরু করে যে কোনো ধরনের আইডি কার্ড তৈরিতে কম্পিউটার দোকানগুলো বিশেষ কিছু পন্থা অবলম্বন করে। বিশেষ করে ফটোশপের মাধ্যমে কম্পিউটার অপারেটররা দক্ষতার সঙ্গে কাজগুলো করে থাকেন। তাদের প্রত্যেকের কম্পিউটারে বেশকিছু সার্টিফিকেট ও কার্ডের মডেল রয়েছে। গ্রাহকের চাহিদামতো তারা এসব মডেল দিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ করেন। তাদের রয়েছে স্ক্যানার মেশিন, যা দিয়ে তারা প্রথমে একটি মূল সার্টিফিকেট স্ক্যান করেন। এরপর এ মডেলের ওপর নাম, রোলসহ সব তথ্য পরিবর্তন করে তৈরি করেন আসল সার্টিফিকেটের আদলে একটি জাল সার্টিফিকেট। পরবর্তী সময়ে এটি সার্টিফিকেটে ব্যবহৃত কাগজের মতো এক ধরনের কাগজে প্রেসে নিয়ে ছাপানো হয়। তাদের সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু ছাপাখানার যোগাযোগ রয়েছে। সেখানেই তারা এগুলো ছাপিয়ে থাকেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভিসি বলেন, ‘কোন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ ধরনের জালিয়াতি বন্ধ করা সম্ভব নয়। নীলক্ষেতে সার্টিফিকেট জালিয়াতির বিষয়টি আমরা শুনেছি। অনেক আগে থেকেই পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।’ উৎসঃ   ইনকিলাব

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com