1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

সম্প্রীতির নামাজে জানাযা

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৫
  • ৩১ দেখা হয়েছে

মুহাম্মদ শামসুল হক শারেক :
কবির কথায় ‘জন্মিলে মরিতে হবে রাখিও স্মরণ, সঙ্গে কবু যাইবে না আত্মীয় স্বজন’-এটি মহান আল্লাহ তায়ালার অলঙ্ঘনীয় নিয়ম। ‘যার মৃত্যু আল্লাহ যতক্ষণে ঠিক করেছেন এর আগে পিছে হবে না’-আলকুরআন। এই নিয়মেই ২১ ডিসেম্বর ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ ইন্তেকাল করেছেন উখিয়া-টেকনাফের ৪ বারের সাবেক এমপি, বর্তমান কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরীর স্ত্রী শাহীন জাহান চৌধূরী। কিডনীর সমস্যাজনিত কারণে ৫৮ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেছেন।
জনাব শাহজাহান চৌধুরীর সাথে তাঁর প্রায় চার দশকের গৌরবময় সংসার, ছেলে-মেয়ে আত্মীয় স্বজন সব পিছনে রেখে তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশ পরপারে। একইভাবে আমাদের সবাইকেও চলে যেতে হবে একদিন। আর সেই দিনক্ষণ আমাদের কারো জানানেই। তাই আগেভাগেই দরকার যেই জগতে আমরা যাব সেখানকার কিছু পাথেয় জোগাড় করা। তবে সেখানে কঠিন পরীক্ষায় পাশ করতে হলে কি লাগবে আল্লাহ তায়লা বলেদিয়েছেন ‘ইল্লা মান আতাল্লাহা বিক্বালবিন ছলিম’-হ্যাঁ যারা প্রশান্ত আত্মার অধিকারী তারাই সেখানে পার পেয়ে যাবে, আল্লাহ তায়লার নৈকট্য লাভ করবে। তাদেরকে আল্লাহ তায়ালা ডেকে বলবেন ‘হে প্রশান্ত আত্মার (আমার বিধি নিষেধ মেনে যারা পৃথিবীতে সন্তুষ্ট ছিলে) অধিকারীরা এসো আমার নিকটতম বান্দাদের অন্তরভূক্ত হউ, অতঃপর জান্নাতে প্রবেশ কর’। একজন মৃত ব্যক্তির জানাযায় গিয়ে ৩টি কাজ করা যায়। প্রথম-যার নামাজে জানাযায় গেলাম তাকে সম্মানের সহিত দুনিয়া থেকে বিদায় জানানো। কফিন কবরে রাখার সময় আমরা বলি ‘বিসমিল্লাহি ওয়ালা মিল্লাতে রাসুলিল্লাহ’ আল্লাহর নামে তোমাকে রসুল সঃ এর দলভূক্ত করে ছেড়ে দিলাম। আরো বলি ‘মিনহা খালাক নাকুম, অফিহা নুঈদুকুম, অমিনহা নুখরিজুকুম তারাতান উখরা’-তোমাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে, আবার মাটিতে রেখে দেয়া হচ্ছে, আবার এই মাটি থেকেই তোমাকে উত্থিত করা হবে। দ্বিতীয়-আমরা প্রশান্ত আত্মার অধিকারী হতে পারলাম কিনা সেই উপলদ্ধি অর্জন করা বা তা ভেবে দেখে সবক হাসিল করা। তৃতীয়-মৃত ব্যক্তির পরিবার পরিজন ও আত্মীয় স্বজনদের প্রতি সহমর্মিতা ও সহানুভূতি প্রকাশ, সমবেদনা জানানো বা শোক প্রকাশ করা। Janazaআত্মীয়তা এবং দেশের চলমান পরিস্থিতি সামনে রেখে একজন সংবাদ কর্মী হিসেবে নামাজে জানাযায় একটু আগেভাগেই হাজির ছিলাম। শাহজাহান চৌধূরীর পিতা মাতার নামে ‘আবুল কাসেম-নূর জাহান চৌধুরী’ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সকাল ১১টায় ছিল নামাজে জানাযা। দেখা গেছে সাড়ে ১০ টার মধ্যেই বিশাল মাঠ কানায় কানায় ভর্তি হয়ে যায় শোকার্ত হাজার হাজার মানুষে। আরো দেখা গেছে শাহজাহান চৌধুরীদের পরিবারের ভক্ত-অনুরক্ত ছাড়াও জানাযায় অংশ গ্রহণ করেছেন বিভিন্ন দল-মত ও শ্রেণী-পেশার মানুষ। তাঁর বাসার আশপাশে ভিড় করতে দেখাগেছে বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও শত শত শ্রমজীবী নারী-পুরুষকে। যারা শাহীন চৌধুরীকে একনজর দেখতে বা সমবেদনা জানাতে এসেছিল।
কক্সবাজার-রামুর সাবেক এমপি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা লুৎফুর রহমান কাজল, কক্সবাজার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান জেলা জামায়াত সেক্রেটারী জিএম রহিমুল্লাহ ছাড়াও ২০ দলের নেতা-কর্মী এবং সরকার দলের অনেক নেতা-কর্মীকে দেখা গেছে জানাযায়। শোকার্ত মানুষের সাথে জানাযায় অংশ গ্রহণ করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. একে আহমদ হোছাইন, উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা আদিল চৌধুরী, আবুল মনছুর চৌধুরী, টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ইউনুচ বাঙ্গালীসহ সরকার দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী। সন্দেহ নেই এটি অনেক বড় মনের পরিচয়। আমাদের সমাজের সব ক্ষেত্রে যদি সহনশীল এবং সহমর্মিতার এই পরিবেশ থাকতো আমাদের সমাজে কি মারামারি-হানানহানি, বিশৃঙ্খলা থাকতো? এখান থেকে বুঝা যায় আমরা চাইলেই সমাজে সুন্দর সুশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারি। আমরা আশা করব সমাজের অন্যান্য সব ক্ষেত্রেও আমাদের নেতৃবৃন্দ এই পরিবেশ বজায় রাখতে আন্তরিক থাকবেন।
তাঁদের পারিবারিক সিদ্ধান্তের কারণে পরিবারের বাইরে কাউকে অবশ্য বক্তব্য রাখতে দেয়া হয়নি। সুযোগ থাকলে হয়ত আওয়ামী লীগ নেতারাও শোক প্রকাশ করে সহমর্মিতা জানাতেন। হ্যাঁ, জনাব শাহজাহন চৌধুরী এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এড. শাহজালাল চৌধুরী তাঁদের বক্তব্যে আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম ধরে শুকরিয়া জানিয়ে মহত্বের পরিচয় দিয়েছেন। স্কুল মাঠে বিশাল জানাযায় ইমামতি করেন রাজাপালং ফাজিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপ্যাল মাওলানা আবুল হাসান আলী।
মরহুমা শাহীন চৌধুরীর জানাযায় উপস্থিত অনেককেই আলোচনা করতে শুনাগেছে, শাহজাহান চৌধুরীর ৪বারের এমপি হওয়ার পেছনে এই মহিয়সী নারীর ভূমিকার কথা। অবশ্য শাহজালাল চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে ও স্বীকার করেছেন শাহীন চৌধুরীর অনেক গুণের কথা।
জানাযার মাঠের পাশেই মধ্য রাজাপালং মসজিদ ও এমপি পরিবারের পারিবারিক কবরস্থান। সেখানেই শাহজাহান চৌধুরী-শাহজালাল চৌধুরীদের পিতা-মাতাকে দাফন করা হয়েছে। সেই কবরস্থানেই দাফন করা হয় শাহীন জাহান চৌধুরীকে। এসময় এড. শাহজালাল চৌধুরীর বড় সন্তান হাসানুল বান্নাকে কান্নাকাটি করে শোকে বারবার মুর্ছা যেতে দেখাগেছে। ছোট বেলায় তার মাকে হারিয়ে সে অনেকটা বড় হয়েছিল (বড় মা) শাহীন জাহান চৌধুরীর কাছে। তাকেও হারিয়ে সেদিন তার মনটা বড় খারাপ বলেই মনে হয়েছে।
এসময় মসজিদের ভেতরে শাহজাহান চৌধুরীর সাথে অনেক্ষণ সময় দিয়েছি আমি। কথায় আছে নেতাকে ভেঙ্গে পড়লে তো চলবে না! তাই দেখেছি এই চরম দুর্দিনেও ভেঙ্গে পড়েননি তিনি। দাফনের পর জনাব লুৎফুর রহমান কাজলসহ নেতৃবৃন্দের অনুরোধে শোকাহত মানুষকে উল্টো তিনিই শান্তনা দিলেন।
ক্ষমতার পালা বদলে জনাব শাহজাহান চৌধুরী পরিবার বলতে হয় আজ চরম বিপর্যস্থ। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে হেরে গিয়ে তিনি ক্ষমতার বাইরে রয়েছেন। তার ছোট ভাই এড. শাহজালাল চৌধুরী উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ব্যাপকভাবে নির্যাতিত হয়েছেন। আরেক ছোট ভাই সরওয়ার জাহান চৌধুরী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েও চেয়ারে বসতে পারছেন না। এমন এক পরিবেশে তাদের পরিবারের মুরুব্বি তুল্য ভাবী শাহীন জাহান চৌধুরীর ইন্তেকাল সত্যিই আরো বেদনাদায়ক। এই বেদনাদায়ক পরিবেশে যারা তাদের শান্তনা দিতে নামাজে জানাযায় হাজির হয়েছেন, বিবৃতি দিয়ে দোয়া করে অথবা অন্য যে কোন উপায়ে সমবেদনা জানিয়েছেন তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে তাদেরকে জানানো হয়েছে অশেষ ধন্যবাদ।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com