1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

সাগর পাড়ে বসবাস : শাহপরীরদ্বীপকে করেছে সর্বনাশ

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০১৫
  • ১৪ দেখা হয়েছে
?

জাকারিয়া আলফাজ, টেকনাফ :
কোথাও হাটু জল, কোথাও কোমর, কোথাও আবার অথৈ।এমনিতে ভাঙ্গা বাঁধে বঙ্গোপসাগরের জোয়ারের থাবায় নিয়মিত প্লাবিত হচ্ছে শাহপরীর দ্বীপের একাংশ। প্রধান সড়ক বিলীন হয়ে গিয়ে নৌকায় পারাপার তিন বছর ধরে।বাড়িঘর হারিয়ে নি:শ্ব হয়েছে প্রায় তিন শতাধিক পরিবার।চোখের জলে বুক ভাসিয়ে জন্মভূমির মায়া ছাড়তে হয়েছে এসব পরিবারকে।সবমিলিয়ে এক সময়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের ঢালি সাজিয়ে প্রকৃতির বুকে দাঁড়িয়ে থাকা অপার সম্ভাবনাময় শাহপরীর দ্বীপ পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তুপে।শাহপরীর দ্বীপের চেনা চেহারা বদলে রূপ নিয়েছে অচেনায়।প্রাকৃতিক রূপ-বৈচিত্র, পর্যটন সম্ভাবনা, মৎস, কৃষি, লবণ শিল্প, মিয়ানমার থেকে গবাদি পশু আমদানি ইত্যাদির বিচারে দেশে গ্রামীণ জনপদ শাহপরীর দ্বীপের জুড়ি আছে কি ? এরপরও দু:খ-দূর্ভোগ-দূর্দশা-হতাশা-আশা-নিরাশা আর নিরবতায় চারটি বছর কেটে গেল শাহপরীর দ্বীপের সহজ-সরল অর্ধ-লক্ষাধিক মানুষের।কোন দোষে, কিসের অপরাধ এই জনপদের বাসিন্দাদের ? মুক্তির প্রতিশ্রুতির বেড়াজালে হাবুডুবুতেই যেন জীবন পার।কখন যে মুক্তি মিলবে তার সদোত্তর কেউ দিতে পারছেনা আপাতত।ভাগ্য বড়ই সহায় ছিল এতদিন প্রাকৃতিক বড় ধরণের কোন দূর্যোগের হানা লাগেনি। নয়তো বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে সাগর আর ওপারে নাফনদী যেভাবে ঘিরে রেখেছে তাতে বহু আগে ধুলোয় মিশে যেত এই জনপদ।তবু শেষমেষ রক্ষা হলনা। ২৯ জুলাই ২০১৫।ঘূর্ণিঝড় কোমেন’র ৯০ মিনিটের তাণ্ডবে  মুহুর্তে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল শাহপরীর দ্বীপ। তাতেও থেমে নেই।সাগরের পানি বিপদ সীমার উপর অতিক্রম করে প্লাবিত হয়ে যায় শাহপরীর দ্বীপের জালিয়া পাড়া, ক্যাম্প পাড়া, উত্তর পাড়ার একাংশ, ডাংগর পাড়া ও মাঝের পাড়ার অংশ বিশেষ।কোমেন কেটে গেলেও দু:খ লেগে আছে জালিয়া পাড়া, ক্যাম্প পাড়া, উত্তর পাড়ার প্লাবিত বাসিন্দাদের।বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেছে, লোকালয়ে যাতে জোয়ারের পানি প্রবেশ করতে না পারে এলাকাবাসী মিলে পাড়া রক্ষা বাঁধ দিয়েছে। কোমেনের তাণ্ডবে সে পাড়া রক্ষা বাঁধ তলিয়ে গেল। এখন নিয়মিত সাগর জলে প্লাবিত হচ্ছে উত্তর পাড়া,জালিয়া পাড়া ও ক্যাম্প পাড়ার ঘর-দোয়ার।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এসব এলাকার মানুষের সীমাহীন দূর্ভোগ।সাগর কিনারায় বসবাস বলে কি তাদের এ দশা ? প্রাকৃতিক দূর্যোগ কোমেন কে হয়তো মোকাবেলা করা যায়না, বড় বাজেট না হলে হয়তো বেড়িবাঁধ হয়না কিন্তু লোকালয়ে যাতে সাগরের পানি প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যবস্থা তো অন্তত করা দু:সাধ্য নয়।জালিয়া পাড়া- ক্যাম্প পাড়ায় তিনটি জামে মসজিদই রোজ পানিতে ডোবা। সাইক্লোন সেল্টারের নিচ তলায় মুসল্লিদের নামাজ আদায় হচ্ছে। স্কুল-মাদ্রাসা গামী শিক্ষার্থীদের সব বইপত্র জলে ডুবে নষ্ট হয়েছে।কারো চুলোয় জ্বলছেনা আগুন,হচ্ছেনা রান্না-বান্না।শুকনো খাবারে তাদের দিন কাটছে কোন মতে।বৃদ্ধ-অসুস্থ মানুষেরা যন্ত্রনায় কাতর হয়ে পড়েছে। ত্রানের জন্য হাহাকার দেখা গেলেও ত্রান হিসেবে চিড়া,মুড়ি,গুড়ে কেউ সন্তুষ্ট নয়।৫ কেজি করে চাল পেয়েছে দূর্গতরা।সবমিলিয়ে সর্বোচ্চ ৫শত টাকা পরিমাণের ত্রাণ ! দাবি ছিল এলাকাটি দূর্যোগ কবলিত ঘোষণা করে আরো বেশি পরিমাণে ত্রাণ বরাদ্দের।ত্রাণ আসুক না আসুক মানুষ দুরাবস্থার পরিত্রান চাই।
ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম জানান,“ প্রতিনিয়ত জোয়ারের পানিতে এলাকা প্লাবিত হওয়ায় এসব এলাকায় বসবাসকারী মানুষের দূর্ভোগ বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না গেলে এ নাজুক পরিস্থিতির উন্নতি হবেনা।” তিনি স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব আব্দুর রহমান বদির হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সাবরাং ইউপির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হামিদুর রহমান জানান,“ কোমেন এ ক্ষতিগ্রস্থ এবং প্লাবিত মানুষের দুর্দশা বিবেচনা করে স্বল্পতম সময়ে বেহাল দশা থেকে এলাকাবাসীকে মুক্তির উপায় বের করা জরুরী হয়ে পড়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com