1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

সু-নির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকার কারনেই যানজট এখন কক্সবাজারবাসীর গলার কাঁটা

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০১৫
  • ৩৫ দেখা হয়েছে

এস এম আরোজ ফারুক :
পর্যটন শহর কক্সবাজারের নাগরিকদের বিভিন্ন দূর্ভোগের অন্যতম একটি যানযট। সারা দেশের জেলা শহরগু অভ্যন্তরিন সড়কে কমবেশি যানযট থাকে তবে সে যানজট যদি মাত্রাতিরিক্ত হয় তাহলে শহরবাসীর দূর্ভোগের শেষ থাকে না। জেলার একটি মাত্র অভ্যন্তরিণ প্রধাণ সড়কটিতে সারা বছর নিত্য যানজট থাকলেও চলতি রমজান মাসে এই যানজট সহনশীলতা ছাড়িয়ে গেছে। বৃষ্টি হলে রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে যানজটের মাত্রা আরো বেড়ে যায় আর জলাবদ্ধতা দূর হলে রাস্তায় জমে থাকে কাঁদা-মাটি। ঈদের আর মাত্র কিছু দিন বাকি আছে বলে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কক্সবাজার শহরগুলোতে ছুটছে মানুষ তাদের উদ্দেশ্য ঈদ বাজার। আর ঈদ বাজারে এসে যানজটে নাকাল হচ্ছে সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের প্রধান সড়কটিতে লেগে থাকে তীব্র ও অসহনীয় যানজট। যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের কোন সু-নির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকা শহরবাসীর জন্য এখন যানজট রূপ নিয়েছে গলার কাঁটায়।
যানজট রোধে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি কাজ করছে কিছু কমিউনিটি পুলিশ, কিন্তু তাতেও কোন ইতিবাচক ফল লক্ষ করা যাচ্ছে না। তাই ঈদবাজারে শহরমূখী মানুষগুলো যানজটের কবলে আটক পড়ে যাচ্ছে। সেই সাথে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে শহরে বাস করা লোকজনও। যানজট রোধে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেয়া হলেও তা কোন কাজে আসছে না। বরং তারাও যানজট সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।
ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার ঈদ কেনাকাটা ও ঈদে যানজট রোধে কক্সবাজার শহরে কমিউনিটি পুলিশের অতিরিক্ত ২০ সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে। তারা শহরের সব যানজট প্রবণ পয়েন্টে সকাল থেকে রাত অবধি দায়িত্ব পালন করছে।
দীর্ঘক্ষন যানজটে আটকে থাকা যুবক মোঃ মনিরুল ইসলাম বললে, ‘শহরবাসী প্রতিদিন প্রতিমুহুর্ত বাসা থেকে বের হয় জরুরী প্রয়োজনে। সেই মুহুর্তে যানজটে পড়লে কাজের নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গিয়ে ক্ষতি হচ্ছে। মাত্র ৫ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে সময় লেগে যাচ্ছে ৩০ বা ৪৫ মিনিট পার্যন্ত। রমজনের শুরু থেকেই কক্সবাজার শহরে যানজট আরো বেড়ে গেছে। প্রতিদিনের এ যানজটে পড়ে সবচেয়ে বেশী নাকাল জীবন যাপন করছে শহরবাসী। সেই সাথে বতর্মান ঈদ মৌসুমে কেনাকাটাসহ নিত্য প্রয়োজনে শহরে আসা বাইরের লোকজনও যানজটে পড়ে কাহিল হয়ে পড়ছে। কক্সবাজার শহরের যানজট সমস্যা দীর্ঘ দিনের হলেও রমজান আর ঈদের কেনাকাটা নিয়ে এ যানজট বর্তমানে তীব্র আকার ধারণ করেছে।

কক্সবাজার শহরের প্রাণকেন্দ্র থানা রোড়ের মাথা থেকে রুমালিয়ারছড়া পর্যন্ত যানজট সমস্য দীর্ঘদিনের। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এখানে যানজট লেগেই থাকে। এ যানজট নিরসনে বিভিন্ন সময় নানা পদক্ষেপ নেয়া হলেও তা কোন কাজে আসেনি। আবার হাতে নেয়া পদক্ষেপ গুলো স্থায়ী না হওয়ায় যানজট থেকে এখন পার্যন্ত নিস্তার মেলেনি শহরবাসীর। অন্যদিকে দিনের পর দিন বেড়ে চলছে যানবাহনের সংখ্যা। বিশেষ করে ব্যাটারি চালিত ইজি বাইকের সংখ্যা অতিরিক্তি হারে বেড়ে গেছে শহরে। যানবাহন বাড়ার সাথে সাথে যানজটও তীব্্রতর হচ্ছে প্রতিনিয়ত। স্বাভাবিকভাবে যানজট লেগে থাকলেও রমজানের শুরুতে তার মাত্রা বাড়তে থাকে। ১০ রমজান থেকে তীব্র আকার ধারণ করে। বিগত কয়েক দিন ধরে জট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে বর্তমানে চলাফেরাই দায় হয়ে পড়েছে।
গতকাল সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকেই লেগে যায় যানজট। দুপুর ১২ট থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অসহনীয় মাত্রার যানজট সৃষ্টি হয়। শহরের লালদিঘির পাড় এলাকা থেকে শুরু করে কালুর পর্যন্ত একটি যট দেখা গেছে। এই যানজট সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত পর্যন্ত লেগে ছিল। যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশের সদস্যরা আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও কোন ভাবেই তা নিরসন সম্ভব হয়নি।
দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা জানিয়েছেন, ঈদের কেনাকাটা করতে শহরের বাইর থেকে প্রচুর লোকজন আসছে। সেই সাথে বাড়তি যানবাহনও শহরে ঢুকছে। তাই যানজট লেগে যাচ্ছে। এমন জট নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
বিভিন্ন স্থান থেকে শহরে আসা লোকজন অনুভব না করলেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শহরবাসীকেই। কেননা প্রতিদিনের নিত্য চলাফেরায় যানজটের কবলে কাহিল হয়ে উঠেছেন তারা।
জেলার সচেতন মহলে দাবি, ছোট্ট শহর হলেও কক্সবাজার শহরে দিন দিন মানুষের আনাগোনা বাড়ছে। কিন্তু সে অনুসারে রাস্তার পরিসর বাড়ছে না। প্রয়োজন অনুসারে রাস্তা প্রসার না হওয়ায় যানজট দিনের পর দিন বাড়ছে। যানজটের কবলে পড়ে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে শহরবাসী। তর আরো বলেন এখন শহরের জন্য সুষ্ঠু পরিকল্পনা ছড়া কোন ব্যবস্থাই কজে আসবে না। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও পৌর সভার যৌথ পরিকল্পনাই পারে কক্সবাজারকে যানজট মুক্ত শহরে পরিনত করতে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com