1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

স্বজনদের কান্নায় ভারী টঙ্গীর পরিবেশ

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
  • ৫ দেখা হয়েছে

‘আমার ভাই রফিকের আর বাড়ি ফেরা হলো না। তার লাশ নিতে আমাকেই আসতে হলো।কারখানায় বিস্ফোরণের খবর শুনে ভাইকে ফোন দিয়ে পাচ্ছিলাম না।এরপর টঙ্গী হাসপাতালে এসে ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করি। ঈদে বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল ভাইয়ের, অথচ এখন ভাইয়ের লাশ নিতে আসতে হলো।’ কথা হচ্ছিল ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার কাকচর গ্রাম থেকে আসা আতিকুল ইসলাম সঙ্গে।তার ভাই টাম্পাকো ফয়লস কারখানায় মেনটেন্যান্স বিভাগে চাকরি করতেন। শনিবার ভোরে গাজীপুরে টঙ্গীর বিসিক শিল্প এলাকায় টাম্পাকো লিমিটেড নামের একটি প্যাকেজিং কারখানার বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।এতে দগ্ধ হয়ে ও চাপা পড়ে অন্তত ২২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন।তাদের একজন রফিক।

আতিকুল ইসলাম জানান,তারা ছয় ভাই ও তিন বোন।স্ত্রী ও পাঁচ মাসের সন্তানকে নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে  ঈদ করার কথা ছিল রফিকের।রবিবার তার বাড়ি ফেরার কথা ছিল।

টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার মো.পারভেজ জানান, ‘টাম্পাকো ফয়লস কারখানার বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় দুপুর ২টা পর্যন্ত ২২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৬০ জন।’

শনিবার সকাল থেকে টঙ্গী হাসপাতাল ও কারখানার সামনের পরিবেশ নিহতদের স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠে।তাদের মধ্যে সাবিনা আক্তার নামে একজন জানান,তার ভাই ইদ্রিস আলী (৩৮) পাঁচ বছরধরে ওই কারখানায় মেশিন অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন।ইদ্রিসের স্ত্রী থাকেন জর্ডানে।সন্তান থাকে দাদা-দাদীর সঙ্গে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার মানিক কাজী গ্রামে। ঈদ উৎসবের জন্য বাড়িতে টাকা পয়সা পাঠাতে পারেননি। রবিবার কাজ শেষে ছুটি নিয়ে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা ছিল।

সাবিনা আক্তার আরও বলেন, ‘খুব সকালে ‍তিনি আমার বাসা থেকে খেয়ে বের হয়েছিলেন ‘এ’ শিফটে ডিউটি করবেন বলে।কিন্তু ডিউটিতে গিয়ে ফিরলেন লাশ হয়ে।’ সগীর হোসেন নামে আরেক ব্যক্তি জানান, ‘তার শ্যালক আল  মামুন(৪০)পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার পশ্চিম ফুলঝুড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তারা পাঁচ ভাই ও দুই বোন। গত ১০ বছর ধরে তিনি কারখানাটিতে অপারেটর হিসেবে চাকরি করেন। এ কয়েকদিনে তিনি টঙ্গীর পূর্ব আরিচপুর এলাকায় সামান্য জায়গা কিনে বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এবার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের কথা ছিল। ঈদের গ্রামের বাড়িতে যাওয়া, কিংবা নিজের বাড়ি করা কোনোটাই হলো না।’ ‘আমার ভাই (রাশেদ )রিকশায় দু’জন যাত্রী নিয়ে কারখানার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এমন সময় বয়লার বিস্ফোরণে কারখানার দেয়াল ধসে রিকশার ওপর পড়ে।এতে ওই দু’যাত্রীসহ রাশেদ মারা যান।’ বলে জানান রাশেদের বোন বেদেনা। তিনি বলেন, ‘রাশেদ আমাদের সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন।রিকশা চালিয়ে যা পেতেন, তা দিয়েই সংসার চলতো।’

বেদেনা জানান, তার ভাই রাশেদ গত পাঁচ বছর ধরে টঙ্গীতে রিক্সা চালাতেন। তিন ভাই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। ছোট দুই ভাই শহীদ ও রশিদ গ্রামের স্কুলে পড়াশোনা করে।

রাশেদের চাচাতো ভাই সুজন সাংবাদিকদের বলেন,‘আমিও রাশেদের সঙ্গে টঙ্গী শহরে রিকশা চালাই। আমাদের এলাকার ৪০ জন রিকশা চালক মিলে একটি বাস ভাড়া করেছি। রবিবার রাত ৯টার দিকে আমাদের বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল। অথচ তার আগেই চলে গেলেন রাশেদ।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com