1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

স্বপ্নের কক্সবাজার হবে পর্যটনের ক্ষেত্রে ‘দ্বিতীয় সিঙ্গাপুর’

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৫
  • ৪৬ দেখা হয়েছে

ছৈয়দ আলম, কক্সবাজার আলো :
পর্যটন রাজধানী খ্যাত কক্সবাজার এখন পর্যটকে টইটম্বুর। চারিদিকে পর্যটকদের ছোয়া আর নারী-পুরুষের ভীড়ে এখন শুধু পর্যটকের কোলাহল। পর্যটন জেলা কক্সবাজার বাংলাদেশের সর্বশেষ দক্ষিন সীমান্তে অবস্থিত হলেও আল্লাহর কি মহিমা রয়েছে তা বাস্তবে অবলোকন ছাড়া অনুভব করা যাবেনা। আর সারা বাংলাদেশ হতে সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় ও পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতটি আজকে সারা বিশ্বে নজর কেড়েছে এই কক্সবাজারের নামটি। পর্যটকদের ধারনা, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে দিনে আকাশের নীল মেখে নীল দরিয়া আর রাতে জোয়ারের উচ্ছ্বাস ও তারাদের রহস্যময় মিতালি বয়ে যায় প্রতিদিন। শব্দ বলতে উত্তাল সাগরের অবিরাম ঢেউ ভাঙার উল্ল¬াস আর বাতাসের সতেজ ঝাপটার যুগল জায়গা। যেখানে গেলে দেখা ও অনুভব করা যাবে এই অপার্থিব দৃশ্য, তার নাম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে উঠা এই সমুদ্র সৈকত ও পর্যটন স্পট হতে পারে পর্যটনের ক্ষেত্রে বিশ্বের ‘দ্বিতীয় সিঙ্গাপুর’। তবে এ জন্য প্রয়োজন পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং সুষ্ঠু নীতিমালা। কক্সবাজারবাসীকে স¤পৃক্ত করে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে মাস্টার প্ল¬্যানের মাধ্যমে এখানে পর্যটন শিল্প বিকাশে উদ্যোগ নেয়া হলে এই পর্যটন জেলা হয়ে উঠতে পারে বিশ্বের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র। অথচ বর্তমান সরকার আগামী বছরকে পর্যটন বর্য হিসেবে ঘোষনা করেছেন। কিন্তু এর আগে সমুদ্র সৈকতে ৪ ভাগে ভাগ করে এক্সক্লোসিভ টুরিষ্ট হিসেবে কার্যত ঘোষনা ও কাজের উদ্বোধেন করলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত বিশ্বের একমাত্র দীর্ঘতম স্থান। এই সমুদ্র সৈকতে খনি খ্যাত বালুকানাময় উপস্থিতি রয়েছে বলে দাবি করেন বিজ্ঞানীরা। তাদের সমীক্ষা অনুযায়ী, সৈকতের চতুর্দিকে বালি আর পাথরের বেষ্টনিতে গড়া। এর গভীরে রয়েছে জমাট বাঁধা পাথর। এই পাথরের বেষ্টনি সাগরের তলদেশ দিয়ে মালয়েশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত বলে অনেকে দাবি করেছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গতকাল কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ও হোটেল মোটেল জোনে গিয়ে দেখা গেছে, মাহন বিজয় দিবস উপলক্ষে ও টানা ছুটি হওয়ায় পর্যটকের পদভারে মূখরিত পুরো এলাকা। আবার কক্সবাজার এর ইনানী, মহেশখালী আদিনাথ মন্দির, টেকনাফের প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন, রামু বৌদ্ধবিহার, ডুলাহাজারা সাফারী পার্কসহ আরো দৃষ্টি নন্দন পর্যটন এরিয়া রয়েছে। এদিকে কক্সবাজারের আরেক দৃষ্টিনন্দন স্থান নাম সেন্টমার্টিন। সেখানেও আরেকটি নাম রয়েছে পর্যটকদের কাছে ‘ছেঁড়াদ্বীপ’ নামে পরিচিত। তবে এর স্থানীয় নাম ‘ছেঁড়াদিয়া’। সেন্টমার্টিনের মতোই ছেঁড়াদ্বীপ চুনাপাথর, ঝিনুক, শামুকের খোলস সৃষ্ট ‘কোকুইনা’ স্তর এবং প্রবালগুচ্ছ দিয়ে তৈরি। সমুদ্রপথে ছেঁড়াদ্বীপে যাওয়ার মোক্ষম সময় হচ্ছে ভাটার সময়। কেননা ভাটায় ছোট ছোট খাঁড়ি ও চারপাশের অগভীর সমুদ্রে ভেসে ওঠে জীবিত ছোট ছোট প্রবাল, যা জোয়ারের সময় আবার পানিতে তলিয়ে যায়। এগুলোর কোনোটা ভাটার সময় পানির স্তরের চেয়ে প্রায় তিন-চার মিটার ওপরে দেখা যায়।
পর্যটকদের মতে, দিনে যেমন তেমন, রাতে সেন্টমার্টিন যেন স্বপ্নপুরি হয়ে উঠে। এখানে ঘটে তারার সঙ্গে মিতালি। একটা দুটো নয়, কোটি কোটি তারার হাতছানি। আর নিচে নির্জনতা ভেঙে আঁধার সাগরের টানা গর্জন। কিছুটা গা ছমছমে সেই অনুভূতি। চাঁদনি রাতে এই দ্বীপ যেন পর্যটকদের মনে ‘রোমান্টিসিজম’ ছড়িয়ে দেয়। পরিষ্কার আকাশে চাঁদটাও নেমে আসে অনেকখানি। আর নিচে তখন চাঁদকে ছোঁয়ার তীব্র বাসনায় জোয়ার ধরা সাগরের সে কি মাতামাতি!
কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য যে, প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন ঘিরে পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সরকারি অদূরদর্শিতা ও সুষ্ঠু নীতিমালার অভাবে সে সম্ভাবনা আলোর মুখ দেখছে না। এখানে পর্যটনের মাধ্যমে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা ও সুযোগ থাকলেও তা কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা সংবাদকর্মী মোক্তার আহমদ জানান, আমাদের এই সেন্টমার্টিন বিশ্বের ‘দ্বিতীয় সিঙ্গাপুর’ হতে পারে যদি সরকার একটু সুদৃষ্টি দেয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৭৮ সালের দিকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে তৎকালীন সরকার দ্বীপের নিরাপত্তায় বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করেছিল। সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য দ্বীপে বিদ্যুতায়ন, অফিস, পোস্ট অফিস, জাহাজ চলাচলের জন্য নেভিগেশন টাওয়ার স্থাপন করা হয়। কালক্রমে সেন্টমার্টিনের সৌন্দর্য সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয় সেন্টমার্টিন। কিন্তু বর্তমানে পর্যটকদের আর্কষণ হারাচ্ছে এটি। জানা গেছে, গেল অর্থবছরের বাজেটে কক্সবাজার জেলার পর্যটন এলাকা উন্নয়নে তেমন উলে¬খযোগ্য বরাদ্দ দেয়া হয়নি। এ নিয়ে জেলাবাসীর মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে প্রায় চার বছর আগে জীববৈচির্ত্য রক্ষার নামে সেন্টমার্টিনে বহুতল ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। একে ‘পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা’ ঘোষণা করা হয়। তবে এ ঘোষণা দিয়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপবাসীকে সরকার অবহেলা করছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, এখানে নৌ-বাহিনী, পুলিশ ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের স্থাপনা রয়েছে। সরকারি দপ্তরের জন্য কোন বাধা নেই। সরকারের সকল আপত্তি শুধুমাত্র সাধারণ জনগণের ক্ষেত্রে। অপরদিকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে দেখো গেছে, পর্যটকদের কোলাহল চারিদিকে। বসার কোন স্থান নেই। কেউ আছে ব্যস্ত সেলফি তুলতে আবার কেউ আছে গানের মুহুরিত আড্ডায়। এভাবেই কানায় কানায় পুর্ন হয় পুরো শহর, হোটেল মোটেল ও সমুদ্র সৈকত এলাকা। খোজ নিয়ে জানা গেছে, পর্যটন মৌসুম ও মহান বিজয় দিবসের ছুটি উপলক্ষে হোটেল ও রেস্তোরা ব্যবসায়ীরা গলাকাটা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। পর্যটকদের অভিযোগ, যে হোটেল একটি ডাবল রুম ৫০০ টাকা ছিল সেই রুম আজ ২৫০০ হাজার টাকা নিচ্ছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ বলেন, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা দিতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। কোন বিশৃংখল ঘটনা এড়াতে মাঠে ও আশপাশে সাদা পোশাকধারী প্রশাসনের লোকজন কাজ করছে।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com