1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
শিরোনাম :
সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজী গ্রেপ্তার লাইফ সাপোর্টে ব্যারিস্টার রফিক-উল হক টেকনাফে চার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা রঙ্গিখালী মিনি টমটম চালক সমিতির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বন্দুকযুদ্ধে রোহিঙ্গা মাদক পাচারকারী নিহত,ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার শিগগির জেলা ও মহানগর কমিটি ঘোষণা: কাদের করোনায় আরও ২৪ প্রাণহানি, নতুন শনাক্ত ১৫৪৫ স্বাস্থ্যবিধি মেনে কক্সবাজার জেলায় ২৯৯ মন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গোৎসব জলবায়ুর ন্যায্যতা ও লৈঙ্গিক ন্যায়বিচারের (Gender Justice) দাবিতে সমুদ্র সৈকতে পদযাত্রা (Walk for Survival) করেছে একশনএইড হচ্ছে না মাধ্যমিকের বার্ষিক পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্টে মূল্যায়ন

হাজারো মানুষ রাত কাটায় স্টেডিয়ামের বারান্দায়

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০১৫
  • ১২ দেখা হয়েছে

হাজারো মানুষ রাত কাটায় স্টেডিয়ামের বারান্দায়

সড়ক বাতির আবছা আলো। অপেক্ষাকৃত ফাঁকা রাস্তায় দ্রুতগতিতে চলছে যানবাহন। বহুমুখী কর্মব্যস্ততা। সব মিলিয়ে অন্যরকম রাতের ঢাকা। জীবনের তাড়নায় গভীর রাতে অনেককেই থাকতে হয় ঘরের বাইরে। আবার অনেকের ঘর-দুয়ারই রাস্তায়। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম ও মওলানা ভাসানি জাতীয় হকি স্টেডিয়ামের বারান্দায় গিয়ে এমনটাই দেখা গেল।

এখানে হাজারো ছিন্নমূল মানুষের বসবাস। অনেকেই আছেন যাদের জন্ম হয়েছে এই স্টেডিয়ামেরই বারান্দায়। এখানেই বেড়ে উঠেছেন, বিয়ে হয়েছে এখানে। এই বারান্দার ঘর আলোকিত করে নতুন শিশুর জন্মও হয়। বৃত্তাকার দুই স্টেডিয়ামের বারান্দায় সারি সারি নারী-পুরুষ এবং শিশুদের ঘুমানোর দৃশ্য দেখে মনটা ভারী হয়ে ওঠে। মনে নতুন চিন্তা জাগে- আমাদের পরিচিত সমাজের সঙ্গে এদের কতো অমিল!

সোমবার রাত ১টা। দুই স্টেডিয়ামের বারান্দায় ছিন্নমূল মানুষের রাত্রিযাপন দেখতে বের হলাম। সঙ্গে ইত্তেফাকের তরুণ সাংবাদিক বারেক কায়সার, আলোকচিত্রী সামসুল হায়দার বাদশা। একটু পর আমাদের সঙ্গে যোগ দেন ক্রীড়া সাংবাদিক সোহেল সারওয়ার চঞ্চল। সবাই মিলে কথা বলি বারান্দায় শুয়ে থাকা মানুষদের সঙ্গে। জানা গেল, ভিন্ন ভিন্ন জীবনের গল্প। যে গল্প শুনে চোখ ভিজে যায়।

এদের কেউ ঢাকা এসেছেন অভাবের তাড়নায়, কেউ মা-বাবার বিচ্ছেদ কিংবা বহু বিবাহের বলি হয়ে। নদী ভাঙনের শিকার হয়ে এসেছেন কেউ কেউ। নানা কারণেই মানুষ এখানে এসে ঘুমায়। তবে বেশিরভাগই জানান, অনেকটা বাধ্য হয়েই স্টেডিয়ামের বারান্দায় এসেছেন তারা।

এরা সবাই দিনের বেলা কাজ করেন। রকমারি কাজ তাদের। কেউ বাসা বাড়িতে আয়ার কাজ করেন। কেউ আবার রিকশা-ভ্যান চালিয়ে, পথের পাশে শরবত বিক্রি করে, বিয়ে বাড়ির পার্টিতে কাজ করে, ভাত বিক্রি করে, হোটেলে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। অনেকে সিকিউরিটি গার্ড, অফিসের পিওন, মিনতির কাজ কিংবা কাগজ কুড়িয়ে পেট চালান। আর বাড়তি টাকা পাঠিয়ে দেন গ্রামের বাড়িতে।

খোদেজা বেগমের বাড়ি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায়। থাকেন ফকিরাপুলে। আর রাত বাড়লে চলে আসেন স্টেডিয়ামের কাছে। ভাত বিক্রি করেন তিনি। বলেন, স্বামী ফেলে চলে গেছেন পাঁচ বছর হলো। একমাত্র ছেলে মজিবরও বিয়ে করে সংসার পেতেছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাসা বাড়িতে বুয়ার কাজ করেন তিনি।

রতনার বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকায়। যাকে আকড়ে বাঁচতে চেয়েছিলেন সেই চলে গেছে দূরে। বিয়ে হয় রিকশা চালক আকরামের সঙ্গে। থাকতে শুরু করেন স্টেডিয়ামের বারান্দায়। এরপর একদিন স্বামী পালিয়ে যান। একমাত্র ছেলেকে নিয়ে এখানে থাকাটাই নিরাপদ মনে করেন রতনা। পাশের একটি হোটেলে থালা-বাসন ধোয়ার কাজ করে তিনবেলা পেট চলে। আর রাত কাটায় স্টেডিয়ামের বারান্দায়।

চাঁদপুরের মতলব উপজেলায় বাড়ি আমিনুল হকের (৩৫)। পার্টি সেন্টারে কাজ করেন। কথা প্রসঙ্গে জানান, প্রতিদিন কাজ থাকে না। যা আয় হয় তাতে সংসার চালানো দায়। বাসা ভাড়া নিয়ে থাকার মতো সামর্থ্য নেই। বিয়ে করেননি, বাড়িতে রয়েছে বৃদ্ধ বাবা-মা। মাস শেষে যা টাকা থাকে তা বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে হয়।

ময়না বেগমের (২২) বাড়ি বরিশালের হিজলা উপজেলায়। ছোট বেলা থেকেই এখানে থাকেন। এখানেই জন্মেছেন। এখানেই বিয়ে করেছেন। বাসা বাড়িতে কাজ করেন। স্বামী আব্দুল হক রিকশা চালান।

একমাত্র মেয়ের বয়স তিন বছর। মেয়েকে দেখাশোনা করানোর জন্য বোনের মেয়েকে কিছুদিনের জন্য নিয়ে এসেছেন। সংসার নিয়ে বেশ সুখেই আছেন বলে জানান তিনি।

কিশোরগঞ্জের প্রত্যন্ত এক গ্রামে বাড়ি শহীদ আলীর। পেশায় ভিক্ষুক। বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। সারাদিন ভিক্ষা করে রাতে স্টেডিয়ামের বারান্দায় আসা তার চাই-ই। তিনি বলেন, প্রতিদিন যা পাই তা দিয়ে ভালোই চলে যায়। এখানে থাকতে আরাম পাই। একবার অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। সবাই যেভাবে সহায়তার হাত বাড়িয়েছিল সেটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমাকে হাসপাতালেও নেয়া হয়েছিল। সে যাত্রায় সবার সেবাযত্নে রক্ষা পেয়েছিলাম।

মাইনউদ্দীনের (৪৫) বাড়ি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি। ৩০ বছর ধরে এখানেই রাত কাটাচ্ছেন বলে জানান। জীবনের চরম দুর্বিষহ অবস্থার কথা বলতে বলতে তার চোখের কোনে দেখা যায় অশ্রুজল।

মাইনউদ্দীন বলেন, সূর্য উঠার সঙ্গে সঙ্গে কাজের সন্ধানে এখানে বসবাসকারীরা ছুটে যায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়। রাত ৯টা বাজলে ঘুমানোর জন্য ছুটে আসে স্টেডিয়ামের বারান্দায়। মাত্র একটি গামছা, লুঙ্গি ও পলিথিন হলো তাদের বিছানা। বালিশ হিসাবে ছেঁড়া, টুকরা কাপড় পোঁটলা করে মাথার নিচে দিয়ে রাত কাটায়। বেশিরভাগের কোন মশারি নেই। কারো আছে নামকাওয়াস্তে। মশার কামড় খেয়েই ঘুমাতে হয় শিশু, নারী ও পুরুষদের।

আলামিনের (২৩) বাড়ি গোপালগঞ্জে। দিনে শরবত বিক্রি করে রাতে এখানে এসে থাকেন। তিনি জানান, ঠিকমত তাদের গোসল করা সম্ভব হয় না। পাবলিক টয়লেটে প্রতিজন গোসল করতে ১০ টাকা ও মলমূত্র ত্যাগে পাঁচ টাকা ব্যয় হয়। এ কারণে অনেকে দুই থেকে তিন দিন পর গোসল করে থাকে।

তিনি আরো জানান, রাস্তাঘাটে ও ফুটপাতে নিম্নমানের ও নোংরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি স্বল্পমূল্যের খাবার খেয়ে বছরের পর বছর তারা কাটাচ্ছে। শিশু সন্তানগুলো নানা রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত। নারী-পুরুষদের মধ্যে শারীরিক অসুস্থতা লেগেই থাকে।

কথা প্রসঙ্গে এখানে বসবাসকারী নারী-পুরুষরা জানান, সকাল ৯টায় স্টেডিয়াম মার্কেটের দোকান খোলার সময়। আর বন্ধ হয় রাত সাড়ে ৭টা কিংবা ৮টার সময়। বাকি সময়টা দোকান মালিকরা আমাদের ঘুমাতে দেন। এসব মানুষের পক্ষে ঘর ভাড়া দিয়ে থাকা সম্ভব নয়। সারাদিনে যা আয় করে তা খাওয়াতেই চলে যায়। এছাড়া আছে স্ত্রী সন্তানের কাপড় চোপড় কেনার খরচাপাতি। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে এই অল্প কয় টাকা দিয়ে বেঁচে থাকা খুবই কষ্টদায়ক।

পথবাসী মানুষদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছেন এমন একাধিক প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে পুরো রাজধানীতে ছিন্নমূল মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার। বিভিন্ন কারণে বাধ্য হয়ে তারা শহরে আসে এবং যেসব জায়গায় তারা জীবিকা খুঁজে পায় সেসব এলাকার পথকে তারা বেছে নেয়। এরকমও অনেকে আছে ৩০-৩৫ বছর ধরে রাস্তায় রাস্তায় আছে। রাস্তায় বিয়ে হয়েছে, ছেলে মেয়ে হয়েছে এমনও আছে।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বস্তি উন্নয়ন বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি এলাকায় এদের আবাসনের জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পথবাসীদের জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট দিতে করপোরেশনের সবগুলো আঞ্চলিক দফতর কাজ করছে। এর মাধ্যমে তারা জাতীয় পরিচয়পত্রও তৈরি করতে পারছে। ফলে ভোটও দিতে পারেন তারা। তাদের স্বাস্থ্য ও অন্যান্য বিষয়ে সচেতনতা কার্যক্রমও চালানো হয়।

উৎসঃ   ইত্তেফাক

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com