1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

হেলে পড়া কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র যে কোন মুহুর্তে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০১৫
  • ৩৯ দেখা হয়েছে

আতিকুর রহমান মানিক, কক্সবাজার :

বাঁকখালী নদীতে বিলীন হতে চলেছে কক্সবাজারের প্রধান মৎস্য অবতরণকেন্দ্র। ৬ জুলাই সোমবার রাত নয়টার দিকে তিনতলা ভবনের উত্তর পার্শ্ব নদীতে হেলে পড়েছে। যে কোন সময় ভবনটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।

এ দিকে কক্সবাজারের প্রধান মৎস্য অবতরণকেন্দ্র হেলে পড়ার খবর পেয়ে সোমবার রাতেই জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহাগ চন্দ্র সাহার নেতৃত্বে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগ, গণপূর্ত ও পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঝুঁকি এড়াতে ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

পরবর্তী যে কোন পরস্থিতি মোকাবেলায় একজন ইন্সপেক্টরের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস টীম অবস্থান করছেন। স্থানীয় আড়ৎদার, মৎস্য ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানসমুহ ভবনের বিভিন্ন কক্ষ থেকে আসবাবপত্র সরিয়ে নিচ্ছে। সোমবার রাত সাড়ে দশটায় সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ভবনের অবশিষ্ট অংশ নদীর দিকে হেলে রয়েছে।

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের আওতাধীন জেলার একমাত্র মৎস্য অতরণকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. শরিফুল ইসলাম জানান, বাঁকখালী নদীর তীর দেবে গিয়ে আকস্মিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ভবনের উত্তর পার্শ্ব হেলে পড়ে। এতে ভবনের ভেতরে থাকা মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেরা আতঙ্কে দিগি¦দিক ছুটোছুটি করে। তবে ধসের মত কোন ঘটনা ঘটায় সবাই রক্ষা পায়। পরে তারা নিরাপদ স্থানে চলে যায়। ঘটনাটি জেলা প্রশাসনসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

তিনি আরো জানান, ২০১২ সালের ভয়াবহ বন্যার ফলে রেলিং ধসে গিয়ে ঝুঁকির মুখে পড়ে কক্সবাজার মৎস্য অতবরণ কেন্দ্রটি। এই সময় বাঁকখালী নদী তীরে অবস্থিত ভবনটির ১২টি পিলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নদীতে বিলীন হয়ে যায় দুইট সিঁড়ি। পরে ওই বছরই উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল সরেজমিন পরিদর্শন করে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে।

এর আগে জেলার একমাত্র মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের দেয়ালে একের পর এক ফাটল ধরলে এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মূল ভবনের দু’তলার সকল আড়তঘর খালি করতে ব্যবসায়ীদের নোটিশ দিয়েছিলেন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক।

ওই নোটিশে বলা হয়, ‘২০১২ সালের ২৭ জুন আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ী ঢলের কারণে মৎস্য আহরণ শেডের দু’তলা ভবনের ২১টি পিলারের মধ্যে ১৩টি পিলারের নীচের মাটি সরে গেছে। ভবনটির উত্তর পার্শ্বে ৬ ইঞ্চি দেবে যাওয়ায় আড়তঘরের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় ভবনটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এতে প্রাণহানীর আশংকা রয়েছে।’

বিজ্ঞপ্তিতে ভবনের দু’তলার ৩৪টি আড়তঘর পরিত্যক্ত ঘোষনা করে তা শীঘ্রই খালি করে দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় দূর্ঘটনার দায়ভার নেবেনা বলে কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিয়েছে। তবে নোটিশে ক্ষুব্ধ হয়েছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, অনেকবার টাকা দেওয়ার পরও কর্তৃপক্ষ ভবনটির মেরামত করেনি। অবহেলায় ভবনটি আজকে করুণ দশায় পড়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, বাঁকখালী নদীর কিনারে গড়ে উঠা জেলার একমাত্র ‘মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র’ এখন ক্রমান্বয়ে নদীতে বিলীন হতে চলেছে। দু’তলা বিশিষ্ট ভবনটির নিচের মাটি, পিলার ও সিড়ি ভেঙ্গে গেছে। পুরো ভবন জুড়ে শুধুই ফাটল।

ফিশারীঘাট মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সহ-সভাপতি আব্দুল গফুর বলেন, ভবনের পরিস্থিতি চরম ঝুঁকিপূর্ণ। ইতিমধ্যে বাঁকখালী নদীর ¯্রােতের কারণে পিলারের নিচের মাটি সরে গেছে। কিছু অংশ নদীতে হেলে পড়েছে। ১৩ টি পিলার শূণ্যের উপর দাঁড়িয়ে আছে। একই সঙ্গে পুরো ভবন জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ফাটল।

মৎস্য ব্যবসায়ী মোবারক জানান, সাগর থেকে মাছ আহরণ করে জেলেরা এখানে নিয়ে আসেন। কেন্দ্রে মাছ তোলার জন্য চারপাশে প্রায় ১২ টি সিঁড়ি করা হয়। জোয়ারের পানির ধাক্কায় এসব সিঁড়ি ভেঙ্গে গেছে। এখন পুরো ভবন বিলীণ হওয়ার পথে।

কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. শরিফুল ইসলাম বলেণ, ১৯৬৫-৬৬ অর্থ বছরে জেলার একমাত্র মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়। এরপর থেকে কোন সংস্কার কাজের ছোঁয়া পায়নি। তিনি বলেন, ভবনের পূর্ব পাশে নদীর কিনারে ৮৫ মিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য ২০১৩ সালে মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার বরাদ্দ চেয়েছিলাম। কোন ধরণের বরাদ্দ না পাওয়ায় এ অবস্থা।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের ইন্সপেক্টর আব্দুল মজিদ বলেন, ভবনটি হেলে পড়ায় তা সীলগালা করে দেয়া হয়েছে। পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com