1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

হ্নীলার একই পরিবারের তিন অদম্যমেধাবী মূখ : জীবনপথের দুঃসাহসী সাফল্যে রেকর্ড সৃষ্টি

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
  • ৪৫ দেখা হয়েছে

ছৈয়দ আলম :
টেকনাফেই শুধু হার না মানা, মাথা না নোয়ানো জীবন সংগ্রামের গল্প তাঁদের। সুযোগ-সুবিধার মুখাপেক্ষী না থেকে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়ে চলেছেন। ‘ভাগ্যের’ ওপর দায় না চাপিয়ে প্রাণশক্তিতে ভর করে এগিয়ে চলার প্রত্যয় তাঁদের। তাঁদের চেষ্টা, পরিশ্রম বৃথা যায়নি কোনদিন। তাদের জীবনের শুরু থেকে সকল পরীক্ষায়ও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। আর তাদের কারনে সমস্ত শিক্ষকমন্ডলী ও প্রতিষ্টান কর্তৃপক্ষরা সম্মানের কৌঠায় আসীন হয়। যেন জীবনপথের দুঃসাহসী অভিযাত্রী তারা। তিনজনই বরাবরই অনবদ্য সাফল্য রেখেই চলছে। দারিদ্র্যের সঙ্গে বসবাস অদম্য মেধাবী এই তিন শিক্ষার্থীরা সকলের মন, অাস্থা ও তাদের প্রানপ্রিয় শিক্ষকমন্ডলীর প্রিয় শিক্ষার্থী হিসেবে আজিবন মডেল হয়ে থাকবেন।
সাবিনা ইয়াছমিন ববি :
সে কোনদিন ক্লাসে যাওয়া বন্ধ করেননি। প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত নিয়মিত ক্লাস করতেন। আবার শ্রেণিকক্ষের বাইরে ববি কোনদিন বের হয়না। যার জীবনের শুরু থেকে শিশু শ্রেনী থেকে অদ্যবদি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে আসছে। সে ইতিপূর্বে সরকারী বৃত্তি পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি, হ্নীলা গুলফরাজ হাশেম ফাউন্ডেশনে চতুর্থ আর সপ্তম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি লাভ করেন, সে ২০১১ সালে হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি তে এ-প্লাস ও ২০১৩ সালে কক্সবাজার সরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি বিজ্ঞান বিভাগে এ প্লাস পেয়ে গৌরব অর্জন করেন। শুধু তাই নয় সে জেলা প্রশাসক বৃত্তিও লাভ করেন। বর্তমানে ঢাকা আদ্ব-দীন উইমেন্স মেডিকেলে এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের অধ্যায়নরত আছে।
ববির হার না মানা এই মানসিকতা ও পরিশ্রম বৃথা যায়নি। তার পরিবারের আর্থিক সংকট তাঁকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করেনি। ববি বলেন, ‘পরিবারে আর্থিক অনটন রয়েছে ঠিকই, তবে আমি কখনোই স্বপ্ন থেকে পিছপা হয়নি। তাই সাফল্য এসেছে।’ তাঁর স্বপ্ন ডাক্টার হয়ে দেশ ও জাতীর সেবা করা।
সারজিনা নাছরিন ডলি :
ডলি টেকনাফের অন্যতম মেধাবী এক মূখ হিসেবে পরিচিত, সে জীবনের প্রতিটি পরিক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারিনী, হ্নীলা গুলফরাজ হাশেম ফাউন্ডেশনে চতুর্থ, সপ্তম শ্রেনীতে বৃত্তি লাভ করে, জে এস সি ও এসএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস ও ট্যালেন্টপুল বৃত্তি লাভ করে, তিনিও কক্সবাজার জেলা প্রশাসক বৃত্তি লাভের গৌরব অর্জন করে। সে বর্তমানে কক্সবাজার সরকারী কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণীতে অধ্যায়নরত আছে। তার অদম্য মেধায় ২০১৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে ভাল ফলাফল অর্জন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়ালেখা করার আগ্রহী।
মাহিকা আফরিন হ্যাপী :
হ্যাপী জীবনের শুরু থেকে নিজেই হ্যাপী ও পরিবারসহ পুরো এলাকাকে হ্যাপী করে তুলে। তার অদম্য মেধায় চতুর্থ ও সপ্তম শ্রেনীতে হ্নীলা গুলফরাজ হাশেম ফাউন্ডেশন বৃত্তি লাভ, পঞ্চম শ্রেনীতে সরকারী বৃত্তি, অষ্টম শ্রেণীতে গোল্ডেন এ প্লাস ও ট্যালেন্টপুল বৃত্তি লাভ করে, বর্তমানে হ্যাপী হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যায়নরত রয়েছে। সে ভবিষ্যতে ফার্মাসিষ্ট বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা নিতে আগ্রহী।
তাদের বাবা ছৈয়দ আলম বলেন, ‘আমার কর্মক্ষমতা নেই। মোটামুটি ছেলেদের আয় রোজগার দিয়ে সংসার চালাচ্ছি। অনেক কষ্ট সত্ত্বেও আমার তিন মেয়ে ভালো ফলাফল করায় আমরা খুব খুশি।’
তাদের এই সাফল্য অন্যদের অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে তিনি মনে করেন এবং, যদি মনে প্রবল ইচ্ছা থাকে তাহলে দারিদ্র্য বা কোন সমাস্যা কখনোই বাধা হতে পারে না। তার তিন মেয়ের পরিশ্রম করার ক্ষমতা অসাধারণ। চেষ্টা ও বিনয় তাদের বহুদূর নিয়ে যাবে।
তাদের গর্বিত ভাই কায়সার হামিদ সুকেন কক্সবাজার আলো ডটকমকে বলেন, ‘আমরা সত্যি গর্বিত ছোট বোনদের সাফল্য দেখে। জীবনে তাদের প্রতিষ্ঠিত করতে সবসময় মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে এবং পড়ালেখার প্রবল ইচ্ছার শক্তির যোগান দিয়ে যাচ্ছি। পরিবারের অর্থকষ্টের অভাব কারও শিক্ষাজীবন যেন সংশয়ের মুখে না পড়ে সেটাও তাদের বুঝতে আপাতত দিচ্ছিনা। তাদের সাফল্যসহ টেকনাফের মেধাবীমূখ হিসেবে পরিচিত হয়ে ভবিষ্যতে চিকিৎসক, আইনজীবি ও ফার্মাসিষ্ট হয়ে জনগনের সেবা করতে পারে সেইজন্য সকলের দোয়া কামনা করছি।

এই বিভাগের আরও খবর

  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com