1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

১৪মে.ট. খাদ্য শষ্য বিতরণ পেকুয়ায় ৮৫হাজার মানুষ পানি বন্ধি, দূর্ভোগ চরমে

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ২৯ জুন, ২০১৫
  • ১৩২ দেখা হয়েছে

Pekua Pic 27-06-15  (7) (Small)এস.এম.ছগির আহমদ আজগরী,পেকুয়া :
কক্সবাজারের পেকুয়ায় টানা বর্ষন আর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশের ফলে প্রায় ৮৫হাজার মানুষ পানি বন্ধি হয়ে আছে আজ কয়দিন যাবত। ৯১’র প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ের পর এধরনের পরিস্থিতির মুখে পড়োিন আর মানূষ। যার জের ধরে দীর্ঘ ১যূগেরও বেশী সময় পর এলাকার মানুষ শাতাব্দীর ভয়াবহ দূর্যোগের শিকার হয়ে চরম দূর্ভোগের মুখে দিনাতিপাত করছে। টানা আষাঢ়ী ভারী বর্ষনে উপজেলার সদর ইউনিয়ন পুরো অংশ হয়েছে প্লাবিত। সেই সাথে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে জোয়ারের পানির অবাধে প্রবেশের কারণে উপজেলার পাহাড়ি জনপদ শিলখালী ও বারবাকিয়া ইউনিয়নও হয়েছে প্লাবিত। উপজেলার অন্য ৪ইউনিয়ন যথাক্রমে মগনামা, রাজাখালী, টইটং ও উজানটিয়াও হয়েছে বণ্যাক্রান্ত। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা বৃষ্টির পানির প্রচন্ড ঢেউয়ের তোড়ের আঘাতে খরশ্রোতা মাতামহুরী নদীর পানির ঢলের স্্েরাতে সদর ইউনিয়নের মেহের নামা, শওকত পাড়া অংশে পাউবো’র নিয়ন্ত্রিত প্রায় ২০০ফুট বেড়ীবাঁধ ৭দিন পূর্বে বিলিন হয়ে যায়। যার ফলে, ওই অংশ দিয়ে ঢলের পানি সরাসরি লোকালয়ে প্রবেশ করায় ওই ইউনিয়নের শত ভাগ ও পাশর্^বর্তী শিলখালী ও বারবাকিয়াও বণ্যা কবলিত হয়ে অধিকাংশ বসতবাড়িগুলো পানির নিচে তলিয়ে পড়েছে। এতে করে উপজেলার প্রায় দেড় লাখ মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সদর ইউনিয়নে ২হাজার মাটির ঘরসহ কাচা বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ১০হাজারেরও বেশী বাড়িঘর পানির নিচে রয়েছে। বণ্যাকবলিত এলাকার অধিকাংশ মসজিদ, মন্দির, ধর্মীয় উপসনালয়গুলো সহ শিক্ষা প্রতিষ্টান, কলেজ, সরকারী-বেসরকারী, শায়ত্বশাষিত প্রতিষ্টান রয়েছে এখনো পানির নিচে। প্রায় শতাধিক গবাদি পশু, গৃহ পালিত হাঁস-মুরগী পানির ¯্রােতে ভেসে গেছে। অপর দিকে পাহাড়ি জনপদ শিলখালী ইউনিয়নের উল্লেখযোগ্য অংশ পাহাড়ি ঢল আর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বারবাকিয়া ইউনিয়নের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকাও বন্যার পানি থেকে পায়নি রেহাই। উপজেলার ওই ৩ইউনিয়নের গ্রমীন অবকাটামো রাস্তা-ঘাট পানিতে তলিয়ে রয়েছে ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সদর ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ায় চকরিয়া-বরইতলী-মগনামা সড়কের যোগাযোগ অবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। একই সাথে আঞ্চলিক মহাসড়ক(এবিসি) এর নন্দিরপাড়া থেকে সিকদার পাড়া পর্যন্ত প্রায় ২কি.মি. এর মতো অন্যতম প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে আছে। শিলখালীর পেন্ডার ব্রিজ থেকে এতিমখানা, কাঁচারীমুরা, এতিমখানা থেকে মাঝেরঘোনা, বাঘগুজারা সাঁকোরপাড় ষ্টেশন থেকে হাজিরঘোনা, সবুজপাড়া, দোকানপাড়া, জনতা বাজার, হেদায়তাবাদ, মুন্সিমুরা, চেপ্টামুরা, জারুলবুণিয়ার বিভিন্ন অংশ পর্যন্ত টৈটং-চড়াপাড়া-বরইতলী সড়কের অধিকাংশ এলাকাই পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসন এসব ইউনিয়নের পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য বিস্তির্ণ বেড়ীবাঁধের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের একাধিক স্থানের বাঁধ কেটে দিতে বাধ্য হয়েছে। ইতিমধ্যে বন্যা কবলিত এলাকায় গত ২৪ঘন্টায় বন্যা পরিস্থিতি ধীর ধীওে উন্নতি হতে শুরু করলেও লোকালয়গুলো এখনো পানিতে তলিয়ে আছে। এতে হাজার হাজারন মানুষ এখনো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জিবন যাপন করে চলেছেন। দূর্গত এলাকার লোকজন সাইক্লোন সেল্টার, বহুতল বিশিষ্ট ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্টানসহ উঁচু স্থানে নিয়েছে আশ্রয়। বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা গেলেও পেকুয়ার প্রধান বানিজ্যিক কেন্দ্র কবির আহমদ চৌধুরী বাজার সহ বিভিন্ন অংশে গতকাল বরিবার সকাল থেকে এরিপোর্ট লেখা সময়কালীন পর্যন্তও কোথাও কোথাও পানিতে তলিয়ে রয়েছে। তবে, বিভিন্ন ব্যাবসা প্রতিষ্টান খুলতে শুরু করেছে। এদিকে পেকুয়ার ইউএনও মোঃ মারুফুর রশিদ খাঁন গত ৪দিন ধরে দূর্গত মানুষের ভোগান্তির অবসানে নিরলস চেষ্টা অব্যাহত রাখলেও খোদ উপজেলা পরিষদ ভবনও পানিতে তলিয়ে থাকায় পড়েছেন বেশ বেকায়দায়। তিনি আরও জানান, ফান্ড সংকট স্বত্বেও বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সার্বিক মনিটরিং এবং মাননীয় সংসদ সদস্য(পেকুয়া-চকরিয়া) হাজী মোহাম্মদ ইলিয়াছ আলী এমপি’র নির্দেশক্রমে ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। জানা গেছে, এপর্যন্ত ১৪মে.টন. চাল উপজেলার জন্য বরাদ্ধ পাওয়া গেছে। তৎমধ্যে গতকাল রবিবার পেকুয়া সদরের জন্য ৮মে.টন, শিলখালী ইউনিয়নের জন্য ৪মে.টন. ও বারবাকিয়া ইউনিয়নের জন্য বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে ২মে.টন চাল। আর এ বরাদ্ধকৃত চাল উপজেলা প্রশাসনের সার্বক্ষনিক মনিটরিংয়ে বিতরণ সম্পন্ন করা হয়েছে। এদিকে বণ্যা কবলিত পেকুয়ায় গতকাল বিকালে জেলা প্রশাসনের এডিসি(আইসিটি ও শিক্ষা) শাহ আবদুল হাকিমের নেতৃত্বে একটি টিম সরোজমিন পরিদর্শন ও দূর্গত মানুষের পাশে দাড়িয়ে খোঁজ খবর নিয়েছে। এসময় তিনি সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তালিকা প্রণয়ন ও পূর্ণবাসন প্রক্রিয়া গ্রহনেরও নির্দ্দেশ প্রদান করেছেন। পাশাপাশি গতকাল বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজনও দূর্ঘতদের পাশে দাড়াতে দেখা গেছে। যার মধ্যে জেলা আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী সদস্য চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জননেতা আলহাজ¦ জাফর আলম বিএ(অনার্স)এম.এ, চকরিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সঙ্গিতশিল্পী সিরাজুল ইসলাম আজাদ ও মাননীয় সংসদ সদস্য জাপা নেতা আলহাজ¦ মুহাম্মদ ইলিয়াছ এমপি, মাননীয় জেলা প্রশাসক মোঃ হোছেন আলী ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হয়ে পেকুয়া সদরের দক্ষিন ছিরাদিয়া এলাকার মোঃ নাজিরুল ইসলাম প্রমুখ চাউল, শুকনো চিড়া, মুড়ি, কলা, গুড়, বিশুদ্ধ খাবার পানি, স্যালাইন, মোমবাতি ও দিয়াশলাই বিতরণ করেছেন। এদের মধ্যে আবার সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এড. এম কামাল হোসাইন গত তিনদিন ধরে বিভিন্ন অশ্রয় কেন্দ্রে ব্যক্তি উদ্দ্যেগে রান্না করা খাদ্য সামগ্রীও বিতরণ করেন। অশ্রয় নেওয়া প্রায় ৭শত মানুষকে খিচড়ি খাবার বিতরণ করেছেন উপজেলা জাপা নেতা ও চৌমহনীস্থ ইউনাইটেড এন্টার প্রাইজ এর স্বত্বাধীকারী ব্যবসায়ী হাজ¦ী বদিউল আলম। সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান এম শাহ নেওযাজ আজাদ ও সমাজ সেবক মোঃ কাইয়ুম ব্যক্তিগতভাবে দু’শতাধিক পরিবারের মাঝে বিতরণ করেছেন খাবার। এদিকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়া এসব মানুষের ভোগান্তি নিরসনে এখনো পর্যন্ত কোন এনজিও সংস্থা বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের এগিয়ে না আসায় এলাকাবাসী হতাশ ও ক্ষুদ্ধ। বিভিন্ন এলাকায় দূর্গত মানুষকে জরুরী ত্রান সামগ্রী পৌছিয়ে দিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মারুফুর রশিদ খান জানান, বন্যা আক্রান্তের পর থেকে গত বৃস্পতিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত ৬লক্ষাধিক টাকার শুকনো খাবারসহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন উপজেলা প্রশাসন এবং ত্রাণ বিতরণ রাখা হয়েছে অব্যাহত। সেই সাথে মাতামুহুরী নদীর বেড়ীবাধ ভাঙ্গন ঠেকাতে প্রায় ত্রিশ হাজার টাকা মূল্যমানের শ্রমিক রাখা হয়েছে সার্বক্ষনিক ভাবে নিয়োজিত। পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু জানান, কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে উপজেলার অধিকাংশ এলাকার ঘড়-বাড়ি ডুবে গেছে। তবে, গত শুক্রবার রাত থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। তিনি আরও জানান, বন্যা দুর্গত এলাকায় ত্রান বিতরণ করা হচ্ছে এবং আগামী কাল থেকে তা আরো জোরদার করা হবে। এদিকে গতকাল রবিবার বিকালে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(শিক্ষা) শাহ আব্দুল হাকিম বন্যা কবলিত এলাকা সরোজমিনে পরিদর্শন করে পরিস্থিতি সম্পর্ক্যে ধারণা সংগ্রহ বিশেষ নির্দ্দেশনা দিয়েছেন। এসময় তিনি পেকুয়া সদরের গোঁয়াখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়ণ কেন্দ্র, মগনামা ও উজানটিয়া আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করে বিতরণ করেছেন ত্রাণের চাল। এবং তিনি পেকুয়ার দূর্গত এলাকায় দ্রুত পূনঃবাসন প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের আশ^াস দেন।

এই বিভাগের আরও খবর
  • ২০১৪ - ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ‌্য মন্ত্রণালয়ে আবেদিত ।
Site Customized By NewsTech.Com