1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

২৭ কিলোমিটার রাস্তাই খানাখন্দক

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
  • ১০ দেখা হয়েছে
Exif_JPEG_420

সাদ্দাম হোসাইন, হ্নীলা :
প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী টেকনাফ-কক্সবাজার সড়ক দিয়ে বিভিন্ন জেলাসহ বিভাগীয় শহরে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। সেন্টমার্টিন ও সীমান্ত শহর টেকনাফে দেশী-বিদেশী পর্যটকের আসা-যাওয়ায় ব্যস্ত থাকে টেকনাফ-কক্সবাজার মহাসড়ক। অনেক সময় এ সড়কে যানবাহন বিকল হয়ে আটকে থাকে। এ ছাড়া থাইংখালী, পালংখালী, উলুবনিয়া, হোয়াইক্যং, মধ্যম হ্নীলা, মৌলভীবাজার, ঝিমংখালী, হ্নীলা বাসষ্টেশনসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক স্পটে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব স্থানে নিত্য যানজট লেগে থাকে। সড়কটিতে খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় এমন বেহাল দশায় এ পথ দিয়ে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
টেকনাফ-কক্সবাজার ৮৯ কিলোমিটার এ সড়কের থাইংখালী থেকে টেকনাফের হ্নীলা পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটারের প্রায় অর্ধেক পথই খানাখন্দে ভরা। বর্তমানে এ সড়কটি অনেকটাই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ সড়কের কয়েকটি গর্তে মিয়ানমার থেকে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী ভর্তি ট্রাক আটকে যান চলাচল বন্ধ থাকে। কক্সবাজার থেকে টেকনাফের দূরত্ব ৮৯ কিলোমিটার। সড়কের ৮৯ কিলোমিটার যেতে সময় লাগে সাড়ে তিন ঘণ্টা। কিন্তু টেকনাফ-থাইংখালী ৪৩ কিলোমিটারেই লাগে প্রায় তিন ঘণ্টা। এর মধ্যে উখিয়ার থাইংখালী থেকে টেকনাফের হ্নীলা পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটারের পথই খানাখন্দে ভরা। সড়কটি অনেকটাই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এমন নাজুক অবস্থায় প্রতিদিন চলছে দুই শতাধিক ভারী যানবাহন।
স্থানীয় সংবাদকর্মী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, হ্নীলা থেকে থাইংখালী পর্যন্ত ২৭কিলোমিটার সড়ক এই অবস্থায় চলে গেছে কোন রোগিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে সড়কের বড় বড় গর্তে ও ঝাঁকুনিতে পথেই মৃতে্যু বরণ করা ছাড়া কোন উপায় নেই। হ্নীলা সম্ভাব্য মেম্বার প্রার্থী রফিকুল ইসলাম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হলে আগে ব্যথার ওষুধ খেয়ে বাসে উঠতে হয়। নাম প্রকাশ না করা শর্তে টেকনাফ স্থলবন্দর ব্যবহারকারী জানান, নাফ নদীর তীরে অবস্থিত বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্য পয়েন্ট টেকনাফ স্থলবন্দর। এমন জনগুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের হ্নীলা থেকে থাইংখালী পর্যন্ত ২৭কিলোমিটার স্থানে ছোট-বড় গর্তের কারণে বেহাল দশা বিরাজ করছে। সরকার প্রতিবছর এ স্থলবন্দর থেকে ৭০ থেকে ৮৫ কোটি টাকার রাজস্ব আয় করে আসছে। পুরো জেলার তিন ভাগের দুই ভাগ রাজস্ব আয় ওই স্থলবন্দর দিয়ে আসে। কিন্তু এ অঞ্চলের সড়ক উন্নয়নে কোনো ধরনের অগ্রগতি চোখে পড়ে না। প্রতবেশী মিয়ানমার থেকে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীও টেকনাফ-কক্সবাজার সড়ক দিয়ে বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
সরেজমিন দেখা গেছে, টেকনাফের হ্নীলা স্টেশনের প্রায় দেড় কিলোমিটারজুড়ে পিচ উঠে গিয়ে সড়কের অধিকাংশ জায়গায় ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পানি জমে কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ দিন সংস্কার না করায় সড়কটির এমন করুণ অবস্থা। বছরের প্রায় ছয় মাস পানি জমে রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে থাকে। এ সড়কে যাতায়াত করতে গিয়ে উপজেলার পাশাপাশি হ্নীলা ইউনিয়নের বাসস্টেশন বাজারে আসা ২৫ গ্রামের অধিবাসীরা ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। এই সড়কের গর্তে চাকা পড়লে অনেক সময় গাড়ির যন্ত্রাংশ ভেঙে যায়। ঝুঁকি নিয়ে ধীরে গাড়ি চালানোর কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানান গাড়ির চালকরা।
প্রসঙ্গত: টেকনাফ-কক্সবার সড়কের টেকনাফ থেকে থাইংখালী পর্যন্ত ৪৩ কিলোমিটার অংশ সংস্কারের জন্য ২১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে কাজ না করায় কার্যাদেশ বাতিল করা হয়। এর পর থেকে হ্নীলা থেকে থাইংখালী পর্যন্ত প্রায় ২৭ কিলোমিটার রাস্তার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন যাবত হ্নীলা বাসষ্টেশন সংস্কার না হওয়ায় যাবতীয় যানবাহন চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হলেও সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের মাথাব্যথা না থাকায় জনমনে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com