৫ উপজেলায় আজ ভোট

ভোটকেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন সাধারণ ভোটাররা
ছৈয়দ আলম, কক্সবাজার আলো :
আজ ২৪ মার্চ রবিবার কক্সবাজার জেলার মহেশখালী, পেকুয়া, রামু, উখিয়া ও টেকনাফ এই ৫ উপজেলায় নির্বাচন। যথারীতি সকাল ৮টা থেকেই ভোটগ্রহণ শুরু হবে। চলবে ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ইতোমধ্যে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে গেছে। নির্বাচনী এলাকায় চলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ কক্সবাজার জেলা ও পুলিশ প্রশাসন। এ ক্ষেত্রে চকরিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে আদর্শ হিসেবে সামনে আনা হচ্ছে। নির্বাচন উপলক্ষে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। নির্বাচনী এলাকায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। যে কোন স্থানে নির্বাচনী সহিংসতা দেখা দিলেই ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন তাঁরা।
নির্বাচনের আগে ও পরে যাতে নির্বাচনী এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে সে জন্য নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে তাঁকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি সেই নির্দেশ পালনে বদ্ধপরিকর। অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অবাধ করতে কক্সবাজার জেলা পুলিশ তৎপর রয়েছে। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালালেও তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। ম্যাজিস্ট্রেটদের পাশাপাশি নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, এবং আনসার বাহিনীর সদস্যরা। কেন্দ্রের পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকাগুলোতে ভ্রাম্যমাণ দায়িত্ব ও পালন করবেন উল্লেখিত বাহিনীগুলোর সদস্যরা। ইতোমধ্যে বাহিনীগুলোর পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সংখ্যক সদস্য নিয়োজিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী এলাকাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি অনুমতি ছাড়া যানবাহন চলাচলে জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। ইঞ্জিনচালিত নৌযান এবং যানবাহনের পাশাপাশি ব্যাটারি চালিত যানবাহন (টমটম) ও রয়েছে এই তালিকায়।
নির্বাচনী আইন ভঙ্গ করে স্থানীয় কোন সংসদ-সদস্য যাতে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে না পারেন সে ব্যাপারেও প্রশাসন সজাগ। নির্বাচনের দিন কেন্দ্রের আশপাশে নিশ্চিত করা হবে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
সরেজমিন বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে-নির্বাচনকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করেছেন প্রার্থী ও সমর্থকরা। ভোট গ্রহণে প্রস্তুত প্রশাসন। তফসিল ঘোষণার পর থেকে প্রচারণার শেষ দিন শুক্রবার পর্যন্ত প্রার্থীরা সকাল থেকে রাত অবধি ভোটের মাঠ চষে বেড়িয়েছেন। ব্যক্তি পরিচয় আর নিজেদের উন্নয়ন ভাবনা তুলে ধরে করেছেন ভোট প্রার্থনা। বসে ছিলনা প্রার্থীর সমর্থক ও আত্মীয়-স্বজনরা। তারাও নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়ে ব্যস্ত সময় পার করেছেন।
প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করলেও ভোট নিয়ে আগ্রহ নেই ৫ উপজেলার অধিকাংশ ভোটারের। পৌর শহর ও প্রার্থীদের নিজ নিজ গ্রাম ছাড়া উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় নেই নির্বাচনী আমেজ। ভোটকেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন সাধারণ ভোটাররা। জেলার প্রত্যন্ত এলাকা ঘুরে ও নানা পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এমনই চিত্র পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ভোটার বলেন, এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ছাড়া বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ না করায় ভোট নিয়ে সাধারণ মানুষের কোন মাথাব্যথা নেই। জমেনি ভোটের মাঠ। এক্ষেত্রে ভোটের মাঠে গুটিকয়েক ভোটার গেলেও তা নৌকার বিপক্ষে সীল মারবে বলে অভিমত তুলে ধরেন।
জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য মতে, জেলার পাঁচ উপজেলার ভোটগ্রহণের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ভোটগ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ পাঁচ উপজেলায় ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং প্রতি উপজেলায় একজন করে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।
ইতিমধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা নির্বাচনী বিধি রক্ষায় দায়িত্ব পালন করে আসছেন। শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকবেন সহস্রাধিক পুলিশ সদস্য। তাদের পাশপাশি থাকবেন ৩০ প্লাটুন বিজিবি ও ৬ প্লাটুন র‌্যাব।
এছাড়া পর্যাপ্ত আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন কবেন। উপকূলীয় এলাকা হিসেবে মহেশখালী উপজেলা ও টেকনাফের সেন্টমার্টিনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক কোস্টগার্ড সদস্যও দায়িত্ব পালন করবেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা জানান, ইতিমধ্যে ভোটগ্রহণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ভোটারেরা যেন নির্বিঘেœ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে সেজন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি, উৎসব মুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটাররা স্বতঃস্ফুর্তভাবে ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবে।
উল্লেখ্য আজ কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের নির্ধারিত দিন থাকলেও উচ্চ আদালতের নির্দেশে নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত পুন:তফশিল অনুযায়ী আগামী ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন।

উপদেষ্টা সম্পাদক : হাসানুর রশীদ
সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহাম্মদ শাহজাহান

নির্বাহী সম্পাদক : ছৈয়দ আলম

যোগাযোগ : ইয়াছির ভিলা, ২য় তলা শহিদ সরণী, কক্সবাজার। মোবাইল নং : ০১৮১৯-০৩৬৪৬০

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Email:coxsbazaralo@gmail.com