1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

৯ ব্যাংকে এক টাকাও আসেনি কমেছে মধ্যপ্রাচ্যের আয়

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০১৫
  • ৫১ দেখা হয়েছে

ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স-প্রবাহ কমতে শুরু করেছে। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম মাসে (জুলাই) প্রবাসীরা ১৩৮ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। এর আগের মাস জুনে এসেছে ১৪৩ কোটি ৯৩ লাখ ডলার। ২০১৪ সালের জুলাইয়ে এর পরিমাণ ছিল ১৪৯ কোটি ২৪ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, জুলাই মাসে দেশের ৯টি ব্যাংকের মাধ্যমে এক টাকাও রেমিটেন্স আসেনি। ব্যাংকগুলো হল- বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল), রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বেসরকারি খাতের মধুমতি ব্যাংক, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক (এসবিএসি), বিদেশী খাতের সিটি ব্যাংক এনএ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া। এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, যে ৯ ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স আনেনি তাদের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেখা উচিত। জুলাই মাসে রেমিটেন্স কমে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রমজানের ঈদের কারণে প্রবাসীরা আগেই বেশি রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন। এ কারণে হয়তো জুলাই মাসের হিসাবে রেমিটেন্স কমেছে। তবে আমার বিশ্বাস আগামী মাসে আবারও বাড়বে। কারণ সামনে কোরবানির ঈদ রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে ১৩৮ কোটি ৭০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। জুলাই মাসে রাষ্ট্রীয় মালিকানার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিটেন্স এসেছে ৪১ কোটি ৩৬ লাখ ডলার। বিশেষায়িত খাতের বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে আসা রেমিটেন্সের পরিমাণ এক কোটি ৭৪ লাখ ডলার। দেশীয় মালিকানাধীন বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৯৪ কোটি ডলার। আর বিদেশী মালিকানার মাধ্যমে আসা রেমিটেন্সের পরিমাণ এক কোটি ৫০ লাখ ডলার। বরাবরের মতো সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। এ ব্যাংকটির মাধ্যমে এসেছে ৩৫ কোটি ৬২ লাখ ডলার।

এদিকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশ থেকে রেমিটেন্স কমেছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব দেশ থেকে রেমিটেন্স-প্রবাহ কমায় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে আগের বছরের চেয়ে ১ দশমিক ৬ শতাংশ রেমিটেন্স কম এসেছে। অথচ তার আগের বছরে অর্থাৎ ২০১২-১৩ অর্থবছরে রেমিটেন্স বেড়েছিল ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট ১৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন (এক হাজার ২৪২ কোটি) ডলার রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছেন, যেখানে আগের অর্থবছরে পাঠিয়েছিলেন ১৪ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে কাতার, কুয়েত, ইরান, যুক্তরাজ্য, জাপান, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও হংকং থেকে কম রেমিটেন্স এসেছে। আরব আমিরাত থেকে ২০১২-১৩ অর্থবছরে এসেছিল ২৮৩ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে এসেছে ২৬৮ কোটি ডলার। কাতার থেকে ২০১২-১৩ অর্থবছরে এসেছিল ২৮ কোটি ডলার; গত অর্থবছরে তা কমে ২৫ কোটি ডলারে নেমে আসে। কুয়েত থেকে গত অর্থবছরে এসেছে ১১১ কোটি ডলার, যেখানে আগের অর্থবছরে এসেছিল ১১৮ কোটি ডলার। ইরান থেকে ২০১২-১৩ অর্থবছরে এসেছিল ২৬ লাখ ডলার। সেখানে গত অর্থবছরে এসেছে মাত্র ৪ লাখ ডলার। একইভাবে যুক্তরাজ্য থেকেও রেমিটেন্স-প্রবাহ কমেছে। এ দেশ থেকে ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৯৯ কোটি ১৬ লাখ ডলার এসেছিল। গত অর্থবছরে এসেছে ৯০ কোটি ডলার। জাপান থেকেও প্রবাসী আয় কমেছে ৪০ লাখ ডলার, সিঙ্গাপুর থেকে ৭ কোটি ডলার, অস্ট্রেলিয়া থেকে ৬০ লাখ ডলার, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৩০ লাখ ডলার ও হংকং থেকে ২০ লাখ ডলার কমেছে। তবে সামান্য বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। গত ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০১৩-১৪ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৩২ কোটি ৩৩ লাখ (২ দশমিক ৩২ বিলিয়ন) ডলার রেমিটেন্স দেশে এসেছে, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিভিন্ন দেশে প্রায় ৮০ লাখ বাংলাদেশী অবস্থান করছেন। তাদের সিংহভাগই শ্রমিক, যারা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কাজ করেন। যুক্তরাষ্ট্রে আছেন এক লাখের কিছু বেশি।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বরাবরই সৌদি আরব থেকে দেশে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স আসে। গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে এবার আগের অর্থবছরের চেয়ে কম রেমিটেন্স এসেছে। প্রতিবছরই সৌদি আরব থেকে রেমিটেন্স বাড়লেও গত অর্থবছরে তা কমেছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সৌদি আরব থেকে ৩১১ কোটি ৮৮ লাখ ডলার রেমিটেন্স এসেছে, যেখানে তার আগের অর্থবছরে ৩৮৩ কোটি ডলার রেমিটেন্স এসেছিল। এ হিসাবে সৌদি আরব থেকে গত অর্থবছরে আগের বছরের চেয়ে ১৯ শতাংশ রেমিটেন্স কম এসেছে। এর আগে ২০০৯-১০ অর্থবছরে সৌদি আরব থেকে ৩৪২ কোটি ডলার রেমিটেন্স আসে। তার আগের অর্থবছর আসে ৩২৯ কোটি ডলার। ২০১১-১২ অর্থবছর আসে ৩৬৮ কোটি ডলার এবং ২০১২-১৩ অর্থবছরে আসে ৩৮২ কোটি ডলার।

সৌদি আবর থেকে রেমিটেন্স-প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আকামা পরিবর্তনসহ ভিসা জটিলতার কারণে সৌদি আরব থেকে রেমিটেন্স-প্রবাহ কমেছে। সৌদি আরবে আকামা পরিবর্তনের (পেশা পরিবর্তন বা নবায়ন) জন্য সেখানকার শ্রমিকদের বড় অংকের অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। সে কারণে দেশটি থেকে গত অর্থবছরে রেমিটেন্স কম এসেছে।

উৎসঃ   যুগান্তর

এই বিভাগের আরও খবর

  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com