1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন- অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে বিমানবন্দর কেন্দ্রিক চোরাচালান সিন্ডিকেট

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০১৫
  • ৭৫ দেখা হয়েছে

download
নাছির উদ্দিন শোয়েব :
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কেন্দ্রিক চোরাচালান সিন্ডিকেট অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ানসহ নানা বাহিনীর তৎপরতার মধ্যেই চলছে কোটি কোটি টাকার চোরাচালান। স্বর্ণ ছাড়াও ওষুধ, ইলিকট্রনিক্স পণ্য, দেশী-বিদেশী মুদ্রা, মাদকদ্রব্যসহ কোটি কোটি টাকার পণ্য বিমানবন্দর থেকে পাচার হচ্ছে। মাঝে-মধ্যে দু’একটি চালান আটক হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আন্তর্জাতিক এই বিমানবন্দর থেকে পাচার চলছেই।
এছাড়াও মাসে শতাধিক কোটি টাকার পণ্য ঢুকে পড়ছে কোনোরকম পরিদর্শন ও ট্যাক্স পরিশোধ ছাড়াই। এতে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি পুরো বিমানবন্দর এলাকার জন্য সৃষ্টি হচ্ছে চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক কিছু কোম্পানির রয়েছে শক্তিশালী ক্যাডার বাহিনী। কেউ তাদের ওপর খবরদারি করলে এই ক্যাডার বাহিনীর মাধ্যমে তাকে শায়েস্তা করা হয়। এজন্য প্রতি মাসে মোটা অংকের মাসোয়ারা পায় ক্যাডাররা।
ঈদ উপলক্ষে চোরাচালান সিন্ডিকেট আরো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। শাহজালালকে রুট বানিয়ে পাকিস্তান, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে একদিকে যেমন শাড়ি-কাপড়, কসমেটিকস আনার চেষ্টা করছে তেমনি দেশ থেকে বিভিন্ন মালামাল বহির্বিশ্বে পাচারের চেষ্টা করছে চক্রটি। গত ৫ জুলাই একদিনেই শাহজালালে ধরা পড়ে অন্তত ৫ কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের পণ্য। এছাড়া রমযানের শুরু থেকে এ পর্যন্ত জব্দ হয়েছে প্রায় ২২ কোটি টাকার পণ্য।
মাত্র এক সপ্তাহর ব্যবধানে ফের গত রোববার ভোরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এক হাজার কচ্ছপ উদ্ধার করেছে কাস্টমস হাউজ। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এক হাজার কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়। কাস্টমস হাউজের সহকারী কমিশনার রিয়াদুল ইসলাম জানান, কচ্ছপগুলো ভিয়েতনামে পাচারের উদ্দেশে আনা হয়েছিল। পরে বিমানবন্দরের এক্সপোর্ট ভিলেজ থেকে এগুলো উদ্ধার করা হয়। এর সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। এর আগে গত ৬ জুলাই রাত ৮টার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এক্সপোর্ট ভিলেজে অভিযান চালিয়ে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশে নিয়ে আসা প্রায় তিন হাজার কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়।
ঈদকে সামনে রেখে চোরাচালান সিন্ডিকেট ভারত ও পাকিস্তান থেকে শাড়ি, থ্রি-পিস, কসমেটিকসসহ নানা পণ্যের পাশাপাশি সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আনছে আতর এমনকি খেজুরও। সূত্র জানায়, ভারত থেকে এয়ার ইন্ডিয়া ও জেড এয়ারওয়েজ এবং পাকিস্তানের করাচি থেকে আসা পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে আনা হচ্ছে এসব পণ্য। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য কেন্দ্রিক স্বর্ণ চোরাচালান চক্রও ছোট ছোট চালানের মাধ্যমে স্বর্ণ পাচারের চেষ্টা করে যাচ্ছে।
বিমানবন্দর কাস্টমস জানায়, রমযানের শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২০ কোটি টাকার মালামাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে শাড়ি, থ্রি-পিস, কসমেটিকস, আতরসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল রয়েছে। এর মধ্যে ৫ জুলাই ১৩ লাখ টাকা মূল্যের কসমেটিকসের একটি বড় চালান জব্দ করা হয়েছে। এছাড়াও একই দিনে ৩ কোটি টাকা মূল্যের ওষুধ, প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণ এবং প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বের হওয়ার সময় এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের হাতে ধরা পড়ে সৌদি আরব থেকে আসা আতরের একটি বড় চালান। বিমানবন্দর কাস্টমের উপ-কমিশনার রুহুল আমিন বলেন, প্রতি বছরই ঈদ সামনে রেখে একটি চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠার চেষ্টা করে। তবে কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারির কারণে তাদের প্রচেষ্টা খুব একটা সফল হবে না।
তিনি আরও বলেন, আমাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিছু বের হয় না, এটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে আমরা সব সময়ই চেষ্টা করে থাকি বিনা শুল্কে কিংবা অবৈধ মালামাল যেন আমাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে বের না হয়। এ ব্যাপারে আমাদের বিশেষ সতর্কতা আছে এবং এটি অব্যাহত থাকবে।
জানা গেছে, বিমানবন্দর দিয়ে বাণিজ্যিক লাগেজের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার পণ্য পাচার হয়ে আসছে। পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দুবাইভিত্তিক একটি সিন্ডিকেট এ কর্মকা-ে সক্রিয়। নিয়ম অনুযায়ী, বাণিজ্যিক লাগেজ আসার কথা কার্গো টার্মিনাল দিয়ে। সেখানে কাস্টমস পরিদর্শন শেষে ট্যাক্স পরিশোধ করে এসব লাগেজ খালাস দেয়া হয়। কিন্তু পাকিস্তানকেন্দ্রিক একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এসব বাণিজ্যিক পণ্য ট্যাক্স না দিয়ে যাত্রীদের মাধ্যমে ঢাকায় নিয়ে আসে। তারপর কাস্টমসের একটি সিন্ডিকেটকে মোটা অংকের মাসোয়ারা দিয়ে যাত্রী সাজিয়ে লাগেজগুলো পাচার করে নিয়ে যাচ্ছে।
কাস্টমসের একটি সূত্র জানায়, ডাইরেক্ট পারচেজ বা বিদেশে সরাসরি মূল্য পরিশোধের ভিত্তিতে পণ্য আমদানির অন্তরালে দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার মুদ্রা পাচার ও শুল্ক ফাঁকির ঘটনা জানাজানি হওয়ায় ব্যাগেজ আনা বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর থেকে ওই সিন্ডিকেট বিদেশী যাত্রী ও কার্গো কোম্পানির মাধ্যমে এই ব্যাগেজ ব্যবসায় নামে। এরপর থেকে যাত্রী সুবিধার কথা বলে তারা অবাধে এই পণ্য খালাস করছে। চক্রটি এতই শক্তিশালী যে অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা ব্যাগেজ বিধিমালা ভঙ্গের অভিযোগে কাস্টমস কিংবা এয়ার ফøাইট কর্তৃপক্ষ কোনো যাত্রীকে জরিমানা করলে তারা যাত্রী হয়রানির অভিযোগ তুলে আন্দোলন শুরু করে দেয়। যাত্রীদের মারধর করা, পাসপোর্ট কেড়ে নেয়াসহ নানা অভিযোগ তুলে সংশ্লি¬ষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এসব কারণে সংশ্লি¬ষ্টরা অহেতুক হয়রানির শিকার না হয়ে মালামাল ছেড়ে দেন।
বিমানবন্দরকেন্দ্রিক কিছু কিছু কোম্পানির রয়েছে শক্তিশালী ক্যাডার বাহিনী। কেউ তাদের ওপর খবরদারি করলে এই ক্যাডার বাহিনীর মাধ্যমে তাকে শায়েস্তা করা হয়। এজন্য প্রতি মাসে মোটা অংকের মাসোয়ারা পায় ক্যাডাররা। সাধারণ কর্মীরা জানান, এই ক্যাডার বাহিনীর কারণে এ এলাকায় প্রায়ই ছিনতাই, মালামাল লুট, যাত্রী অপহরণসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকা- সংঘটিত হচ্ছে। রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, ডিওএইচএস, উত্তরা, মগবাজার, মৌচাক, মতিঝিল, গুলিস্তান, এলিফ্যান্ট রোড, নিউমার্কেট, বসুন্ধরা, সায়েন্স ল্যাব, মিরপুর রোড, মিরপুর, ধানমন্ডি এলাকার কয়েকশ’ ব্যবসায়ী এই মালামাল আমদানির সঙ্গে জড়িত। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এভাবে ব্যাগেজের মাধ্যমে ১ কোটি টাকার পণ্য আনলে তাদের লাভ হয় প্রায় অর্ধকোটি টাকা। আর এলসির মাধ্যমে আনলে লাভ হয় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা। এ কারণে বিভিন্ন যাত্রীর মাধ্যমে এরা পণ্য আনা-নেয়া করে।
এদিকে মাঝে মধ্যে দুয়েকটি চালান ধরা পড়লেও সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ছে বেশিরভাগ অবৈধ স্বর্ণের চালান। আর সেসব স্বর্ণ দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বাজারে। অথচ গত দুই বছরে এক রতি সোনারও আমদানি শুল্ক পায়নি সরকার। স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে বিমানবন্দরের বিভিন্ন সংস্থার কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে- বিমান, সিভিল এভিয়েশন ও নিরাপত্তা কর্মীদের যোগসাজশে অবৈধ এসব স্বর্ণের চালান ঢুকছে। স্বর্ণ পাচারকারীদের সঙ্গে বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনকারী সিভিল এভিয়েশন, শুল্ক বিভাগ ও গোয়েন্দা সংস্থার এক শ্রেণির প্রভাবশালী কর্মকর্তা জড়িত। তাদের নির্দেশনা মোতাবেক বাইরের বিভিন্ন দেশ থেকে বড় বড় স্বর্ণের চালান বিমানবন্দর হয়ে ঢুকছে বাংলাদেশে। পাচারকারী সিন্ডিকেটের প্রলোভনে পড়ে বিমানবালা, কেবিন ক্রু, প্রকৌশলী ও যাত্রীবেশী পাচারকারীরা স্বর্ণের চালান বহন করে থাকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও শুল্ক কর্মকর্তারা বলছেন, প্রায় প্রতিদিনই সোনা চোরাচালানের ঘটনা ঘটছে। ধরা পড়ছে কালেভদ্রে একটা-দুইটা।
বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন শিমুল বলেন, চোরাচালান চক্র বিমানবন্দরে কর্মরত অন্যান্য সংস্থার চোখ গলিয়ে বের হলেও আমাদের কাছে ধরা পড়ছে। আমরা আমাদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করে যাচ্ছি। বিমানবন্দর থেকে চোরাচালানি পণ্য নিয়ে কেউ বের হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণের জন্য আমাদের গোয়েন্দা ইউনিট কাজ করে যাচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com