শনিবার , ১৫ আগস্ট ২০১৫ | ২৫শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরো
  6. ইসলাম
  7. এক্সক্লুসিভ
  8. কক্সবাজার
  9. করোনাভাইরাস
  10. খেলাধুলা
  11. জাতীয়
  12. জেলা-উপজেলা
  13. পর্যটন
  14. প্রবাস
  15. বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি

অভাব-অনটনে কাটে মৌলভীবাজেরর হাকালুকি মৎস্যজীবীদের জীবন

প্রতিবেদক
কক্সবাজার আলো
আগস্ট ১৫, ২০১৫ ১২:৩৪ অপরাহ্ণ

এম.এ.সাবলু হৃদয়, সিলেট :
হাকালুকি হাওরের তীরবর্তী গ্রাম। জনসংখ্যাবহুল এই গ্রামটির নাম সাদিপুর। আর্থিক দৈনদশার এই গ্রামটির অবস্থান মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার ভূকশিমইল ইউনিয়নে। গ্রামটি জেলে পল্লী হিসেবেই স্থানীয়দের কাছে পরিচিত। মাছ ধরা মাছ চাষ আর মাছ বিক্রি করেই চলে তাদের জীবন জীবীকা। বলতে গেলে পানির সাথেই তাদের বসবাস। গ্রামের অধিকাংশ মানুষের বসত ঘর জরাজীর্ণ। সুপেয় পানি আর স্যানিটেশনের অবস্থা বেহাল দশায়। অভাব অনটনে স্কুলের ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর পরিসংখ্যান বাড়ছে দিন দিন। মৌলিক অধিকারের কোনটিরই বাস্থবায়ন নেই ওখানে। নেই দু’বেলা দু’মোটো ভাতের নিশ্চয়তা। স্যাত স্যাতে পরিবেশে জরাজীর্ণ খুপড়ি ঘরে স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে থাকা হত দরিদ্র এ মানুষ গুলো জীবন যুদ্ধে অসহায়। গ্রামটি আয়তনে ছোট হলেও জনসংখ্যাবহুল। ছোট বড় মিলে প্রায় ৫ হাজার মানুষের বসবাস সাদিপুর গ্রামে। বর্ষা মওসুমে বাড়ির আঙ্গিনার চারপাশ পানিতেই টুই টুম্বর। কোন রকম জিয়ে থাকে তাদের মাথা গুজাবার ঠাঁই। তখন তাদের যোগাযোগের একমাত্র বন্ধু বাহন হল নৌকা। আর শুষ্ক মওসুমে চোখ যতদূর যায় ধূ ধূ বালুচর। আগেকার দিনে বর্ষা মওসুম আর শুষ্ক মওসুমের যোগসূত্র তেমন চোখে না পড়লেও এখন এমন দৃশ্য আর আলোচনা সকলের চোখে মুখে। কারণ একটাই। বদলে যাচ্ছে হাকালুকি। নানা কারণে হাকালুকি নেই আর হাকালুকির মত। দিন দিন মানুষের অযাচিত অত্যাচারে ক্ষয়ে যাচ্ছে তার রুপ যৌবন। আজ জৌলুস হারিয়ে অনেকটাই নির্বিকার চিরচেনা রূপ সৌন্দর্যের হাকালুকি। নাব্যতা হ্রাসে বর্ষা মওসুমে যেমন অল্প পানিতে বন্যা তেমনি শুস্ক মওসুমে ধুধু মরুভূমি। দিন দিন অবহেলা আর অত্যাচারে এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে হাকালুকির প্রাকৃতিক সম্পদ। হাওরের এমন দৈন্যদশায় ভাগ্য বিড়ম্বনায় পড়েছেন হাওরকে অবলম্বন করে জীবীকা চালানো হাওরতীরে এ মানুষ গুলো। ওখাকার বাসিন্দারা জানালেন ৫টি উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত ২৩৮ বিলের ঐতিহ্যবাহী বিশাল হাওরটির এখন আর নেই তার সুদিন। তারা জানালেন হাওরে এখন আগের মত মাছ নেই। নেই নানা রকমের জীববৈচিত্র্য। যে গুলো আহরন করে চলত তাদের জীবন জীবিকা। আগের মত বিল গুলোতেই ধরা যায়না মাছ। জাল যার জলাশয় তার এ নীতি না থাকায় তারা স্বাধীন ভাবে আগের মত ধরতে পারেন না মাছ। বর্ষা মওসুমে ৪ মাস হাওর এলাকায় পানি থাকায় কোন রকম মাছ ধরে তাদের সংসার চালান। আর বছরের বাকী ৮ মাসই তাদের চরম দুর্ভোগ। বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় অভাব অনটনে উপস থাকতে হয় পরিবার পরিজন নিয়ে। সরজমিনে সাদিপুর গেলে গ্রামবাসীরা জানায় তাদের এমন নানা সমস্যা আর আর্থিক দৈন্যদশার কথা। হাওর বাচাঁও, কৃষক বাচাঁও, কৃষি বাঁচাও কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি, সাবেক ভূকশিমইল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন আহমদ বাদশা জানান প্রতিবছর সরকার হাওর থেকে যে পরিমাণ রাজস্ব পায় তার সিকিভাগও যদি হাকালুকির উন্নয়নের জন্য ব্যয় হত তা হলে হাওরটির এমন দৈন্যদশা হত না

সর্বশেষ - অপরাধ