শনিবার , ৪ ডিসেম্বর ২০২১ | ২১শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরো
  6. ইসলাম
  7. এক্সক্লুসিভ
  8. কক্সবাজার
  9. করোনাভাইরাস
  10. খেলাধুলা
  11. জাতীয়
  12. জেলা-উপজেলা
  13. পর্যটন
  14. প্রবাস
  15. বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি

ঈদগাঁওতে কারিগরী শিক্ষার অভাবে গ্রামাঞ্চলে বাড়ছে বেকারত্ব

প্রতিবেদক
সৈয়দ আলম
ডিসেম্বর ৪, ২০২১ ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ

এম আবু হেনা সাগর, ঈদগাঁও :
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্টান সমুহে কারিগরী কোর্স চালু না থাকায় বহু শিক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান হচ্ছেনা। এতে গ্রামীন জনপদে বেকারত্বের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকার কারিগরী শিক্ষার প্রতি বিশেষ নজর দিলেও জেলা শহর ও পাশ্বর্বতী এলাকার তুলনার ঈদগাঁওর শিক্ষা প্রতিষ্টান সমুহের কারিগরী শিক্ষার চিত্র ভিন্ন। পাশ্বর্বতী রামু-চকরিয়ার মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্টান সমুহে ভোকেশনাল কোর্স ও আলাদা কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্টান থাকলেও ঈদগাঁওর ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্টানে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ভোকেশনাল কোর্স চালু নেই। আলাদা কারিগরী প্রতিষ্টানও নেই। যে কারনেই কারিগরী শিক্ষার অভাবে বাড়ছে গ্রামীন জনপদে বেকারত্বের সংখ্যা।

জানা যায়,বৃহৎ এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্টান ঈদগাঁও আলমাছিয়া ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসা, ঈদগাহ রশিদ আহমদ ডিগ্রী কলেজ। এসব প্রতিষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা নেই। অথচ এইচএস সি ও স্নাতক স্তর পর্যন্ত শিক্ষার্থী প্রতিবছর পড়ালেখা করছে। আর মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো হচ্ছে ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, জাহানারা ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ঈদগাহ আদর্শ শিক্ষা নিকেতন, নাপিতখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পোক খালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ও গোমাতলী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়।
এসব প্রতিষ্ঠানে কোনটিতে কারিগরি ভোকেশনাল কোর্স নেই।

পালাকাটা গোলজার বেগম দাখিল মাদ্রাসা,খোদাইবাড়ী এজি লুৎফুল কবির বালিকা মাদ্রাসা,মেহেরঘোনা শাহ জব্বারিয়া দাখিল মাদ্রাসা,ভোমরিয়াঘোনা হাজী শফিক দাখিল মাদ্রাসায় বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী সাধারণ শিক্ষা গ্রহণ করছে। পরবর্তী তে তাদের কেউ কেউ উচ্চ শিক্ষার দ্বারস্থ হচ্ছে। এ কোর্স চালু না থাকায় সম্ভাবনাময়ী অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীদের ইচ্ছে থাকা স্বত্ত্বেও মেডিকেল,প্রকৌশল এবং কারিগরি শিক্ষার উচ্চ স্তরে যেতে পারছেনা।

বিদ্যমান উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠান ও দাখিল মাদ্রাসা সমূহের কোনটিতে ভোকেশনাল কোর্স চালু নেই। যার কারণে ঘনবসতিপূর্ণ ঈদগাঁও উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের সমন্বয়ে বৃহত্তর ঈদগাঁও এলাকার হাজার হাজার শিক্ষার্থী উপ যুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেনা। কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় এসএসসি, দাখিল, এইচএসসি, আলিম,স্নাতক বা ফাজিল পাস করেও কর্মসংস্থানের অভাবে অকালে ঝরে পড়ছে। কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করতে ইচ্ছুক তাদেরকে দূরবর্তী স্থানে গিয়ে লেখাপড়া করতে হচ্ছে। ঈদগাঁও উপজেলাটি সদর থেকে আনুমানিক ৩৩ কিলোমিটার দূরে। নিম্ন-মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীদের পক্ষে আত্মনির্ভরশীল ও স্বাবলম্বী হতে অনেক সময় দূরবর্তী প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব নয়। তা ছাড়া প্রথাগত ও পূঁথিগত শিক্ষায় শিক্ষিত শিক্ষার্থীরা তীব্র প্রতিযোগিতা মুলক চাকরির বাজার থেকে অনেকাংশে ঝরে যাচ্ছে। চাকরী অভাবে বেকারত্ব হয়ে অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়ার আশংকা প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।

এলাকার সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান এবং বিশ্ববাজারে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য কারিগরি শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। কারণ উক্ত শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে তারা নিজেদের দক্ষ ও যোগ্য করে তুলতে পারবে। এ শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হলে এলাকায় বেকারের সংখ্যা অনেকাংশে কমে যাবে। বৃত্তিমূলক শিক্ষায় শিক্ষিতরা দেশ ও সমাজের উন্নয়নে আত্ম নিয়োগ করতে পারবে। এসব বিবেচনা করে এলাকাতে ভোকেশনার কোর্স চালুর দাবী জানিয়েছেন শিক্ষার্থী রিফাত, আবদুল্লাহ, ফাহিম ও সাকিব।

জাহানারা ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন জানান, নারী শিক্ষার প্রতিষ্ঠান হলেও তাঁর বিদ্যালয়ে ভোকেশনাল কোর্স নেই। এটি বাস্তবায়ন হলে নারী শিক্ষার্থীরা চাকরীর বাজারে নিজেদের দক্ষ এবং যোগ্য করে তুলতে পারবে। নারীরা বৃত্তিমূলক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নিজে দের আত্মকর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরিবার-পরিজনের ভরণ-পোষণে সহায়তা, নিজেদের সন্তান-সন্ততিদের উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারবে।

ঈদগাহ আদর্শ শিক্ষা নিকেতন শিক্ষক নুরুল ইসলাম জানান, উক্ত বিদ্যালয়ে ভোকেশনাল কোর্স নেই। যদি কারিগরী শিক্ষা চালু হয়,তাহলে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সর্বশেষ - অপরাধ