1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

ঈদের আনন্দ পৌছে যাক প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে

  • আপডেট : সোমবার, ২০ জুলাই, ২০১৫
  • ১০৫ দেখা হয়েছে

‘‘রমজানেরই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’’
মোঃ শামসুল আলম :
দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার পর বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে গত শনিবার ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হয়। এতে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমানগন অংশ নেন। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থেকে মহান আল্লাহর দিদার লাভের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানগন আল্লাহর এই শাশ্বত বিধান পালন করেন। এই রমজান মাসকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন রহমতের ১০দিন, মাগফিরাতের ১০ দিন ও নাজাতের ১০ দিন। এই রমজান মাসে এমন একটি বিশেষ রজনী পবিত্র লায়লাতুল ক্বদর। ৬১০ খ্রিষ্টাব্দে এই সৌভাগ্য রজনীতে মানব জাতির মুক্তির একমাত্র সনদ পবিত্র আল-কুরআন অবর্তিন হয়। নাযিলকৃত মহাগ্রন্থ আল-কুরআন এ রাতেই নাযিল হয়। সূরাতুল ক্বদরে এ রাতের তিন বৈশিষ্টের কথা বলা হয়েছে। (১) এ রাতে কুরআন নাযিল হয়েছে, (২) এ রাত হাজার মাস (৮৩ বছর ৪ মাস) অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ এবং (৩) এ রাতে জিবরাইল আঃ অগনিত ফেরেশতা সহ শান্তির পয়গাম নিয়ে দুনিয়ায় অবতরণ করেন। সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে বৈধ উপায়ে অর্জিত হালাল খাদ্য নিয়ে ইফতার করা। তার একটু পরেই এশার নামাযের সঙ্গে অতিরিক্ত তারাবীহর বিশ রাকাতা নামাজ পড়া, ঘুমানোর আগে রাতের কিছু অংশে কোরআন শরীফ ও হাদিস অধ্যয়ন করা। শেষ রাতে উঠে সেহরির আগে কয়েক রাকাত তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে আল্লাহর নিকট গুনা মাফের জন্য কান্নাকাটি করা। এভাবে ক্রমাগত ভাবে ৩০টি দিন গোটা মুসলিম উম্মাহ এক বিশেষ ট্রেনিং নিয়ে থাকে। এমন একটি সামগ্রিম প্রশিক্ষণের ফলে গোটা বিশ্বময় সৃষ্টি হয় এক মনোরম বেহেশতি ও তাকওয়ার পরিবেশ। আর এ রকম একটি জান্নাতি পরিবেশের দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে প্রতিটি মুসলমানের অন্তর ভরে যায় তাকওয়া আর পরহেজগারীর ফলে মিটে যায় নফস ও দেহের যাবতীয় অবৈধ ও অনাঙ্কিত চাহিদা। তাকওয়া প্রশিক্ষণের ফসল। গত ১৪ জুলাই মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর  উদ্যাপিত হয়। এই কষ্টসাধ্য সাধনার পর মহান আল্লাহ মুসলিম উম্মার জন্য ঈদুল ফিতরের বিধান দিয়েছেন। প্রকৃত অর্থে এই ঈদ ধনী, গরীব, উচু, নীচু সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে একত্রিত হওয়া। প্রতি বছর ২৬ রমজান দিবাগত রাতে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর পালিত হয়। পবিত্র কোরআন শরীফে এই রাতকে হাজার বছরের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করা হয়েছে। ৬১০ খ্রিষ্টাব্দে এই সৌভাগ্য রজনীতে মানব জাতির জন্য মুক্তির একমাত্র
সনদ পবিত্র আল-কোরআন অবর্তিন হয়। মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) ৪০ বৎসর বয়সে আরব দেশের হেরাগুহায় ধ্যানমগ্ন অবস্থায় মাবন জাতির পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান কোরআনের সর্ব প্রথম বাণী লাভ করেন এবং নবুয়তপ্রাপ্ত হন। লাইলাতুল ক্বদর সম্পর্কে হযরত আয়েশা  (রাঃ) মহানবী (সাঃ) এক হাদিস বর্ণনা করেন। ‘তোমরা  শবেক্বদরকে রমজান মাসের শেষ দশকের বেজোর রাত গুলোতে সন্ধান করো।  মহানবী (সাঃ) বলেন, রমজানের মধ্য ভাগে মাগফিরাত শুরু হয়। কারণ রোজার একাংশ অতিবাহিত হওয়ার দরুন তার প্রতিদান ক্ষমার দ্বারা শুরু হয় এবং শেষাংশে দোজক থেকে মুক্তিলাভ। কাজেই রোজা কেবল সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে শুধু বিরত থাকা নয় বরং এ রোজা আমাদের হাতের রোজা, আমাদের পায়ের রোজা, আমাদের চোখের রোজা, আমাদের রক্তের রোজা, আমাদের জিহ্বার রোজা, এ রোজা আমাদের কান ও অন্তরের রোজা। এভাবে এক মাসের সিয়াম সাধনার অগ্নি পরীক্ষার ভেতর দিয়ে অস্তিত্বকে বাস্তব ও সত্য করে তুলে মানুষের জীবনকে পবিত্র করে মাহে রমজান। মহান আল্লাহ প্রত্যেক মুসলমান (প্রাপ্ত বয়স্ক) নর নারীর উপর রমজান মাসে রোজা রাখা ফরয করেছেন।  যেমনটি তাদের পূর্ববর্তী পুরুষদের বেলায়ও ফরয করা হয়েছিল। মহান আল্লাহ তার রাসুলকে একটা পূর্নাঙ্গ ও ত্রুটিহীন জীবন ব্যবস্থা দিয়ে পাঠিয়েছেন। এই জন্য যে, তিনি যেন দুনিয়া থেকে সকল অন্যায়, অবিচার, অশান্তি দুর করে ন্যায়, সুবিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। মহানবী (সাঃ) সীমাহীন অত্যচার সহ্য করে, অতুলনীয় সংগ্রাম করে একটা জাতি গঠন করেন, যার নাম উম্মতে মোহাম্মদী।

লেখক, সাংবাদিক ও কলামিষ্ট
মোবা : ০১৭২১০৪৫১৭৪

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© ২০১৪ - ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
Site Customized By NewsTech.Com