1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

এবার এরশাদের হ্যাঁ, রওশনের না

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০১৫
  • ৮৩ দেখা হয়েছে

138437_1

সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকা না থাকার প্রশ্নে এবার নতুন মেরুকরণ দেখা দিয়েছে এইচএম এরশাদের জাতীয় পার্টিতে (জাপা)। এরশাদ পত্নী ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ চান দলীয় নেতাদের মন্ত্রিসভা থেকে বের করে আনতে। গতকাল রবিবার সংসদ ভবনে আওয়ামী লীগের দুই জ্যেষ্ঠ নেতা-দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করে নিজের এই চাওয়ার কথা জানিয়েছেন রওশন। আর জাপাকে মন্ত্রিসভা থেকে বের করে আনতে এতদিন বাইরের বক্তব্য-বিবৃতিতে ‘সোচ্চার’ থাকা এরশাদের এবার উল্টো রথ। শুধু মন্ত্রিসভায় থাকার পক্ষেই নন এরশাদ, তিনি মন্ত্রিসভায় জাপার সদস্য সংখ্যা তিন থেকে বাড়িয়ে পাঁচ করতে তত্পর হয়ে উঠেছেন। সহোদর জিএম কাদের ও দলের মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকেও মন্ত্রী করতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছেন জাপা চেয়ারম্যান।

সংসদের অধিবেশন চলাকালেই গতকাল সংসদ ভবনে বিরোধী দলের লবিতে আওয়ামী লীগ নেতা-শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করেন রওশন এরশাদ। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে প্রায় ১০ মিনিটব্যাপী এই বৈঠকে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ ও বিরোধী দলীয় নেতার রাজনৈতিক সচিব ফখরুল ইমামসহ দলটির আরো দু’-তিনজন সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে আওয়ামী লীগের এই দুই জ্যেষ্ঠ নেতাকে রওশন বলেছেন ‘আমরা (জাপা) শুধু বিরোধী দল হিসেবেই থাকতে চাই। সরকারে থাকা আমাদের ঠিক হচ্ছে না। দেশি-বিদেশি অনেকের সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে, কেউ বিষয়টিকে ভালোভাবে দেখছে না। আমাদের তো তিনজন মন্ত্রিসভায় রয়েছেন। আপনারা (সরকার) তাদেরকে পদত্যাগ করতে বলুন। তাহলে বিষয়টি আপনাদের (সরকারের) জন্যও ভালো হবে, আমাদের জন্যও ভালো হবে। আপনারা চিন্তা-ভাবনা করুন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলুন। আমরাও আমাদের দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলবো। আমাদের দলও চায় মন্ত্রিসভা থেকে বেরিয়ে আসতে।’

সূত্রের দাবি, এসময় রওশনকে আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, সরকারের এই পর্যায়ে এসে মন্ত্রিসভা থেকে জাপার বের হয়ে যাওয়াটা রাজনৈতিকভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত হবে বলে মনে হয় না। একথা ঠিক, বিষয়টি নিয়ে শুরুতে কিছু কথাবার্তা ছিল, বিতর্ক ছিল, অনেকে সমালোচনা করেছে। কিন্তু এতদিনে বিষয়টি স্বাভাবিক হয়ে গেছে। সুতরাং এখন মন্ত্রিসভা থেকে বের হয়ে আসার প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করছি না। আওয়ামী লীগের এই দুই নেতা রওশনকে এ-ও বলেছেন, মন্ত্রিসভা থেকে জাপার বের হয়ে আসার সময় এখনও আসেনি। বিষয়টি নিয়ে আরো ভাবনা-চিন্তা করতে তারা রওশনকে অনুরোধ করেন।

বৈঠকের বিষয়টি ইত্তেফাককে নিশ্চিত করলেও আলোচনার বিষয়ে কিছু জানাতে অস্বীকৃতি জানান জাপার জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ। তিনি ইত্তেফাককে শুধু এটুকু বলেন ‘সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে।’

আমু-তোফায়েলের সঙ্গে রওশনের যখন এই বৈঠক চলছিল, তখন সংসদ অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে তোফায়েল আহমেদকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার পাশের আসনে বসে দীর্ঘক্ষণ কথা বলতে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, রওশনের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়েই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন তোফায়েল আহমেদ।

রওশন এখন মন্ত্রিসভায় থাকার বিরোধিতা করলেও চলতি দশম সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রথম বক্তৃতায় তিনি বলেছিলেন ‘অনেকে মন্ত্রিসভায় জাপার থাকা নিয়ে সমালোচনা করছে। এটা একটি নিউ কনসেপ্ট (নতুন ধারণা)। যেমন আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি ছিল না, তখন সেটিও আমাদের কাছে নিউ কনসেপ্ট ছিল।’

জাপার বিভিন্ন পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মন্ত্রিসভা থেকে বের হয়ে আসতে রওশনের ‘হঠাত্’ তত্পরতা এবং এরশাদের বিপরীত অবস্থান নেয়ার পেছনে রাজনৈতিক কোনো সমীকরণ থাকতে পারে। আবার সরকার থেকে বাড়তি সুযোগ-সুবিধা আদায় করতে এটি এরশাদ-রওশনের সমঝোতার খেলাও হতে পারে।

উৎসঃ   ইত্তেফাক

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com