বৃহস্পতিবার , ১৬ ডিসেম্বর ২০২১ | ২৫শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরো
  6. ইসলাম
  7. এক্সক্লুসিভ
  8. কক্সবাজার
  9. করোনাভাইরাস
  10. খেলাধুলা
  11. জাতীয়
  12. জেলা-উপজেলা
  13. পর্যটন
  14. প্রবাস
  15. বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি

কক্সবাজারে লাখো পর্যটক, খালি নেই হোটেল ও জাহাজের টিকেট

প্রতিবেদক
সৈয়দ আলম
ডিসেম্বর ১৬, ২০২১ ৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ

ছৈয়দ আলম, কক্সবাজার আলো :
বিজয় দিবসের ছুটিতে লাখো পর্যটকে এখন সরব দেশের পর্যটন শহর খ্যাত সৈকত নগরী কক্সবাজার। দেশি-বিদেশি পর্যটকের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে কক্সবাজার সৈকত, অলিগলি ও পর্যটন স্পটগুলো। সমুদ্র সৈকতসহ জেলার পর্যটন স্পটগুলো পর্যটকদের কোলাহলে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য হয়ে উঠেছে। রাস্তাঘাটে সৃষ্টি হচ্ছে মারাত্মক যানজট। একদিকে যানজট, অপরদিকে মিলছে না যানবাহন। খালি নেই চার শতাধিক হোটেলের কোন কক্ষ। বিজয় দিবসের ছুটিতে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়ে কোথাও কোথাও পাওয়া যাচ্ছে হয়রানির অভিযোগও। সবচেয়ে অভিযোগ বরাবরের মতো হোটেল ব্যবসায়ীরা দ্বিগুন-তিনগুন দাম নিচ্ছে রুমের। আবার খাবার হোটেলেও চড়া দাম নিচ্ছে এতে প্রতিনিয়ত ঠকছে আগত পর্যটকরা।

খবর নিয়ে জানা গেছে, শহরের ৫০০ শতাধিক হোটেলের প্রায় কক্ষ কয়েকভাগে আগাম বুকিং হয়ে গেছে। প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শেষে ছুটির দিনগুলোতে অবকাশ যাপনের জন্য হাজার হাজার পর্যটক কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে অস্বাভাবিক পর্যটকের আগমন ঘটে কক্সবাজারে।

ওদিকে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের কোন জাহাজেই খালি সিট মিলছে না। সব জাহাজের টিকেট অগ্রীম বিক্রি হয়ে গেছে। এবার বৃহস্পতি, শুক্রবার ও শনিবার সরকারি ছুটি হওয়ায় অনেকেই অবকাশে আসেন কক্সবাজারে। প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে বিজয় দিবসের ছুটির মাধ্যমে নতুন বছরের প্রথম দশদিন পর্যটকের ভিড়ে ডুবে যায় কক্সবাজার। এবছরও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তবে গত দুইবছর মহামারির কারনে এমন পর্যটক কক্সবাজারে আসতে পারেননি। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ছাড়া সেন্টমার্টিন, মহেশখালী, হিমছড়ি, ইনানী, দরিয়ানগর, সোনাদিয়া, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কসহ পর্যটন এলাকাগুলো বিপুল পর্যটক সমাগমে যেন পর্যটনে সুদিন ফিরেছে। কক্সবাজার শহরের বার্মিজ মার্কেট, বৌদ্ধ মন্দির ও রামুর বৌদ্ধ মন্দিরেও পর্যটক আনাগোনা প্রচুর। হোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, বিজয় দিবসের ছুটিতে হোটেল, গেস্ট হাউজ ও কটেজ পর্যটকে ভরে গেছে।

বুধবার বিকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, সমুদ্র সৈকতের লাবণী, সুগন্ধ্যা ও কলাতলি পয়েন্টে পর্যটক আর মানুষ। চারিদিকে ঢল নামে। এরসাথে যোগ হয়েছে কক্সবাজার শিল্প ও বানিজ্য মেলা। ১৫ ডিসেম্বর বিকাল ৪ টায় পর্যটন গলফ মাঠে এ মেলা উদ্বোধন হয়। টেকনাফ-সেন্টমার্টিন ও কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটের পর্যটকবাহী ৮টি জাহাজের টিকেটও শেষ। বিজয় দিবসের ছুটিতে অবকাশ যাপনের জন্য ভ্রমণ পিপাসু হাজার হাজার মানুষ আসছেন।

হোটেল মালিকরা জানান, বৃহস্পতিবার বিজয় দিবসের ছুটির সাথে সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা তিন দিন সরকারি ছুটি। বুধবারই অফিস-আদালত শেষ হয়েছে। এ কারনে বিকাল থেকেই সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীরা কক্সবাজারমূখী হয়েছেন। তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কক্সবাজারে পর্যটকদের উপচে পড়া ভীড় হবে বলে মনে করেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।

হোটেল ব্যবসায়ীরা বলেন, কক্সবাজারের প্রায় ৫০০ হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউসে প্রায় দেড় লাখ পর্যটকের রাত যাপনের সুবিধা রয়েছে। বিজয় দিবসের ছুটি উপলক্ষে আগামী তিন দিনের জন্য শতকরা প্রায় নব্বই ভাগ কক্ষ আগাম বুকিং রাখা হয়েছে।

প্রতিবছর দুই ঈদ, দূর্গাপুজা ও ইংরেজি নববর্ষে কক্সবাজারে সর্বোচ্চ পর্যটকের ঢল নামে। তবে করোনার কারণে গতবছর মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৫ মাস বন্ধ ছিল কক্সবাজারের পর্যটন কেন্দ্র। তবে আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকে সীমিত পরিসরে পর্যটন শিল্প খুলে দেয়ার পর গত ইংরেজি নববর্ষে কক্সবাজারে পর্যটক সমাগম অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। এসময় একদিনেই কক্সবাজারে ১০ লক্ষাধিক পর্যটক সমাগম ঘটে বলে জানান পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তাদের ধারণা, করোনার টিকা চালু হওয়ায় এ বছর পর্যটকদের ঢল আরো তীব্র হতে পারে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায়ও চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত কক্সবাজারের পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে গত ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার সময় করোনা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই লক্ষাধিক পর্যটক ভীড় করে শহরতলীর বিভিন্ন সৈকতে।

সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারী ট্যুরস এন্ড সার্ভিসেস কক্সবাজার অফিস ইনচার্জ নুর মোহাম্মদ ছিদ্দিকী বলেন, ‘আগামী ৩১ ডিসেম্বর (থার্টিফাস্ট নাইট) পর্যন্ত তাদের জাহাজে টিকেট সঙ্কট রয়েছে। এতদিন ভ্রমণপিয়াসু লোকজন বের হতে পারেননি নানা কারণে। এখন প্রতিদিন যাত্রী ও পর্যটকরা টিকেটের জন্য ভিড় করছেন। আমরা কাউকে টিকেট দিতে পারছিনা।

ট্যুর অপারেটর ওনার্স এসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টুয়াক) সভাপতি রেজাউল করিম রেজা জানান, এ মাসের শুরু থেকে বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে কক্সবাজার। হোটেল-মোটেলে যেন ঠাঁই নেই অবস্থা। সেন্টমার্টিনগামি জাহাজ সমুহের টিকেটও আগাম বুকিং হয়ে যাচ্ছে। তিনি আশা করেন, এ মাসে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক কক্সবাজারে বেড়াতে আসবেন।

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা সাংবাদিক মাজহার মাহবুব জানান, কভিড-১৯ এর কারনে গত দু’বছর আসা হয়নি। তাই এবার ছুটিটা কাজে লাগিয়ে দিলাম। অনেক ভালো লাগছে বেড়াতে এসে। দেখলাম ভিড়ের মাঝে পর্যটকরা কক্সবাজারে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার না হন সে জন্য সাদা পোশাকধারি পুলিশ ও সৈকতে ট্যুরিস্ট পুলিশ বেশ সক্রিয় রয়েছে। এটি ভালো হয়েছে। তবে যথেষ্ট পরিবহন সংকট রয়েছে।

কক্সবাজার হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার জানান, বিজয় দিবসের ছুটিতে চার শতাধিক হোটেল, গেস্ট হাউজ ও কটেজ পর্যটকে ভরে গেছে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাস ভরপুর থাকবে পর্যটকে।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার মো: জিল্লুর রহমান জানান, বিজয় দিবসের ছুটিতে পর্যটকের ঢল নেমেছে কক্সবাজার সৈকতে। শুক্রবার, শনিবার বিকালে সৈকতের ডায়াবেটিক পয়েন্ট থেকে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত লাখো পর্যটকের উপস্থিতি হয় প্রতিবছর। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সব সময় তৎপর রয়েছে বলেও জানান তিনি।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ জানান, লাখো পর্যটকের ভীড়ের মাঝে কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেজন্য জেলা প্রশাসনের সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির পর্যটন সেলের সদস্যরাও ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সৈকতে দায়িত্ব পালন করবে। কোন পর্যটক হয়রানীর শিকার হলে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট ও ট্যুরিষ্ট পুলিশের সহযোগিতা নেয়ার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।

সর্বশেষ - অপরাধ