1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

কক্সবাজার বিমানবন্দর: ১১১ কোটি টাকার চেক পেলো ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকেরা

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১৬ জুন, ২০২১
  • ৫৭ দেখা হয়েছে

এম.এ আজিজ রাসেল :
কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প এলাকার ভূমি অধিগ্রহনের ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ১১১ কোটি ৭ লাখ ২৩ হাজার ৮০২ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করেছে জেলা প্রশাসন। বুধবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ৭০ জনের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এটি একদিনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিপূরণের টাকা বিতরণের ঘটনা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন পর ক্ষতিপূরনের চেক হাতে পেয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করেছে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকরা। তারা এমন উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, এই প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহনের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭৬ কোটি টাকা। এর আগে বিভিন্ন ধাপে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে প্রায় ২০০ কোটি টাকার চেক বিতরণ করা হয়।
ক্ষতিপূরণের চেক হাতে মো. শাহাবুদ্দীন বলেন, কোথাও কোন টাকা না দিয়ে স্বচ্ছতার সাথে এই টাকা পেয়েছি। আমি খুব খুশি।
চেক হাতে পেয়ে প্রায় একই কথা বলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহেরও।

তিনি বলেন, এই ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন থেকে আমি সব ধরনের সহযোগিতা পেয়েছি। সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।

অনুষ্ঠানে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, যারা নিজের জায়গা—জমি ভিটেমাটি দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতকে প্রশস্ত করেছেন তাদের আমি ধন্যবাদ জানাই। এই ক্ষতিপূরণের টাকা দীর্ঘদিন ধরে জমা পড়ে ছিল। এখানে মধ্যস্বত্বভোগীর কোন হাত নেই। আমরা চেষ্টা করেছি, যার টাকা তাকে দিতে। আমরা চাই, আপনারা যারা ক্ষতিগ্রস্ত, আপনাদের টাকা আপনারাই যেন পান। আমরা যে সুবিধা নিইনা, সেই সুবিধাটা যেন মানুষ নিতে পারে। সেবাটা যেন মানুষ পায়।

তিনি বলেন, কি কাগজ দিলে আপনারা ক্ষতিপূরণ পাবেন তা আপনাদের জানতে হবে। এ বিষয়টিকে আমরা সহজ করবো। সচেতনতার জন্য আমরা লিফলেট তৈরি ও বিতরণ করার উদ্যোগ নিচ্ছি।

বক্তব্য কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুজিবুল ইসলাম ক্ষতিগ্রস্ত জমিরি মালিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা এ উন্নয়ন তরান্বিত করেছেন। জায়গা দিয়ে আপনারা শুধু কক্সবাজার নয়, দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা রেখেছেন।

কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু তাহের বলেন, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনেক বড় প্রকল্প নিয়েছেন। তিনি চান যারা জমি দিচ্ছেন তারা যেন কোন প্রকার ভোগান্তি ছাড়াই তাদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ পান। এ ধরনের ক্ষতিপূরণের চেকগুলো সাধারণত অফিসে দেওয়া হয়। কিন্তু জেলা প্রশাসন প্রকাশ্যে এ চেক বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছেন। যা প্রশংসনীয়।

কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কায়সারুল হক জুয়েল বলেন, যারা এ প্রকল্পর জন্য ধানক্ষেত, ভিটেমাটি দিয়েছেন তারা কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমান উন্নয়ন প্রকল্পের অংশীদার।

প্রকল্প পরিচালক সরকারের উপসচিব শফিকুল ইসলাম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারকে নিয়ে সবসময় চিন্তা করেন। কক্সবাজার বিমানবন্দরকে দেশের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে রুপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছেন। ৩২৩ একর জমি প্রথম পর্যায়ে অধিগ্রহন করা হয়। আপনারা সকলে উন্নয়ন কার্যক্রম সহযোগিতা করেছেন। এ জন্য আমরা আপনাদের নিকট কৃতজ্ঞ।

মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আবছার বলেন, এটি খুবই ভালো একটি উদ্যোগ। ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে নানা জটিলতা তৈরি হয়। এখানেও সামান্য হয়েছিল। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের সেই সমস্যা দূর হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিচ্ছেন। আজকে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে আমার নুনিয়ারছড়া এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত টাকা পেয়েছেন। এ জন্য আমি জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।

জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এড. ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, একটা দেশের উন্নয়নের জন্য কিছু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেশের সতেরো কোটি মানুষের জন্য এই উন্নয়ন। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিককে মৌজা রেইটের তিনগুণ ক্ষতিপূরণ দিয়ে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে বর্তমান সরকার। অতীতের কোন সরকার এ ধরনের উদ্যোগ নেয়নি।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এড. সিরাজুল মোস্তফা বলেন, দীর্ঘদিন পরে হলেও আজ এখানে উপস্থিত সকলের মুখে আমি আনন্দের অনুভূতি দেখতে পাচ্ছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য আমাদের সহযোগিতা করার জন্য। আমরা সেই সহযোগিতা সবসময় করেছি। আজকে যে মানুষ তিনগুণ ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতার প্রতিফলন।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com