1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

চকরিয়ায় পুলিশ-যুবলীগ-শ্রমিকলীগের ত্রিমুখী সংর্ঘষ : গুলিবিদ্ধ ওসিসহ আহত ১৫ জন : গ্রেফতার ৬

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০১৫
  • ৮৪ দেখা হয়েছে
বিশেষ প্রতিবেদক :
চকরিয়া পৌরসদরে মহাসড়কের পাশের ফল ব্যবসায়িদের উচ্ছেদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও যুবলীগ-শ্রমিকলীগের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় চকরিয়া থানার ওসি, এসআই, সাংবাদিক ও যুবলীগ নেতা সহ ১৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে। এঘটনায় আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও শ্রমিকলীগের ১০ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ ১৬জুলাই বিকাল সাড়ে ৪টায় চকরিয়া পৌরশহরের চিরিঙ্গা এলাকায় এঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে চকরিয়া পৌরশহরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন মুহুর্তে আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছে এলাকাবাসী। এ সময় ঈদের কেনা কাটা করতে আসা নারী পুরুষ দিকবেদিক পালাতে থাকে । মুহুর্তের মধ্যে পৌরসদর ফাঁকা হয়ে যায়। সংঘর্ষে পুলিশের পক্ষ থেকে অন্তত ২০রাউন্ড গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলে জানান পুলিশের এক কর্মকর্তা। শহরের গুরুত্বপূর্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে রাত সাড়ে ৮টার দিকে সৈনিকলীগের নেতাকর্মীরা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের জিদ্দাবাজার এলাকায় গাছ কেটে বেরিকেড় সৃষ্টি করেছে। এতে এক ঘন্টা ধরে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ওইসময় বিক্ষুব্ধ সৈনিকলীগের কর্মীরা ১০/১২টির গাড়িও ভাঙচুর করেছে বলে জানান গাড়িতে থাকা যাত্রীরা।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১১টায় চকরিয়া পৌরশহরের চিরিঙ্গা সড়কের ওপর ভাসমান ফল ব্যবসায়িদেরকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। তাদেরকে সকালে উচ্ছেদ করলেও বিকাল তিনটায় পূনরায় সড়ক দখল করে ফল ব্যবসা শুরু করে। খবর পেয়ে চকরিয়া থানার এসআই রুহুল আমিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ এসে ফল ব্যবসায়িদের উচ্ছেদ করে। ওইসময় বদিউল আলম নামে এক ফল ব্যবসায়িকে মারধর করে পুলিশ। ওই ফল ব্যবসায়িকে কেন মারধর করা হয়েছে তা পুলিশের কাছে জানতে চান চিরিঙ্গা সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। এতে পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে তাকেও মারধর করা হলে ঘটনা বাড়তে থাকে। মুহুর্তের মধ্যে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন জাহাঙ্গীর আলমের ছোট ভাই চকরিয়া পৌর যুবলীগের সভাপতি হাসানগীর ও শ্রমিকলীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম সহ ২০-৩০জন নেতাকর্মী। পুলিশ ও যুবলীগ-শ্রমিকলীগের মধ্যে বাক বিতন্ডার এক পর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এসময় পুলিশ নেতাকর্মীদের লক্ষ্য ব্যাপক লার্ঠিচার্জ করে। একপর্যায়ে পুলিশ ও শ্রমিকলীগের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। টানা দুই ঘন্টা ধরে চিরিঙ্গা শহরে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশ যুবলীগ ও শ্রমিকলীগকে লক্ষ করে অন্তত ২০রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এতে চকরিয়া থানার ওসি (তদন্ত) কামরুল আজম (৪০), সাংবাদিক জাহেদ চৌধুরী (৪৭), সাবেক চিরিঙ্গা সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম (৪৫), পৌর যুবলীগের সভাপতি হাসানগীর (৩৪), তার ছোট ভাই পৌর শ্রমিক লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম (২৫), পৌর যুবলীগের সহ-সভাপতি খলিল উল্লাহ চৌধুরী (৩০), ৯নং ওয়ার্ড় আওয়ামীলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম (৩৬), যুবলীগ নেতা মানিক (৩৪), চকরিয়া কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তোয়াছিন আনোয়ার জিহান, পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কামরুল ইসলাম রোমনসহ ১৫জন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হন। তাদেরকে স্থানীয় হাসপাতালসহ মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রীষ্টান হাসপাতাল ও চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এসময় পুলিশের এসআই রুহুল আমিন, এএসআই ফারুক সহ বেশ কয়েক জন কনেষ্টবল মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে জানা গেছে। তাদেরকেও চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এঘটনায় পুলিশ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও শ্রমিকলীগের ১০জন নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে চকরিয়া পৌরশহরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
চকরিয়া থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর জানান, ফল ব্যবসায়িদের উচ্ছেদের বিষয় নিয়ে অহেতুক ভাবে যুবলীগ –শ্রমিকলীগের নেতাকর্মীরা পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে ব্যাপক মারধর করেছে। এতে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ও কনেষ্টবল আহত হয়েছে বলে তিনি জানান। এঘটনায় ৬জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের কথা জানান। এদিকে আওয়ামীলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা পুলিশি হামলার প্রতিবাদে পৌরশহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে চকরিয়া জিদ্দাবাজারস্থ মহা সড়কে গাছ ফেলে বেরিকেড় সৃষ্টি করেছে সৈনিকলীগের নেতাকর্মীরা। বর্তমানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শহরে বিপুল পরিমাণ মোতায়েন করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর
  • ২০১৪ - ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ‌্য মন্ত্রণালয়ে আবেদিত ।
Site Customized By NewsTech.Com