1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

টেকনাফে সন্তান হারা মায়ের বিলাপ থামছে না

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০১৫
  • ৮৬ দেখা হয়েছে

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ :
মানবপাচারকারীরা স্বপ্নবিভোর দরিদ্র লোকজনকে স্বপ্ন দেখার প্রলোভন দিয়ে সমুদ্র পথে মালয়েশিয়া থাইল্যান্ড পাচার করে যে সব নৃশংস কান্ড ঘটিয়েছে তা দেখে বিশ্ববাসী বিস্মিত। কিন্তু মানব পাচারকারীদের নৃশংসতার শিকার লোকজনের পরিবারের পরিণতি স্বচক্ষে দেখে হতবাকে দমবন্ধ হয়ে পড়ে। বড় হওয়ার স্বপ্ন তথা বিপুল অর্থকড়ির মালিক হওয়ার মত নানা প্রলোভন দিয়ে দেশের দরিদ্র লোকজনকে ট্রলারে তুলে সমুদ্র পথে পাচার করে নিয়ে যায় তাদের নরক আস্তানায়। সেখানে দরিদ্র লোকজনের নরক যন্ত্রণা আর কষ্টের সীমা থাকে না। বন্দি রেখেই বর্বর নির্যাতন চালিয়ে মোটা অংকের অর্থ আদায় করে পাচারকারীরাই বিপুল অর্থকড়ির মালিক ও এ সময় কালের কোটিপতি। টাকার জন্য পাচারকারীরা অসহায় লোকজনদেরকে সাগরের গভীর জলে ও থাইল্যান্ড মালয়েশিয়ার বন জঙ্গলে নির্মমভাবে হত্যা করে। দরিদ্র মানুষের রক্ত পিপাষু মানব পাচারকারীরা এভাবে জঘন্য হত্যা কান্ড ঘটিয়ে অসংখ্য মায়ের বুক খালি করে। এমনি একজন সন্তানহারা মা আয়েশা বেগম (৫২)। টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের খারাংগ্যাঘোনাস্থ বাসিন্দা এ আয়েশা বেগম এখন সন্তান, ভিটা বাড়ি সব কিছু হারিয়ে সর্বশান্ত। তার পুত্র মোস্তাক আহমদকে স্থানীয় উলুবনিয়া এলাকার জনৈক দালাল প্রলোভন দিয়ে টেকনাফ হতে ট্রলারে তুলে দেয় গত ৮ মাস পূর্বে। দালাল চক্র থাইল্যান্ড উপকূলে নিয়ে গিয়ে বন্দিশালায় দীর্ঘদিন আটক রেখে মুক্তিপণ দাবী করে। মুক্তিপণের অর্থ যোগাড় করতে সময় হওয়াতে তাকে সেখানে অন্যান্য মানব পাচারকারী চক্রের হাতে বিক্রি করে। এভাবে হাটে বিক্রি হয় একাধিক বার। তৎমধ্যে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তার পিতা মাতার কাছ থেকে দালাল চক্র ৪ লাখ টাকা আদায় করে। এ ৪ লাখ টাকা নিজের ভিটা বাড়ি বন্ধক ও পরবর্তীতে শোধ করার আশ্বাসে স্ট্যাম্প মূলে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ঋণ নেয়। এমতাবস্থায় রাক্ষুসে মানব পাচারকারীর ধারাবাহিক আঘাতে করুণ যন্ত্রণায় মৃত্যু বরণ করে মোস্তাক। সন্তানের এ করুণ মৃত্যুতে এ করুণ মৃত্যুতে অসহায় মায়ের দীর্ঘদিন ধরে কান্নার বিলাপ থামছে না। গভীর রাতে কান্নার বিলাপ শুনে পাড়া পড়শিদের চোখের পানি ঝরে পড়ে। এ অসহায় মা আয়েশা মানুষ্যরুপের জানোয়ার আদম পাচারকারীদের নৃশংসতায় আদরের সন্তানকে হারাল। আর দালাল চক্রের আইয়্যামে জাহেলিয়ার মত ডাকাতি কান্ডের শিকার হয়ে হারাতে হচ্ছে নিজের ভিটা বাড়ি। সন্তানকে ফিরে ফেল না। ভিটা বাড়ি বন্ধক দিয়ে অর্থ নেওয়া মহাজন টাকা পরিশোধের সময় পার হয়ে যাওয়াতে ভিটা বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য এ অসহায় পরিবারকে ১৫ দিনের সময় দিয়েছে। এ পরিবারে দালালদের আঘাতে নিহত মোস্তাকের পিতা মাতা ৪ ভাই ৩ বোন রয়েছে। এখন সহায় সম্বল ভিটা বাড়িসহ সর্বস্ত হারিয়ে কোথায় যাবে তা নিয়ে চিন্তিত। যে দিকে দেখে সে দিকে তাদের ভবিষ্যত অন্ধকার।

এই বিভাগের আরও খবর
  • ২০১৪ - ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ‌্য মন্ত্রণালয়ে আবেদিত ।
Site Customized By NewsTech.Com