সোমবার , ৩ আগস্ট ২০১৫ | ২১শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরো
  6. ইসলাম
  7. এক্সক্লুসিভ
  8. কক্সবাজার
  9. করোনাভাইরাস
  10. খেলাধুলা
  11. জাতীয়
  12. জেলা-উপজেলা
  13. পর্যটন
  14. প্রবাস
  15. বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি

টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কে সব ধরনের তিন চাকার যান বন্ধ করায় চরম দূর্ভোগে হাজার শিক্ষার্থী

প্রতিবেদক
কক্সবাজার আলো
আগস্ট ৩, ২০১৫ ৯:২৫ অপরাহ্ণ

সাদ্দাম হোসাইন, হ্নীলা :
এবারের ঈদের আগে-পরের কয়েক দিনে সড়ক ও মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের সাথে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় দু’শতের অধিক মৃত্যু ও কয়েক শ যাত্রী আহত হওয়ার পর সড়ক পরিবহনে নিরাপত্তার প্রশ্নটি বড় হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় গত ২৭ জুলাই সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় মাত্র চার দিনের সময় দিয়ে মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কে সব ধরে তিন চাকার যান বন্ধ হয়ে যায়। এতে টেকনাফ উপজেলার হাজার হাজার শিক্ষার্থী চরম দূর্ভোগে পড়েছে।
টেকনাফ উপজেলা অবস্থানগতভাবে উত্তর-দক্ষিণ লম্বা। প্রতিষ্টানগুলো টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কের পার্শ্বেই অবস্থান এবং বিকল্প রাস্তা-ঘাট না থাকায় অটো রিক্সা, টমটম ও সিএনজি গাড়ী চলতে পারেনা। প্রতিটি প্রতষ্ঠান থেকে ছাত্র/ছাত্রীর বাড়ীর দূরত্ব কমবেশী ১৩-১৫ কি:মি: পর্যন্ত, রাস্তায় পরিবহণ ব্যবস্থা নেই। স্পেশাল সার্ভিস নামে সে সব চলাচল করে করে তাতে স্কুলগামী ছাত্র/ছাত্রীদের পরিবহন করেনা, সাধারণ যাত্রী সেবায় নিমিত্তে লোকাল কোন বাস নেই বললেই চলে। এমতাবস্থায় উক্ত সড়কে অটো রিক্সা, টমটম ও সিএনজি চলাচল বন্ধ করে রাখলে দীর্ঘদিনের অর্জিত লক্ষ্য মাত্রা নিমিষেই ধংস হয়ে যাবে। টেকনাফ উপজেলা শিক্ষা-দীক্ষায় অনুন্নত ও অবেহেলিত জনপদ, গ্রামীন অবকাঠামো ও তত উন্নত নয়, উক্ত সড়কে গত ১জুলাই থেকে অটো রিক্সা, টমটম ও সিএনজি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিতির হার কমে গেছে।
উনচিপ্রাং এলাকার বাসিন্দা ও হ্নীলা শাহ্ মজিদিয়া মাদ্রাসার ছাত্রী রেশমা আক্তার জানান, প্রতিদিন সকাল ৮টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে সিএনজি যোগে ক্লাস শুরু হওয়ার আগে মাদ্রাসায় উপস্থিত হতাম। কিন্তু এখন সিএনজি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একই সময় বাড়ি থেকে বের হয়েও প্রায় ২ঘন্টা দেরিতে মাদ্রাসায় যেতে হচ্ছে। কারণ স্পেশাল সার্ভিস নামে গাড়িগুলো আমাদের হাতে বই দেখলে গাড়িতে তুলে না। মাইক্রো আসার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। সব মাইক্রোতে যাত্রী ভীড় থাকার কারণে কষ্ট করে মাদ্রাসায় আসতে হয়।
হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও হ্নীলা শাহ্ মজিদিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী জনান, এই সড়কটা মহাসড়কের অন্তরভূক্ত নই। এটি একটি উপজেলা সড়ক। সড়ক দিয়ে সবসময় বড় বাস চলাচল করে না তাই এ উপজেলার মানুষ অটো রিক্সা, টমটম ও সিএনজি নিয়ে চলাচল করে। এসব অটো রিক্সা, টমটম ও সিএনজি বন্ধ করে দেওয়ায় উপজেলার হাজার হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে হাজার হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দিকে থাকিয়ে এসব অটো রিক্সা, টমটম ও সিএনজি টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কে চলতে দেয়ার জন্য অনুরোধ জানান।
হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম জনান, সরকারের জাতীয় মহাসড়কে তিন চাকা যান চলাচল বন্ধের উদ্দ্যেগকে আমরা স্বাগত জনায়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্র/ছাত্রীর বাড়ীর দূরত্ব কমবেশী ১৩-১৫ কি:মি: পর্যন্ত, রাস্তায় পরিবহণ ব্যবস্থা নেই। স্পেশাল সার্ভিস নামে সে সব চলাচল করে করে তাতে আমাদের স্কুলগামী ছাত্র/ছাত্রীদের পরিবহন করেনা। এতে আমার স্কুলে উপস্থিতি সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসেছে। এই ভাবে সব প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতির সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। আমাদের এই টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কটি মহাসড়ক না হলেও তিন চাকার যান বন্ধ থাকায় হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের পড়া-লেখা নষ্ট হচ্ছে। তাই সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের দৃষ্টি আর্কষন করছি।

সর্বশেষ - অপরাধ