1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

ডজন মামলার পলাতক আসামী, শীর্ষ মানব পাচারকারী, কালাম সিন্ডিকেটের হয়রানীতে দিশেহারা এক আইনজীবি পরিবার

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০১৫
  • ৮০ দেখা হয়েছে

বার্তা পরিবেশক :
আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারি ও ইয়াবা পাচারকারি সিন্ডিকেটের মূল হোতা, টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের কাটাবনিয়া এলাকার আবুল কালাম ও তার বাহিনীর নিপীড়ন ও অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। এই ‘কালাম সিন্ডিকেটে’র নিপীড়ন ও একের পর এক মিথ্যা মামলার শিকারে পরিণত হয়েছেন একই এলাকার এক আইনজীবীর পরিবার। শুধুমাত্র মানব পাচার ও পাচারের শিকার নারী-পুরুষদের উপর ‘কালাম সিন্ডিকেটে’র অত্যাচারের প্রতিবাদ করায় ওই চক্রটি এখন এডভোকেট মোহাম্মদ আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হয়রানি করে যাচ্ছে।
এডভোকেট আলমের অভিযোগ, আইনশৃংখলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। বরং উল্টো ‘কালাম সিন্ডিকেটে’র বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ গুলো এডভোকেট মোহাম্মদ আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়ার চক্রান্ত করা হচ্ছে।
অথচ এই ‘কালাম সিন্ডিকেট’ই টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের আলোচিত মানব পাচার ঘাটের প্রতিষ্টাতা। আবুল কালামের নেতৃত্বেই দিনের পর দিন হাজার হাজার মানুষকে এই ঘাট দিয়ে পাচার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মানব পাচার তালিকায় একজন শীর্ষ পাচারকারি হিসেবে আবুল কালামের নাম রয়েছে। ওই তালিকার পরও টানা দুই বছর আইন প্রয়োগকারি সংস্থার কতিপয় সদস্যের সহায়তায় মানব পাচার করে গেছে এই আবুল কালাম। তারপর কোস্টগার্ডের হাতে একই অভিযানে ১১৬ পাচারের শিকার ব্যক্তি আটক হওয়ার পর থেকেই আবুল কালাম গা ঢাকা দেয়। কোস্টগার্ডের ওই মামলায় আসামি হওয়ার পর গা ঢাকা দিলেও তার আদম পাচারের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণকারি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হয়রানি অব্যাহত রেখেছে। তার কালো টাকাকে ব্যবহার করে কতিপয় মিডিয়া কর্মীদের তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অবস্থানকারিদের হয়রানি করতে ব্যবহার করছে।
এডভোকেট মোহাম্মদ আলম ও টেকনাফের একাধিক সূত্রের অভিযোগ, কাটাবনিয়া মানবপাচার ঘাটের গুরু মূল হোতা, আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারীর অন্যতম সদস্য, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে শীর্ষ তালিকাভূক্ত মানবপাচার ও ইয়াবা পাচারকারি সিন্ডিকেটের প্রধান হলেন সাবরাং ইউনিয়নের কাটাবনিয়া এলাকার অধিবাসী আবুল কালাম। যে ব্যক্তি মানব পাচার করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। যদিও মানব পাচারে যুক্ত হওয়ার আগে এই ব্যক্তি সরকারি কর্মকর্তা পর্যায়ে ‘নারী সাপ্লাইকারি’ হিসেবেই এলাকায় পরিচিত ছিল।
সূত্র মতে, মালয়েশিয়ায় অবস্থানকারি মিয়ানমার নাগরিক ও আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারি চক্রের গডফাদার ‘বার্মাইয়া আলী’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে এই আবুল কালাম।
একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন, মানবপাচারে এসে এই আবুল কালাম গড়ে তুলে একটি শক্তিশালী পাচারকারি সিন্ডিকেট। যার সদস্য হিসেবে কাজ করে আবদুল কালাম, কামাল, জামাল ও বাবুল। যাদের ‘চার ভাই সিন্ডিকেট’ নামেই বহুল পরিচিত।
টেকনাফের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, বর্তমান সরকার মানবপাচারকারিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে থাকলেও এই কালাম সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এলাকাবাসিরা নিদারুন হতাশ।
তারা মনে করেন, আবুল কালামের হাতেই এই মানবপাচার কার্যক্রম প্রথম শুরু হয় কাটাবনিয়া এলাকায়। তার হাত ধরে পরবর্তী সময়ে অনেকেই এই ব্যবসায় হাতেকড়ি। মানবপাচারকারি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এই আবুল কালাম এলাকার যুবকদের বিনামূল্যে প্রথমে ইয়াবা সেবনে অভ্যস্ত করে, পরে এই ইয়াবা সেবনের বিনিময়ে তার অবৈধ মানবপাচার কাজে জড়িয়ে নিয়ে নিরীহ শত শত যুবককে অনিশ্চিত জীবনে টেলে দেয়। এক সময় মাদকাসক্ত হয়ে মাদকের টাকার জন্য তার কালো ব্যবসার সহযোগী হতে বাধ্য হয় ওই সকল যুবক।
সূত্রগুলো মতে, যুব সমাজের বড় একটি অংশ কালাম সিন্ডিকেটের পাচারকৃত লোকজনকে রাতে পাহারা দেয়ার কাজে ব্যবহার হতো। আর কিছু যুবক পাচারকৃতদের ঘরে রেখে আশ্রয় দিত। আর কিছু যুবক তার পাচারকৃত লোকজনকে খাবার দাবার সাপ্লাইয়ের কাজ করে মাদকের টাকা যোগাড় করতো। এভাবেই আবুল কালাম সিন্ডিকেট পুরো গ্রামের যুব সমাজকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয়।
আবুল কালামের হাত ধরেই এই সকল যুবক বাধ্য হয়ে প্রথমে পাচার সহযোগী, পরে এই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। এখন সাবরাং ইউনিয়নের পুরো কাটাবনিয়া এলাকায় আবুল কালাম সিন্ডিকেটের লোকজন বহাল তরিয়তে তাদের পাচার কাজে বাধা দানকারীদের নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। আর আবুল কালাম সেই পাচার কাজের বাধা দানকারীদের নির্যাতনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে।
আইনশৃংখলা বাহিনী সূত্র মতে, কালাম গংয়ের অবৈধ অস্ত্র ভান্ডার সম্পর্কে টেকনাফের প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহিনীর লোকজন অবগত থাকলেও কখনোই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি।
ওই সূত্র মতে, আবুল কালাম দিনদুপুরে অস্ত্র চালিয়ে তার অবৈধ ব্যবসার প্রতিরোধ ও প্রতিবাদকারিদের গ্রাম ছাড়া করেছে। থানা পুলিশের সাথে মাসিক ভিত্তিতে বড় ধরনের টাকার লেনদেন করতো বিধায় এই আবুল কালাম গংয়ের বিরুদ্ধে যারা কথা বলতো তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের কন্ঠরোধ করার অপচেষ্টা করে থাকে এই সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট সদস্যদের অত্যাচার, নিপীড়ন ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে গ্রামের অনেক যুবক এখন এলাকাছাড়া।
এলাকাবাসিদের অনেকেই নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, আবুল কালামের টাকায় ক্ষমতাসীন নেতারা রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের খরচাপাতি করে বলে সে বুক ফুলিয়ে গর্ব করে প্রচার করে। তার এই গর্ব দেখে অসহায় ও শিক্ষিত লোকজন এলাকায় যাওয়াই বন্ধ করে দিয়েছেন।
যে সব মামলার আসামি কালাম সিন্ডিকেট:
আবুল কালাম সিন্ডিকেট সাগরপথে হাজার হাজার আদম সন্তান পাচার করলেও সে তুলনায় মামলা হয়েছে অনেক কম। তারপরও এক ডজনের বেশি মামলায় আসামি হয়েছে এই আবুল কালাম ও তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা। তারা যে সব মামলা আসামি হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে, টেকনাফ থানার জি.আর মামলা ১৪৫/২০১৪ (মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ এর ৭/৮ ধারা), টেকনাফ থানার জি.আর মামলা ৩৫৩/২০১৪ (মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ এর ৭ ধারা), টেকনাফ থানার জিআর মামলা ৪১৩/২০১৪ (মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ এর ৭/৮ ধারা), জি.আর মামলা ৪০৩/২০১৪ (দন্ডবিধি ১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৫০৬/৩৪ ধারা), সি.আর মামলা ১২৮/২০১৪ (চেক জালিয়াতি), জি.আর মামলা ৩৩৯/১৫ (মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন- ২০১২ এর ৭/৮ ধারা), জি.আর মামলা ৫৭৫/১৪ (ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানার মামলা ১৭(১২) ১৪, দন্ডবিধির ৩৬৪/৩৮৫/৩৪৪ ধারা), জি.আর মামলা ৪১১/১১ (১৯৭৪ সনের বিশেষ ক্ষমতা আইন ২৫বি.), জি.আর মামলা ৪৭২/১১ (১৯৭৪ সনের বিশেষ ক্ষমতা আইন ২৫বি.), জি.আর মামলা ৩১১/১১ (১৯৯০ সনের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯(১) টেবিল ৯ এর (খ)}, জি.আর মামলা ১১৭/১২ (১৯৯০ সনের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯(১) ৭ এর (খ)}, জি.আর মামলা ৪৭৯/১৪ (১৯৯০ সনের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯(১) টেবিল ৯ এর (খ)}, জি.আর মামলা ৪৮৭/১৪ (১৯৯০ সনের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯(১) টেবিল ৯ এর (খ)} ও জি.আর মামলা ৬১১/১৪ (১৯৯০ সনের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯(১) টেবিল ৯ এর (খ)}।
যেভাবে আজকের আবুল কালাম :
টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের আবদুর রহমান ও জরিনা খাতুনের ছেলে আবুল কালাম মূলত হোটেলে নারী সাপ্লাই ও মাদক সাপ্লাইয়ের কাজ করতো। তার অবৈধ ব্যবসা নির্বিঘেœ চালাতে চতুর আবুল কালাম রোহিঙ্গা বংশ উদ্ভূত সুন্দরী কিন্তু অভাবী এবং বাংলাদেশ প্রত্যন্ত্য অঞ্চল বিশেষ করে বাংলাদেশের যেসব স্থান থেকে সবচেয়ে বেশী মানব পাচার হয়েছে ঐ সব স্থান থেকে এজেন্টদের মাধ্যমে শিক্ষিত কিন্তু অভাবী এক ডজনের বেশী বিয়ে করে। এই সুন্দরী তার স্ত্রীদের দিয়ে একদিকে প্রশাসনের টাকা পৌছাত। যেসব পুলিশ অফিসার টাকা পয়সা লেনদেন করত না তাদেরকে সুন্দরী স্ত্রী দিয়ে নিয়ন্ত্রন রাখত বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের দারী। এই প্রতারক আবুল কালাম বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বিয়ে করে শশুর বাড়ীর সম্পর্কের সূত্র তৈরী করে মানব পাচারে লোক যোগাড় করত। এই কালাম আগেকার মূল ব্যবসা বড় বড় রাজনীতিক নেতাদের ও উর্ধতন পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কাজ আদায়ের জন্য সুন্দরী নারী যোগাড় করে ঐ সব সূত্রকে সাপ্লাই দিত বিধায় তার রয়েছে রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে জানা শুনা। বর্তমানে নিজে ঐসব নেতা ও কর্মকর্তাদের তার অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যেতে মেয়ে সাপ্লাই দিয়ে সে নিজে মানবপাচারকারীদের ডন বনে গেছে।
সূত্রের দারী সাবরাং ইউনিয়ন এর বেশীর ভাগ মানব পাচারকারীরা আবুল কালামের মাধ্যমে মাসিক টাকা প্রশাসন লেনদেন করত। আবুল কালামের সুন্দরী স্ত্রীদের দিয়ে টাকা লেনদেন করলে নাকী টেকনাফ থানার পুলিশ অফিসাররা বেইমানী করত না। উপরে চাপে পড়ে অভিযান চালালেও অভিযানে যাওয়ার আগে আবুল কালামের রহস্যময়ী সুন্দরী স্ত্রীদের কাছে সংবাদ পৌছে যেত। সে মানব পাচারের সাথে প্রশাসনে কন্টাক্ট বাণিজ্য করেও নাকী কোটি কোটি হাতিয়ে নিয়েছে অন্য মানব পাচারকারীদের কাছ থেকে। ২০১৩ সালের শুরুতে চট্টগ্রাম ও ঢাকা শহর থেকে ৮/১০টি ইয়াবা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামি হয়ে গ্রামের বাড়িতে মালয়েশিয়ায় আদম পাচার ও নারী পাচারের সিন্ডিকেট তৈরি করে বর্তমানে সে ১০/১৫ কোটি টাকার মালিক। কাটাবনিয়া গ্রামে তার আলীশান দুইতলা বাড়ি। টেকনাফের শিলবুনিয়া পাড়ায় এক কোটি টাকার বাড়িসহ জমি, ২টি ট্রাক (যেগুলি ইট বহনের নামে মালেশিয়াগামি লোকজন কক্সবাজার থেকে বহন করে টেকনাফ নিয়ে যায়, টেকনাফ থেকে আসার সময় ইয়াবা নিয়ে আসে। ট্রাক দুইটির রেজি নং- চট্টমেট্টো-১১-৩৬৬০৩ ও চট্টমেট্টো-১১-২০১৪৬।) আবুল কালামের নিজের নামে রেজিঃকৃত ফেজার মোটর সাইকেল (রং-সাদা) কক্সবাজার হ-১১-২৫৩৩। ৫টি বড় বড় ট্রলার যেগুলি মানব প্রাচার ও ইয়াবা ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত হয়। মোটর সাইকেলটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে যেমন ব্যাংক থেকে টাকা পয়সা লেনদেন ও মালয়েশিয়াগামি ২/৩ জন লোক হলে মোটর সাইকেলে বহন করে। নির্দিষ্ট স্থানে অস্ত্র পৌঁছানোর কাজেও মোটর সাইকেলটি ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে মানব পাচার হ্রাস পেলে এখন সে চট্টগ্রামে অভিজাত এলাকায় ফ্লাট নিয়ে তার সুন্দরী স্ত্রীদের দিয়ে অভিজাত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মনুরঞ্জনের জন্য অভিজাত আনন্দ পুর্তির বিশেষ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। এখন টেকনাফের বিশিষ্ট ইয়াবা ব্যবসায়ীরাও নাকী থাকে সমীহ করে। তারা সবাই আবুল কালামের অন্দর মহলকে সেফ হোম মনে করে। মোটামুটি ভাবে সবার ধারণা আছে যে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে তার হাত রয়েছে এবং কিছু উচ্চ লোভী ও হলুদ সংবাদ কর্মীরা তার অতিথি। তাই কোন কারণে স্পেশাল টীমের রাতে ধরা পড়লে অন্তত মিডিয়াতে সেভাবে নাম ঠিকানা আসবেনা।
একটি আইনজীবীর পরিবার ও ‘কালাম সিন্ডিকেটে’র হয়রানি:
এডভোকেট মোহাম্মদ আলম টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের কাটাবনিয়া এলাকায় জন্মগ্রহণ করলেও তিনি লেখাপড়া ও আইনপেশায় নিয়োজিত ছিলেন ঢাকাতেই, তার স্ত্রী ও একজন আইনজীবী। তিনি বেশ কয়েকবছর ধরেই ঢাকাতেই স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করছিলেন। সম্প্রতি তিনি পেশাগত কারণেই কক্সবাজারে আসেন। বর্তমানে কক্সবাজারেই বসবাস করছেন।
এই সময়ে কক্সবাজার শহর থেকে তিনি কয়েকবার গ্রামের বাড়ি কাটাবনিয়ায় যান। এই যাওয়া ছাড়া গ্রামের বাড়ির সাথে তার তেমন কোন যোগাযোগ নেই। কিন্তু মানব পাচারকারি ও মাদক পাচারকারি চক্রের আন্তর্জাতিক হোতা আবুল কালাম ও তার সহযোগীদের রোষানলে পড়ে যান এডভোকেট মোহাম্মদ আলম। আবুল কালামের অপকর্মের প্রতিবাদ করায় তিনি ও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লাগে ওই চক্রটি।
সূত্র মতে, আবুল কালাম ও তার সহযোগীরা টেকনাফের বাইরে এডভোকেট মোহাম্মদ আলম ও তার ভাইদের বিভিন্ন মানব পাচার মামলায় ঢুকিয়ে দিতে শুরু করে। কালো টাকা ব্যবহার করে এই চক্রটি থানা পুলিশের কতিপয় কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে ইতিমধ্যেই রামু থানার মানব পাচার মামলায় এডভোকেট আলমের দুই ভাইকে আসামি হিসেবে ঢুকিয়ে দেয়। গ্রামের বাড়িতে অবস্থানকারি পরিবারের সদস্যদের নানা ভাবে হুমকি-ধমকি ও হয়রানি করতে শুরু করে। গত ২৩শে নভেম্বর ২০১৪ প্রকাশ্যে ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে আবুল কালাম ও তার সহযোগীরা এডভোকেট আলম ও তার ভাই, আত্মীয় স্বজনদের ভয়ভীতি দেখাতে থাকে।

ঘটনার শুরু যেভাবে:
এডভোকেট মোহাম্মদ আলম জানায় ,তাদের গ্রামের বাড়ি কাটাবনিয়ায় মেহগনি বাগানে রায়তী হিসেবে থাকত বার্মাইয়া বশর মাঝি। এই বশর মাঝি আগে মাছ ধরার ট্রলারে কাজ করলেও পরবর্তীতে আবুল কালাম সিন্ডিকেটের প্রলোভনে পড়ে মানব পাচার ব্যবহৃত ট্রলারে মাঝি হিসেবে কাজ শুরু করে এবং তার সন্তানদের ও আবুল কালামের দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োজিত করে। এইসব অপকর্মের খবর এলাকায় বসবাসরত ভাইয়েরা এডভোকেট মোহাম্মদ আলমকে জানালে সে ভাইদের বশর মাঝিকে বাগান বাড়ী হইতে উচ্ছেদ করতে বলে এবং এডভোকেট মোহাম্মদ আলম এর বড় ভাই টেকনাফ যুবলীগের সদস্য ফরিদুল আলম (৩৮) বসর মাঝিকে এইসব অবৈধ অপকর্মে জড়িত থাকলে এইখানে আশ্রয় হবেনা বলে সাফ জানিয়ে দেয়। পরবর্তীতে চাপের মুখে এডভোকেট মোহাম্মদ আলমের বাগান বাড়ী হইতে উচ্ছেদ করে দেওয়ার প্রতিশোধ নিতে উঠে পড়ে লেগে এই সিন্ডিকেট এতদিন মানব পাচার ব্যবসা হরদম চালানোর জন্য এডভোকেট আলমের পরিবারের সাথে প্রতিশোধ নিতে না চাইলেও এখন মানব পাচার ব্যবসা সরকারের ধর পাকড়ে প্রায় বন্ধ হলে শুরু হয় তাদের কালো টাকায় অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা ও কিছু সংবাদ কর্মী দিয়ে এডভোকেট পরিবারকে মিথ্যা মামলা ও মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে সামাজিক ও পেশাগত ভাবে হেয় করার সুদুর প্রসারী পরিকল্পনা।
এডভোকেট মোহাম্মদ আলমের তার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা মোকাদ্দমা ছাড়াও মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ মাধ্যমকে বিভ্রান্ত করছে। এই আবুল কালাম সিন্ডিকেট মোহাম্মদ আলম র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যাওয়ার কাল্পনিক প্রচার। কিন্তু উল্লেখ করে নাই কোন মামলায় কখন জেল কেটেছে। অন্যদিকে সাবরাং ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের উদ্বৃতি দিয়ে জি.ডি করার কাহিনী। এইটাও একটা প্রতারনা। এডভোকেট আলমের দাবী হামিদ চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে একটি জিডি করেছিল চার দলীয় জোট সরকারের আমলে ঐ সরকারের কিছু দালালেরা এতদিন পর সেটাকে অপ্রপ্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতেছে মানব পাচারকারী সিন্ডিকেট।
এডভোকেট মোহাম্মদ আলমের অভিযোগ , তিনি ঢাকা ও কক্সবাজারে আইন পেশায় জড়িত থাকলেও মানব পাচারকারি আবুল কালাম চক্র নিজেদের অপকর্মকে উল্টো আলমের ঘাড়ে তুলে দিয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে নানাভাবে অভিযোগ দিয়ে যাচ্ছে। যদিও তদন্ত করলেই প্রমাণ হবে, এডভোকেট মোহাম্মদ আলমকে অভিযুক্ত করে বিভিন্ন দপ্তরে দেয়া অভিযোগ গুলো সম্পূর্ণই মিথ্যা। বরং আবুল কালাম ও তার সহযোগীরাই মানব পাচার, মাদক পাচার, নারী নির্যাতন ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির মতো জঘন্য কাজে জড়িত।
এডভোকেট মোহাম্মদ আলম ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র মতে, আবুল কালাম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত মাদক ও মানব পাচারকারি হলেও শুধুমাত্র ‘কালো টাকা’র দাপটে গ্রেপ্তার এড়িয়ে যাচ্ছে। কিছুদিন আত্মগোপন করে থাকলেও ইদানিং আবার তাকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে। এডভোকেট আলমের দাবী আবুল কালাম সিন্ডিকেট তাদের অবৈধ কাজ কর্মের কারণে মামলা হওয়ায় ঐ সব মামলা থেকে রেহাই পেতে আমাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে অপপ্রচারের লিপ্ত। আমি যদি কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে থাকি তাহলে আইন আদালতে প্রমান থাকলে তা প্রমান সহ উপস্থাপন করে প্রমান করুক। একজন আইনজীবির বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার করে এই আবুল কালাম সিন্ডিকেট এডভোকেট মোহাম্মদ আলমকে সাথে পুরো আইনজীবি সমাজকে ও সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত আছে। এডভোকেট মোহাম্মদ আলমের দাবী আমি আইনজীবি হয়ে যদি ইয়াবা, মানব পাচার জড়িত থাকার ১% প্রমানও দেখাতে পারে আবুল কালাম সিন্ডিকেট, তাহলে আমি নিজে নিজে ফাসির দন্ড মাথা পেতে নেব। সুতরাং সম্মানিত সাংবাদিক ভাই ও প্রশাসনের সর্ব স্তরের কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ প্রচারের আগে বিষয়টি পুংখানুপুংকভাবে যাচাই বাচাই করুন তার পর প্রকাশ করুন এবং কঠিন ব্যবস্থা নিন। অন্যথায় বর্তমান সরকার মাদক ও মানব পাচারের বিরুদ্ধে যে কঠিন ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে সম্মানিত মানুষকে অসম্মান করার কারণে তা অর্থহীন হয়ে যাবে।
সূত্রগুলো মতে, আইন প্রয়োগকারি সংস্থার কতিপয় সদস্যদের ‘কালো টাকা’য় ম্যানেজ করে আবুল কালাম, কামাল ও জামাল আবারও এলাকায় ফিরে এসেছে। বর্তমানে তারা কাটাবনিয়ায় এসে অস্ত্রধারী দেহরক্ষী নিয়ে ঘোরাফেরার কারণে এডভোকেট মোহাম্মদ আলমের পরিবারের সদস্যরা নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে ভয় পাচ্ছে।আবুল কালাম পেশাদার সন্ত্রাসী দিয়ে যে কোন সময় বড় ধরনের অপরাধ করারও চেষ্টায় আছে বলেও অভিযোগ এডভোকেট আলম ও তার পারিবারের। যদি সঠিক সময় সঠিক ব্যবস্থা না নিলে পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে দায়িত্ব নিতে হবে বলেও জানান এডভোকেট আলম। এলাকাবাসি এই চক্রের প্রধান আবুল কালাম ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

এই বিভাগের আরও খবর
  • ২০১৪ - ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ‌্য মন্ত্রণালয়ে আবেদিত ।
Site Customized By NewsTech.Com