বৃহস্পতিবার , ২০ জানুয়ারি ২০২২ | ১৬ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরো
  6. ইসলাম
  7. এক্সক্লুসিভ
  8. কক্সবাজার
  9. করোনাভাইরাস
  10. খেলাধুলা
  11. জাতীয়
  12. জেলা-উপজেলা
  13. পর্যটন
  14. প্রবাস
  15. বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি

তিস্তা নদীর পানি বন্টন সমাধানে প্রয়োজন বার্ষিক হাইড্রোলজিক্যাল মূল্যায়ন

প্রতিবেদক
সৈয়দ আলম
জানুয়ারি ২০, ২০২২ ৮:১২ অপরাহ্ণ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
তিস্তা নদীর অববাহিকা ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তাই দুই দেশকেই এই সংকট সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে। তিস্তা নদীর পানি বন্টন সমাধানের জন্য বাংলাদেশ ও ভারতকে বার্ষিক হাইড্রোলজিক্যাল মূল্যায়নে বসতে হবে, বলেছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেইঞ্জ এনভায়রেনমেন্ট রিসার্চ-এর এডভাইসর প্রফেসর ইমেরিটাস ড. আইনুন নিশাত।

তিনি আরও বলেন যে ভারত একতরফাভাবে তিস্তা নদীর পানি প্রত্যাহার করছে যা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং কোনো আন্তর্জাতিক আইনে এমনকি ভারতীয় আইনেও তা গ্রহণযোগ্য নয়। আন্তঃসীমান্ত পানির ব্যবহার বা আন্তঃরাষ্ট্রীয় পানির ব্যবহার সম্পর্কিত ১৯৫৮ সালের আইনও এই ধরণের পানির প্রত্যাহারকে সমর্থন করে না।

একশনএইড বাংলাদেশ এর আয়োজনে ২০ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী ‘তিস্তা নদী অববাহিকাঃ সংকট উত্তরণ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক ভার্চুয়াল ‘৭ম আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলন ২০২২’ এ সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে তিন দিনব্যাপী এই ভার্চুয়াল আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলন।

সম্মেলনের প্রথম দিন বিষয়ভিত্তিক প্রসঙ্গ- ইতিহাস,আকৃতি এবং তিস্তা ও এর পার্শ্ববর্তী নদীর স্থানিক পরিবর্তন এর উপর ভিত্তি করে আলোচনা চলে। এবারের সম্মেলনের উদ্দেশ্য হলো তিস্তা নদীর রূপতত্ত্ব, নৃাত্ত্বিক বিষয় এবং আঞ্চলিক বিরোধের উপর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও আলোচনা-পর্যালোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতীয় পর্যায়ের নীতি নির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাতে করে এই সমস্যাটির একটি সমাধান হয়। তিনদিনের এই সম্মেলনটি সরকারি-বেসরকারি কর্তৃপক্ষ, এনজিও, দাতা সংস্থা, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা, সুশীল সমাজ, শিক্ষাবিদ, পানি বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবিদ, এবং তৃণমূল পর্যায়ের জনগনকে তিস্তা নিয়ে একত্রিত হয়ে আলোচনা করার জন্য একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।

সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য প্রদানকালে একশনএইড বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, “একশনএইড বাংলাদেশ জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে। আমরা পানির ন্যায্যতা ও উদ্ভাবনের উপর জোর দেই এবং বৈজ্ঞানিক সংস্থা, তৃণমূল এবং উন্নয়ন অনুশীলনকারীদের মধ্যে সংযোগ তৈরি করি। তিস্তা কৃষি, মৎস্য এবং খাদ্য ব্যবস্থার জন্য পানির একটি প্রধান উৎস। পানি ও নদী শাসন, আঞ্চলিক বিরোধ ও জলবায়ু পরিবর্তন ধারাবাহিকভাবে জনগণের অধিকারকে প্রভাবিত করছে। তাই টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের মাধ্যমে নদীকে রক্ষা করা জরুরি।”

উদ্বোধনী বক্তব্যে একশনএইড ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ সোসাইটির এর চেয়ারপার্সন ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এর সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিস-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ব্যারিস্টার মনজুর হাসান ওবিই বলেন, “তিস্তা নদীর পানি বণ্টন একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বিষয়। পানি কারো নিজস্ব সম্পত্তি নয়। পানির ব্যবস্থা মানবাধিকারের মৌলিক বিষয়। পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য পানি অপরিহার্য।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে তিস্তা নদীর পানি বণ্টনের বিষয়ে সমঝোতায় আসতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য এই পানি সম্মেলন একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ।

তিস্তা নদীর পানি বরাদ্দ নিয়ে সমাধানে আসার আহ্বান জানান, অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশেষ অতিথি হাসানুল হক ইনু। “উত্তরবঙ্গে তিস্তা বাঁচাও আন্দোলন চলছে। এমনকি ভারতীয় জনগণও বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে পানির দুর্ভোগে পডছে” বলেন হাসানুল হক ইনু। পানি ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক চিন্তাভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে বলেও মতামত দেন তিনি।

“নদী আর নদী নেই। মানুষ এখন শুষ্ক মৌসুমে নদী হেঁটে পার হতে পারে। ভারতের স্থানীয় জনগণের মতে তিস্তার উপর বাঁধ নির্মাণের ফলে জীববৈচিত্র এবং হাজার হাজার মানুষের জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলেছে এবং ভূমিতে আদিবাসীদের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে”, বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ।

আলচনায় উপস্থিত সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়- এর শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের প্রধান প্রফেসর অশোক সোয়াইন তিস্তা নদীর পানি বন্টন নিয়ে একসঙ্গে বসতে শীর্ষ নেতাদের ইচ্ছা ও মানসিকতার অভাব রয়েছে বলে মত প্রকাশ করেন। তিনি ভারত ও বাংলাদেশ উভয়েরই শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানান যাতে সমস্যাটি সমাধানের জন্য একটি চুক্তি সম্পাদন হয়।

তিস্তার মতো আন্তঃসীমান্ত নদী সহ অন্যান্য নদীর পানির ক্ষেত্রে অন্যের অধিকারের সাথে যাতে আপস না করা হয় সেই বিষয়ে নজর রাখার আহ্বান জানান জাপানের কিয়টো বিশ্ববিদ্যালয়-এর গ্র্যাজুয়েট স্কুল অফ এশিয়ান অ্যান্ড আফ্রিকান এরিয়া স্টাডিজ- এর অধ্যাপক ড. রোহান ডি’সুজা।

তিস্তা নদী নিয়ে সরকারের দুইশ থেকে তিনশ বছরের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন যা নদী তীরের মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করতে পারে বলে অভিমত প্রকাশ করেন ব্রুনাই দারুসসালাম বিশ্ববিদ্যালয় এর ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক অধ্যয়ন এর এসোসিয়েট প্রফেসর ইফতেখার ইকবাল।

একশনএইড বাংলাদেশ পানি সম্পদের গুরত্ব, পানির ন্যায্যতা এবং নদীর অধিকার নিশ্চিত করবার জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। একই সাথে পানিসম্পদ ও তার ব্যবস্থাপনা নিয়ে মানুষের চিন্তার প্রসার করা, পানি নিয়ে বিভিন্ন উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটানো, বিভিন্ন ধরনের সংলাপকে উৎসাহিত করা, পানি নিয়ে একত্রে কাজ করতে জোট গঠন, আন্তঃসীমান্ত কার্যক্রমের উৎসাহ প্রদান ইত্যাদি উদ্দেশ্যকে মাথায় রেখেই ২০১৬ সাল থেকে আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলন আয়োজন করে আসছে একশনএইড বাংলাদেশ। এরই ধারাবাহিকতায় এবছর তিস্তা নদীর অববাহিকায় বিদ্যমান সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়েছে।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত