1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

পুলিশ বাসভাড়া দেয় না কেন?

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০১৫
  • ১২৫ দেখা হয়েছে

কক্সবাজার আলো ডেস্ক:

গত ৫ জুলাই। রাত ১০টা। রাজধানীর বাংলামোটর থেকে মতিঝিলগামী ৬ নম্বর বাসে উঠলেন টি-শার্ট পরা এক যুবক। কিছুক্ষণ পর বাসচালকের সহকারি তোতা মিয়া ভাড়া চাইলে ওই যুবক নিজেকে ‘পুলিশের লোক’ বলে পরিচয় দেন। এরপর তোতা মিয়া চুপ। পাশ থেকে আরেকজন যাত্রী বলে ওঠলেন “পুলিশের কি ভাড়া দেয়া লাগে না?” এবার তোতা মিয়া একটু সাহস পেলেন। মৃদুস্বরে তোতা মিয়া বলেন, “আসলে আপনার মতো এভাবে মুখের ওপর কেউ বলে না। কিন্তু আমাদের কিছু করার নাই। বিনাভাড়ায় না নিলে কিছুদূর গিয়ে সার্জেন্ট ডেকে ঝামেলায় ফেলবে। আমাদের রাস্তায় চলতে হয়। তারাও (পুলিশ) রাস্তায় থাকে। ঝামেলা করে লাভ নাই। এজন্য ভাড়া না দিলেও কিছু বলতে পারি না…।” শেষ পর্যন্ত ওই যুবক ভাড়া না দিয়েই ওই গাড়িতে করে গন্তব্যে পৌঁছান। রাজধানীতে চলাচলকারী বেসরকারি মালিকানাধীন যানবাহনে এ চিত্র নিয়মিত। বিভিন্ন সময় বিনাভাড়ায় পুলিশ সদস্যদের বাসে চড়তে না দেয়ায় অপ্রীতিকর ঘটনার নজিরও রয়েছে। বাস মালিকদের ভাষ্য, পুলিশ সদস্যরা অন্যায়ভাবে দীর্ঘদিন ধরে এ চর্চা করে আসছেন। এখন আর তারা পুলিশ সদস্যদের বিনাভাড়ায় চড়তে দেবেন না। এদিকে পুলিশ প্রশাসন বলছে তাদের সদস্যরা সাধারণ যাত্রীদের মতোই। ভাড়া না দিয়ে গণপরিবহণে তাদের চড়তে বলা হয়নি। আগামীতে এমন আচরণ কেউ করলে তার ব্যাপারে যেন ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) জানানো হয়। এরপর অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গত ২১ জুন ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে রাজধানীর গুলিস্তানে সার্জেন্ট আহাদ পুলিশ বক্সে নিয়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্য মিলে সোহেল নামের এক যুবককে বেধড়ক পেটায়। তার আগে দোয়েল পরিবহণের গুলিস্তান কাউন্টারের সুপার ভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন সোহেল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পল্টন মডেল থানার সার্জেন্ট আহাদ পুলিশ বক্সের সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এমদাদ ওই ঘটনার নেতৃত্ব দেন। রাত নয়টার দিকে সোহেলকে ছাড়িয়ে আনেন দোয়েল পরিবহণের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গুলজার হোসেন । এরপর স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে তার বাসায় ফেরা হয়। এ ঘটনার মূল কারণ ছিল বিনাভাড়ায় এক পুলিশ কনস্টেবলকে ওই বাসে চড়তে না দেয়া।

কেন পুলিশ ভাড়া দেয় না?
মতিঝিল-মিরপুর ১২ রুটে চলাচলকারী এনা ট্রান্সপোর্টের চালকের সহকারি আবদুল্লাহ বলেন, “পুলিশ কখনোই ভাড়া দেয় না। কী কারণে দেয় না জানি না। তাদের তো সরকারি চাকরি। সব খরচ তো সরকার দেয়। তবুও কেন বাসে উঠলে ভাড়া দিতে চায় না?”

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার (ডিসি) মুনতাসিরুল ইসলাম নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “বিভিন্ন স্থানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা পোশাক পরা অবস্থায় গণপরিবহণে উঠলে তাদের থেকে ভাড়া নেয়া হতো না। দীর্ঘদিন ধরে এ চর্চা হয়ে আসছিল। এ কারণে এটি হয়তো এখনো চলছে।”

তবে পুলিশের এ কর্মকর্তা স্বীকার করেন যে এটি বেআইনি কাজ। তিনি বলেন, “মূলত তারাও (পুলিশ সদস্য) সাধারণ যাত্রীদের মতো ভাড়া দিয়ে চড়া উচিত। ভাড়া না দিয়ে বাসে চড়ার কোনো আইন নাই। আমরাও তাদের বলি না।”

তবে সাধারণ মানুষ মনে করে, পুলিশ যেহেতু সব সময় বাসচালকদের থেকে চাঁদা নেয়, কাজেই সেই বাসে ভাড়া দেয়াটা তারা হয়তো ‘অস্বাভাবিক’ বলে মনে করে।

ফ্রি-তে বাসে চড়া বন্ধ চায় বাস মালিকরা
সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির মহাসচিব খোন্দকার এনায়েত উল্লাহ নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “পুলিশ পরিচয়ে ভাড়া না দিয়ে বাসে চড়া অন্যায়। এটি বন্ধ হওয়া উচিত।”

তার মতে রাস্তায় গাড়ি চালাতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করতে পারেন না বাসচালক বা তার সহকারী। এজন্যই মূলত পুলিশ পরিচয়ে কেউ ভাড়া দিতে না চাইলে কিছু বলা যায় না।

বাসে ভাড়া আদায়কারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুলিশের পোশাক পরা ছাড়াও যারা পুলিশ পরিচয়ে ভাড়া না দিয়ে চড়েন, তাদের কেউ কেউ পরিচয়পত্র দেখান। আবার অনেকে তাও দেখান না। মুখে পুলিশ পরিচয় দেয়ার পর পাল্টা প্রশ্ন করে পরিচয়পত্র দেখার সাহসও পাননা তারা।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নতুন বার্তা ডটকমকে জানায়, গুলিস্তানে ২১ জুনের ঘটনায় পুলিশের মতিঝিল জোনের উপকমিশনার (ডিসি) আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দোয়েল পরিবহণের এমডি। ডিসি তাকে বলেছেন- পুলিশ সদস্যদের বিনাভাড়ায় বাসে চড়ার কোনো আইন নেই। আমরাও তাদের বিনাভাড়ায় চড়তে বলি না। তাহলে কেন আপনারা তাদের থেকে ভাড়া নেবেন না? কেউ ভাড়া না দিয়ে চড়তে চাইলে অভিযোগ করারও পরামর্শ দেন তিনি।

ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার ডিসি মুনতাসির নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “ভাড়া না দিয়ে পুলিশ সদস্যদের কেউ গণপরিবহণে চড়া উচিত নয়। জোরপূর্বক কেউ ভাড়া দিয়ে চড়তে চাইলে আমাদের কাছে অভিযোগ করা উচিত। তাহলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

তবে কেউ পুলিশের কাছে যেতে চায় না। পুলিশের কাছে যাওয়া মানে নিজের কাছে বিপদ ডেকে আনা, এ মন্তব্য পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের এক নেতার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ নেতার সোজাসাপ্টা বক্তব্য, “পুলিশ বিপজ্জনক।তাদের থেকে যতো দূরে থাকা যায় ততো মঙ্গল।”

এই বিভাগের আরও খবর
  • ২০১৪ - ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ‌্য মন্ত্রণালয়ে আবেদিত ।
Site Customized By NewsTech.Com