1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

পেকুয়ায় কমছে বন্যার পানি, বাড়ছে পানিবাহিত রোগ বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ২৯ জুন, ২০১৫
  • ১২৬ দেখা হয়েছে

Pekua Pic 27-06-15  (1) (Small)সেলীনা হোসাইন, পেকুয়া :
বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার কারণে শনিবার থেকে কমতে শুরু করেছে পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে জমে থাকা পানি। সাথে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বেশ কিছু এলাকায় দেখা দিয়েছে ডায়রিয়া, কলেরা, ভাইরাস জ্বরসহ পানিবাহিত নানা রোগ-বালাই। বানভাসি মানুষদের মাঝে বর্তমানে বিশুদ্ধ পানি ও শুকনা খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে হাজার হাজার মানুষ। এদিকে বন্যা পরবর্তী বন্যাদুর্গত মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৮টি মেডিকেল টীম। বাতিল করা হয়েছে উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগের সকল চিকিৎসকদের ছুটি। এতথ্য নিশ্চিত করেছেন উপজেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মুজিবুুর রহমান।
এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন বন্যাদুর্গতদের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। প্রশাসনের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন স্থানে ত্রাণ বিরতণ তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী সংগঠনের লোকজন।
পেকুয়া উপজেলা প্রাশসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মারুফুর রশীদ খান জানান, ভারী বর্ষণ, বেড়িবাঁধের ভাঙ্গন ও পাহাড়ি ঢলের কারনে পেকুয়ায় বন্যা পরিস্থিতি খুবই নাজুক। পুরো উপজেলা এখন পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। তিনি আরও জানান, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের সার্বিক তত্বাবধানে এবং মাননীয় সংসদ সদস্য(পেকুয়া-চকরিয়া) হাজী মোহাম্মদ ইলিয়াছ আলী এমপি’র নির্দেশক্রমে বিভিন্ন এলাকায় দূর্গত মানুষকে জরুরী ত্রান সরবরাহ করে চলেছেন উপজেলা প্রশাসন। মাতামুহুরী নদীর বেড়ীবাধ ভাঙ্গন ঠেকাতে প্রায় ত্রিশ হাজার টাকা মূল্যমানের শ্রমিক ব্যবহার করেন। আরো জানান, বন্যা পরবর্তী সময়ে গত বৃস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত সাত লক্ষাধিক টাকা মূল্যমানের শুকনো খাবারসহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন। এবং বরিবার দূর্গতদের মাঝে ১ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়। তিনি আরো জানান, উপজেলা প্রশাসন ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। এদিকে রবিবার দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(শিক্ষা) শাহ আব্দুল হাকিম বন্যা কবলিত এলাকা সরোজমিনে পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি পেকুয়া সদরের গোঁয়াখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়ণ কেন্দ্রসহ বন্যা দূর্গত বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং বিতরণ করেছেন ত্রাণের চাল। তিনি পেকুয়ার দূর্গত এলাকায় দ্রুত পূনঃবাসন প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনেরও আশ^াস দেন।
খবর নিয়ে জানা গেছে, শনিবার বিকাল থেকে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার কারণে পেকুয়া সদর ছাড়াও শীলখালী, বারবাকিয়া ইউনিয়নের যেসব এলাকার মানুষ পানিবন্দী হয়ে আছে বর্তমানে পানি নামতে শুরু করায় কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও এখনো অনেক স্থানে বন্যার পানিতে ডুবে আছে রাস্তাঘাট, বিদ্যালয়, দোকানপাট। টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, একাধিক স্পটে বেড়ীবাধ ভাঙ্গনের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় পেকুয়া উপজেলার প্রায় সবকটি সড়কে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামীন পাকা ও কাঁচা সড়কে ব্যাপক ভাঙ্গনের খবর পাওয়া গেছে। এদিকে পানি কমতে শুরু করায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৪০টি আশ্রয়ণকেন্দ্রে থাকা লোকজন নিজগৃহে ফিরে যাচ্ছেন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পূর্ণবাসন করতে আরো ত্রাণ ও তাদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে জোর দাবি জানান স্থানীয় সচেতন মহল ও জনপ্রতিনিধিরা।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com