বৃহস্পতিবার , ২০ জানুয়ারি ২০২২ | ২১শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরো
  6. ইসলাম
  7. এক্সক্লুসিভ
  8. কক্সবাজার
  9. করোনাভাইরাস
  10. খেলাধুলা
  11. জাতীয়
  12. জেলা-উপজেলা
  13. পর্যটন
  14. প্রবাস
  15. বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি

রত্নাপালং ইউপি নিবার্চন : হাইকোর্টের রুলের প্রতি অবজ্ঞা কিনা জনমনে প্রশ্ন!

প্রতিবেদক
সৈয়দ আলম
জানুয়ারি ২০, ২০২২ ১:৪৯ অপরাহ্ণ

বার্তা পরিবেশক :
উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের সাম্প্রতিক নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মোট ৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তারমধ্যে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী ছিলেন নুরুল হুদা। উক্ত সময়ে জানা যায়, নুরুল হুদা কোটবাজারের বাজার ডাকের সরকারী প্রাপ্য টাকা পরিশোধ না করেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
এ কারণে অপর প্রার্থীগণ নুরুল হুদার প্রার্থীতার বিষয়ে আপত্তি উত্থাপন করলে নুরুল হুদা মনোনয়ন পত্র বাচাইয়ের দিনে তড়িগড়ি করে প্রাপ্ত ১২ (বার লক্ষ) টাকা চালান সোনালী ব্যাংকে জমা দেন। তার টাকা জমা দেওয়ার কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করেন। আইনের বিধানে মনোনয়পত্র দাখিলের আগেই সরকারী প্রাপ্য পরিশোধ করেই মনোনয়নপত্র দাখিল করা
বাধ্যতামূলক বলে জানা গেছে। মনোনয়পত্র দাখিলের পর টাকা পরিশোধ করলে ঐ প্রার্থী অযোগ্যতা মুক্ত হয় না। উক্ত কারণে একজন প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক নুরুল হুদা প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করে প্রদত্ত আদেশ এর বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টের ৯৬৮৭/২০২১ রীট মামলা দায়ের করেন চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহফুজ উদ্দিন বাবু। এতে মহামান্য হাইকোর্ট নুরুল হুদার প্রার্থীতা স্থগিত করেন। নুরুল হুদা গিয়ে ঐ আদেশের বিরুদ্ধে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টে আবেদন করলে মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন এবং ঐ মামলা শুনানীর জন্য দ্রুততার সহিত নুরুল হুদার আরজি সুপ্রীম কোর্টে দাখিলের জন্য নুরুল হুদাকে নির্দেশ দেন। কিন্তু নুরুল হুদা মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের স্থগিত আদেশ পেয়ে ১১/১১/২০২১ তারিখে নিবার্চনে অংশ গ্রহণ করে ফেলেন এবং নির্বাচনে জয়লাভও করে ফেলেন। কিন্তু মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক তিনি সেই কোর্টে আরজি দাখিল করেন নাই। ফলে মামলার বাদীপক্ষ ঐ মামলায় পুর্ণাঙ্গ শুনানীর সুযোগ পান নাই। মহামান্য চেম্বার জজের নির্দেশ মোতাবেক
নুরুল হুদা তার আরজি দাখিল না করায়, তৎ কারণে বাদী মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানীর সুযোগ না পাওয়ায় তিনি নুরুল হুদা বিজ্ঞ আদালদের নির্দেশ অমান্য করেছেন মর্মে দাবী করে নুরুল হুদার বিরুদ্ধে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টে আদালত অবমাননার দরখাস্ত দাখিল করেন। অপর দিকে বাদীর দাবী মতে নুরুল হুদা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হওয়া সত্বেও নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করার এবং বিজয় ছিনিয়ে নেওয়ায় বাদী তৎ বিরুদ্ধে
মহামান্য হাইকোর্টে গেজেট প্রকাশ বন্ধ করার আবেদন করেন। মহামান্য হাইকোর্ট উক্ত বিষয়ে সকল বিবাদীর প্রতি রুল নিশি জারী করেন। এতদসতেও্ব ৯/১২/২১ইং তারিখে নুরুল হুদার জয়লাভ সম্পর্কে গেজেট প্রকাশ
হয়ে যায়। গেজেট প্রকাশ হলে ও মহামান্য হাইকোর্টের ইস্যুকৃত রুল নিশির কারণে নুরুল হুদার শপথ গ্রহণ স্থগিত থাকে। লক্ষণীয় যে, উক্ত রুল নিশির প্রেক্ষিতে নুরুল হুদা মহামান্য হাইকোর্টে জবাব দাখিল করলে হাইকোর্ট ঐ বিষয়ে শুনানী হবে এবং নুরুল হুদার গেজেট বাতিল করবে নাকি বহাল রাখবে তা মহামান্য হাইকোর্ট সিদ্ধান্ত দিবে। কিন্তু সম্প্রতি জানা যায় যে, নির্বাচন কমিশন বাদীর দায়েরী মামলায় বিবাদী হিসাবে পক্ষভুক্ত থাকা এবং তাদের প্রতি রুল নিশি ইস্যু থাকা সত্বেও তারা এ রুলের জবাব না দিয়ে ১৬/০১/২২ইং
তারিখে একখানা পত্র জারী করেন যাতে লিখা হয়েছে যে, এ অবস্থায় নুরুল হুদার শপথ গ্রহণ করতে আইনত কোন বাধা নেই। যেখানে নুরুল হুদার নামে প্রচারিত গেজেট বাতিল হবে নাকি বহাল থাকবে সে বিষয় মহামান্য হাইকোর্টে বিচারাধীন আছে, সেই রুলের জবাব না দিয়ে নুরুল হুদার শপথ গ্রহণে আইনগত বাধা না থাকা উল্লেখ করা মহামান্য হাইকোর্টের প্রতি নির্বাচন কমিশনের অবজ্ঞা কিনা তা জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
লক্ষনীয় যে নির্বাচন কমিশন শপথ গ্রহণে আইনগত বাধা না থাকার কথা উল্লেখ করলে ও এ চিঠিতে শপথ গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তারা বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত বলে উল্লেখ করেছে।
এমতাবস্থায় মহামান্য হাইকোর্টের রুলের প্রতি অবজ্ঞা মূলক কর্মটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করে নিবার্চন কমিশন সতিনের ছেলের মাধ্যমে সাপ ধরানোর কৌশল নিয়াছেন কিনা তাও স্থানীয়ভাবে আলোচনা হচ্ছে। এদিকে আদালতের নির্দেশনা অবজ্ঞা করে ২০ জানুয়ারী শপথ অনুষ্ঠানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

সর্বশেষ - অপরাধ