মঙ্গলবার , ৯ নভেম্বর ২০২১ | ২১শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরো
  6. ইসলাম
  7. এক্সক্লুসিভ
  8. কক্সবাজার
  9. করোনাভাইরাস
  10. খেলাধুলা
  11. জাতীয়
  12. জেলা-উপজেলা
  13. পর্যটন
  14. প্রবাস
  15. বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি

২ বছর ধরে চোখের ডাক্তার নেই কক্সবাজার সদর হাসপাতালে

প্রতিবেদক
সৈয়দ আলম
নভেম্বর ৯, ২০২১ ৮:০১ অপরাহ্ণ

ছৈয়দ আলম,কক্সবাজার আলো : 
গত প্রায় ২ বছর ধরে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেই কোনও চোখের ডাক্তার। ফলে চোখের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের ফিরে যেতে হচ্ছে অনেকটা বিনা চিকিৎসায়। জেলার বাইরে থেকে যেসব ডাক্তার বিভিন্ন ক্লিনিকে এসে রোগী দেখেন, তাদের ফি বেশি হওয়ার কারণে গরিব রোগীদের পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। আবার একটি সিন্ডিকেট প্রাইভেট চেম্বার করে চক্ষু বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে গলাকাটা ব্যবসা করছে। মূলত তারাই অকেজো করে রাখছে জেলার প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র সদর হাসপাতালের চক্ষু বিভাগ। এ কারনে চক্ষু বিভাগের লাখ লাখ টাকার সরকারী যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
প্রফেসর, কনসালটেন্ট, মেডিকেল অফিসারসহ সব পোস্ট খালী রয়েছে প্রায় ২ বছর ধরে।
অথচ চক্ষু রোগ নির্ণয় করার স্লিট ল্যাম্প, ভিউ বক্স, কম্পিউটার মেশিনসহ সব যন্ত্রপাতি পড়ে আছে। যেইগুলা রক্ষনাবেক্ষন ও অব্যবহৃত থাকার ফলে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
সদর হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগের তথ্য মতে, ২০১৯ সাল থেকে হাসপাতালে চোখের চিকিৎসকের পদটি শূন্য রয়েছে। এরপর ২ বছর পার হলেও মন্ত্রণালয় থেকে আসেননি কোনও চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। প্রতি মাসে সদর হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্ত্যবরত চিকিৎসক ও শূন্য পদ উল্লেখ করে তালিকা পাঠানো হলেও মেলেনি চক্ষু চিকিৎসক। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, জেলা সদর হাসপাতালের চক্ষু বিভাগ সচল করতে দিচ্ছে না একটি বাইরের সিন্ডিকেট। তারা নিজেরা রোগি দখল ও বানিজ্য করতে সদরের চক্ষু বিভাগকে অকার্যকর করে রাখছে। এছাড়া কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের চক্ষু বিভাগের শিক্ষার্থীরাও ক্লাস থেকে শুরু করে প্র্যাকটিক্যাল কোন কোর্স পাচ্ছে না। মাঝে মধ্যে শহরের বায়তুশ শরফ হাসপাতালে গিয়ে ইন্টার্নি করতে দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কক্সবাজার সদর হাসপাতালের টিকেট কাউন্টার ও অনুসন্ধান বিভাগে রোগি সেজে টিকেটের কথা বললে দায়িত্বে থাকা এক মহিলা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তিনি চাকরী করার পর থেকে চোখের ডাক্তার নেই। অনেক রোগি এসে ফেরত যায় নিজের থেকেও খারাপ লাগে অসহায় মানুষগুলো চলে গেলে। কেন নেই জানতে চাইলে তিনি স্যারদের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।
হাসপাতালের টিকেট কাউন্টারের সামনে কথা হয় ৪৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ নাসির উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘চোখের সমস্যা নিয়ে অনেক দিন ধরে অসুস্থ। গরিব বলে সদর হাসপাতালে আসি ডাক্তার দেখাতে। সবাই বললো চোখের কোনও ডাক্তার নেই।’ বাইরে বেসরকারি ক্লিনিকে ডাক্তারের ভিজিট কমপক্ষে ৫০০ টাকা এবং সপ্তাহের একদিন বা দুইদিন ডাক্তার পাওয়া যায় বলেও জানান তিনি। তবে প্রাইভেটে ডাক্তার পাওয়া গেলেও টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারিনা।
আজিজা আনজুম (৩৫) নামের আরেক রোগী জানান, ‘চোখের ডাক্তার দেখাতে টেকনাফ থেকে অনেক কষ্ট করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে এসেছি। এখন শুনলাম হাসপাতালে চোখের ডাক্তার নাই।’
উখিয়া রাজাপালং এলাকার দিনমজুর হাসান আলী (৪৫) বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই হাসপাতালে আসছি। টিকিট কাউন্টারে গেলেই বলে চোখের ডাক্তার নাই। হাসপাতালে সব ডাক্তার আছে তো চোখের ডাক্তার নাই কেন?’ এমন প্রশ্ন করলে বেশি কথা না বলে চলে যান বলে তাড়িয়ে দেয়।
জেলা সদর হাসপাতালের টিকে কাউন্টারের দায়িত্বরত কম্পাউন্ডার জানান, ‘প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮০/৯০ রোগী চোখের ডাক্তারের টিকেট চান। হাসপাতালে চোখের ডাক্তার নেই কয়েক বছর ধরে। তাই আমরা চোখের ডাক্তারের টিকেট বিক্রি করি না। প্রতিদিনই চোখের ডাক্তার দেখাতে এসে অনেক রোগী ফিরে যান।’
জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা: শাহিন আবদুর রহমান চৌধুরী জানান, ‘২০১৯ সাল ডা: গিয়াস উদ্দিন স্যার অবসরে যাওয়ার পর থেকে হাসপাতালে চোখের চিকিৎসকের পদটি শূন্য রয়েছে। প্রতি মাসে মন্ত্রণালয়ে শূন্য পদের জন্য চাহিদা পাঠানো হয়ে থাকে।’
মন্ত্রণালয় থেকে চোখের ডাক্তারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হলেই হাসপাতালে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আসবে।’
কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাধবায়ক ডা: সুমন বড়ুয়া জানান, ‘হাসপাতালের শূন্য পদগুলোর জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহা পরিচালক বরাবর চাহিদা পত্র পাঠানো হচ্ছে বার বার। তবে এখন পর্যন্ত কোনও সুরাহা পাচ্ছি না। হাসপাতালে অতি দ্রুত একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রয়োজন।’ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল বাংলাদেশের একটি রুল মডেল হাসপাতাল দ্রুত চক্ষু বিভাগ সচল করতে উদ্যোগ নেব।

সর্বশেষ - অপরাধ