1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

৩ মাসে লেনদেন ২৮ কোটি পুলিশ-আইনজীবীসহ ২০ জনের ইয়াবা সিন্ডিকেট

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০১৫
  • ১৪৪ দেখা হয়েছে
image_124288_0অনলাইন ডেস্ক:

অপরাধীদের সঙ্গে সখ্য এমনকি অপরাধ জগতে বিচরণ পুলিশের জন্য নতুন কিছু নয়। উচ্চাভিলাষের জন্য কে কি না করে। কিন্তু রাষ্ট্র যখন ইয়াবার বিরুদ্ধে কঠোর ভূমিকা নেয় ঠিক সেই কাজে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই যদি জড়িয়ে যাওয়ার প্রমাণ মিলে তখন তাদের সুষ্ঠু বিচার আদৌ হবে কি না, নাকি কিছুদিন পর বেরিয়ে আবার পুরনো পেশায় ফিরে যাবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। রাতারাতি কোটিপতি হতে অনেক পুলিশ সদস্য অপরাধীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশেষ শাখার (এসবি) টেকনিক্যাল সেকশনের এএসআই মাহফুজুর রহমান। ২০ জুন রাতে ফেনী শহরের অদূরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লালপোলে ২৭ কোটি ২০ লাখ টাকা মূল্যের ৬ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় এএসআই গ্রেফতারের পর বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য। ঘটনাটি জানাজানি হলে শুধু সাধারণ মানুষ নয়, খোদ পুলিশ বিভাগও চমকে ওঠে। আইনের লোক হয়ে কিভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ফাঁকি দিয়ে মাহফুজ এ বেআইনি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন এ প্রশ্ন সবার মুখে মুখে। নাকি এ বেআইনি ব্যবসায় মাহফুজের উপরের মহলেরও কারো হাত আছে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুরো ঘটনায় পুরো পুলিশ বিভাগ ইমেজ সংকটে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তিন মাসে লেনদেন সাড়ে ২৮ কোটি টাকা

পুলিশ, আইনজীবী, আদালতের কর্মচারীসহ বিভিন্ন পেশার লোকজনের সমন্বয়ে গড়ে উঠা একটি সিন্ডিকেট গত তিন মাসে প্রায় সাড়ে ২৮ কোটি টাকার ইয়াবা কিনে বাজারে সরবরাহ করেছে। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও রাজধানীকে ঘিরে সক্রিয় প্রায় ২০ জনের এই ইয়াবা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। এদের মধ্যে ১৪ জন ইয়াবা ব্যবসায় গত তিন মাসে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এএসআই মাহফুজুরের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া তিনটি নোটবুক থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
র‌্যাবের দেওয়া তথ্যমতে, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটে গুরুত্বপূর্ণদের মধ্যে আছেন কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাবেক এসআই (বর্তমানে হাইওয়ে পুলিশে কর্মরত) বেলাল হোসেন, হাইকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, সীতাকু-ের কুমিরা পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত সাবেক এএসআই (বর্তমানে কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশে) আশিক হোসেন, হাইকোর্টের মুহুরি আবদুল মোতালেব, ঢাকার এসবির টেকনিক্যাল সেকশনের এএসআই মাহফুজুর রহমান এবং কনস্টেবল কাশেম, গিয়াস ও শাহিন। এছাড়াও আছেন তোফাজ্জল হোসেন, আজাদ, মামা গিয়াস, গোবিন্দ, সেলিম, বিল্লাল, এসআই আমিরের বন্ধু, কুমিল্লার মামা হান্নানসহ আরও কয়েকজন।
সূত্র মতে, মাহফুজুরকে আটকের পর তার কাছে থাকা তিনটি নোটবুকের তথ্য সমন্বয় করে ইয়াবা নিয়ে টাকা লেনদেনের একটি তালিকা করেছে র‌্যাব। তালিকা অনুযায়ী গত তিন মাসে ইয়াবা ব্যবসায় সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করেছেন সিন্ডিকেট সদস্য হাইকোর্টের মুহুরি আবদুল মোতালেব। তিনি দিয়েছেন ২০ কোটি ৩৭ লাখ ৪ হাজার টাকা। কনস্টেবল গিয়াস দিয়েছেন এক কোটি ৮০ লাখ টাকা। বিল্লাল নামে একজন দিয়েছেন এক কোটি ৭৫ লাখ টাকা। তোফাজ্জল হোসেন নামে একজন দিয়েছেন এক কোটি ৫০ লাখ ৯২ হাজার টাকা। হাইকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন দিয়েছেন ৬৩ লাখ ১০ হাজার টাকা। এসআই আশিক হোসেন দিয়েছেন ৪৬ লাখ টাকা। কাশেম নামে একজন ৪৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা, আজাদ নামে একজন ৬ লাখ টাকা, মামা গিয়াস ৬৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা, গোবিন্দ দাদা ৪ লাখ টাকা, সেলিম ৩৮ লাখ ৩৭ হাজার টাকা, শাহিন ৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা, জনৈক এসআই আমিরের বন্ধু ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা, কুমিল্লার জনৈক মামা হান্নান দিয়েছেন ২১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এ হিসাবে গত তিন মাসে ওই সিন্ডিকেট ২৮ কোটি ৪৪ লাখ ১৩ হাজার টাকা ইয়াবার জন্য লেনদেন করে।
মিয়ানমার থেকে ইয়াবা আনতেন এসআই বেলাল
সহযোগীদের কাছ থেকে ইয়াবা ক্রয়ের টাকা সংগ্রহ করতেন গ্রেপ্তার হওয়া এএসআই মাহফুজুর। তিনি টাকা নিয়ে যেতেন কক্সবাজারে। সেখানে এসআই বেলালের হাতে টাকা দিতেন। বেলাল মিয়ানমার থেকে টেকনাফ দিয়ে ইয়াবাগুলো নিয়ে আসতেন। বেলালের কাছ থেকে মাহফুজুর সেগুলো ঢাকায় নিয়ে খুচরা ও পাইকারি ইয়াবা বিক্রেতাদের হাতে তুলে দিতেন। বিক্রির টাকা সিন্ডিকেটের সদস্যরা ভাগ করে নিতেন।
গ্রেপ্তারের পর মাহফুজুর র‌্যাবকে জানিয়েছেন, ২০ জুন ইয়াবাগুলো তিনি কক্সবাজারের বাহারছড়ায় সার্কিট হাউজ রোডে ১৫২ নম্বর হাজী আমির ম্যানশনে বেলালের বাসা থেকে গাড়িতে তুলেছেন। প্রতিবারই তিনি বেলালের বাসা থেকেই ইয়াবা সংগ্রহ করতেন। পুলিশ কর্মকর্তার বাসা হওয়ায় তাদের কেউই সন্দেহ করত না বলে মাহফুজুর র‌্যাবকে জানিয়েছেন।
সূত্র জানায়, মাহফুজুর, এসআই বেলাল ও এএসআই আশিক একসময় কক্সবাজারের টেকনাফে কর্মরত ছিলেন। সেখানে থাকা অবস্থায় তারা স্থানীয় ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটে যুক্ত হন। পরে মাহফুজুর, আশিক ও বেলাল মিলে আরও কয়েকজনকে যুক্ত করে নিজেরাই একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন।
আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. শাহীনুজ্জামান তিনদিনের রিমান্ড শেষে গত বুধবার দুপুর ১টার দিকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর মোহাম্মদ ফারুকীর আদালতে এএসআই মাহফুজুর রহমানকে হাজির করেন। আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি জবানবন্দি প্রদান করেন মাহফুজ। জবানবন্দিতে তিনি জানান, টেকনাফে কর্মরত থাকাকালীন ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। এছাড়া ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের নাম প্রকাশ করে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন। আদালতে দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘন্টা তার জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়।
জড়িতদের খোঁজে পুলিশের তদন্ত কমিটি
ইয়াবা উদ্ধার ও পাচারের ঘটনায় জড়িত পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স। সিআইডির ডিআইজি সাইফুল হককে প্রধান করে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। অন্য সদস্যরা হলেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এআইজি (পিআইও) কাজী জিয়া উদ্দিন ও ডিসিপ্লিন এবং প্রফেশনাল স্ট্যান্ডার্ড শাখার সিনিয়র এএসপি আবদুস সালাম এবং ফেনীর এএসপি হেডকোয়ার্টার্স মুহাম্মদ শাহরিয়ার আলম।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুলিশ বাহিনীর কোনো কোনো সদস্য ইয়াবাসহ এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত তা চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক। এ জন্য পুলিশের সব ইউনিট প্রধানকে বার্তা পাঠিয়েছেন তিনি। সাময়িক বরখাস্তকৃত এএসআই মাহফুজুর রহমানসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতেও বলা হয়েছে ওই কমিটিকে। কমিটির কাছে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।
এছাড়া মানবপাচার, মাদক এবং অন্যান্য চাঞ্চল্যকর ঘটনা তদন্ত এবং করণীয় নির্ধারণে স্পেশাল ব্রাঞ্চের অ্যাডিশনাল ডিআইজি তৌফিক মাহবুব চৌধুরীকে প্রধান করে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্য রয়েছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল হায়দার এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ডিসিপ্লিন এবং প্রফেশনাল স্ট্যান্ডার্ড শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।
এদিকে কমিটির বিরুদ্ধেও নামানো হয়েছে গোয়েন্দা পুলিশকে। কমিটির কোনো পুলিশ সদস্য পেশাগত মান থেকে বিচ্যুৎ হচ্ছে কি না বা অন্য কোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে কি না এ সংক্রান্তে সার্বিক তথ্য সংগ্রহ করবে গোয়েন্দারা।
মামা গিয়াস গ্রেপ্তার
এএসআই মাহফুজ ও গাড়িচালক জাবেদের স্বীকারোক্তি মতে ইয়াবা পাচারের ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ফেনী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. শাহীনুজ্জামান কক্সবাজার, টেকনাফসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। বুধবার সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার বাগুর গ্রাম থেকে সিন্ডিকেটের আরেক সদস্য গিয়াস উদ্দিন প্রকাশ মামা গিয়াসকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওইদিন তাকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
অপরাধের ব্যাপারে পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’
পুলিশের আইজিপি একেএম শহীদুল হক বলেছেন, সততা বা অসততা মানুষের নিজস্ব গুণ বা দোষ। কোনো অপরাধের দায়ভার একান্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজের। পুলিশ বিভাগ কোনো অপরাধীকে প্রশ্রয় দেয় না। আমরা এটা বরদাশত করি না। বরং নিজের ইউনিটের কেউ অপরাধে জড়ালে তাকে অপরাধী হিসেবেই গণ্য করি। এ ক্ষেত্রে আমরা সব সময়ই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করি। কোনো সদস্যের অপরাধের কারণে পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তিকে জড়ানোর চেষ্টাও সমীচীন নয়। যারা ইয়াবাসহ অনুরূপ অপরাধে জড়িয়েছে তাদের অবিলম্বে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ১৯ জুন রাতে ফেনীর লালপোলে ইয়াবার বিশাল চালান উদ্ধার করা হয়। এ সময় নগদ ৭ লাখ টাকা, ৪টি মোবাইল, ৮টি ক্রেডিট কার্ড ও ৩টি নোটবুক উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাব-৭’র ডিএডি নায়েক সুবেদার মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে এএসআই মাহফুজুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তা, গাড়িচালক জাবেদ আলীসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন।

এই বিভাগের আরও খবর
  • ২০১৪ - ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ‌্য মন্ত্রণালয়ে আবেদিত ।
Site Customized By NewsTech.Com