বলরাম দাশ অনুপম, কক্সবাজার :
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমী নিন্মচাপের ফলে উত্তাল হয়ে উঠেছে সাগর। নিন্মচাপটি কক্সবাজার সমুদ্র উপকূল থেকে ১৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অবস্থান করছে যা ঘন্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে কক্সবাজারের দিকে এগিয়ে আসছে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে। এ কারণে উপকূলীয় এলাকার নিম্নাঞ্চল তিন থেকে চার ফুট জ্বলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। কক্সবাজার থেকে পর্যটকদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারি আবহাওয়া কর্মকর্তা এ,কে,এম নাজমুল হক এ তথ্য জানিয়েছেন। ফলে বুধবার দুপুর থেকে হঠাৎ করে ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে। ঝড়ো হাওয়ায় শহরের ঘোনারপাড়া, পাহাড়তলী, কলাতলী, লাইট হাউস, বাদশাঘোনাসহ বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি কাঁচা বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়, বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ। এদিকে জ্বলোচ্ছাসের আশংকা দেখা দিয়েছে। এদিকে কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৪নং স্থানীয় সর্তক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ফলে উপকূলীয় এলাকা থেকে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। বুধবার রাত ৯ টা এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শহরের উপকূলীয় এলাকা সমিতিপাড়া, কুতুবদিয়া পাড়া, বন্দর পাড়া, ফদনার ডেইল, কলাতলী, বড় ছড়াসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় সহ¯্রাধিক লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। কক্সবাজারের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয় কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ড. অনুপম সাহা বলেন-উপকূলীয় এলাকার মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনার পাশাপাশি পরবর্তী সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এদিকে টানা বর্ষণ ও সাগরের জোয়ারের পানিতে কক্সবাজারের নিম্নাঞ্চ গত এক সপ্তাহ ধরে পানির নীচে। কমেনি বন্যা কবলিতদের দুর্ভোগ। উজান থেকে নেমে আসছে পাহাড়ী ঢল। জেলায় শতাধিক গ্রামের ৩ লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি অবস্থায় রয়েছে। ফলে এসব এলাকায় জন দূর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। পূর্নিমার তিথীর কারনে জোয়ারের পানিতে জেলার উপকূলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।