ঢাকাশনিবার , ১৩ জুলাই ২০২৪
  1. সর্বশেষ
  2. কক্সবাজার

পেকুয়ায় চলতি বন্যার ক্ষয়ক্ষতি ৯১’র প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ের মাত্রাকেও ছাড়িয়েছে,ঘরে ঘরে সর্বস্ব হারানোর আহাজারী

প্রতিবেদক
কক্সবাজার আলো
১২ জুলাই ২০১৫, ১০:৫১ অপরাহ্ণ

Link Copied!

এস.এম.ছগির আহমদ আজগরী,পেকুয়া :
কক্সবাজারের পেকুয়ায় চলতি বন্যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ৯১’র প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ের মাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে। ঘরে ঘরে দেখা দিয়েছে সর্বস্ব হারানোর আহাজারী এমন মন্তব্য করেছেন এলাকার পরিবেশ বিশ্লেষক, সমাজ বিশ্লেষক, সুশীল সমাজ, জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সাংবাদিক, শিক্ষক, প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী সহ সকল শ্রেণী পেশার মানূষ। তারা এ দূর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কাটাতে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কার্যক্রম জোরদারের দাবী করেছেন। সম্প্রতি কক্সবাজার জেলায় টানা বর্ষনের ঘঠনা ঘঠে। এসময় প্রবল বর্ষন ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে যায় জেলার উপকুলীয় মডেল উপজেলা হিসাবে পরিচিত পেকুয়া। এসময় উপজেলা লাগোয়া খরশ্রোতা মাতামুহুরী নদী দিয়ে উজানের ঢল ও সাগরের জোঁ’র বৃদ্ধি পাওয়া ঢলের পানির তোড়ে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের বিস্তির্ণ বেড়িবাঁধের ঝুকিপূর্ণ একাধিক পয়েন্টের বাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় উপজেলার ৭ইউনিয়নের মধ্যে শিলখালী, বারবাকিয়া ও পেকুয়া সদর ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে করে পেকুয়ার ৭ইউনিয়নের প্রায় সকল গ্রামের প্রত্যন্ত পাড়া-মহল্লায় প্রবল বন্যা দেখা দিলেও ক্ষয়ক্ষতির তীব্রতা ছিল বেশি পেকুয়া সদর, শিলখালী ও বারবাকিয়া ইউনিয়নে। উপজেলার উপকুলীয় ইউনিয়ন মগনামা, উজানটিয়া, রাজাখালী ও সদরের নি¤œাঞ্চলেও জলাবদ্ধতা দেখা দিলে উপজেলার ২লক্ষাধিক মানূষ হয়ে পড়ে পানি বন্দি। আর এর স্থায়ীত্বও ছিলো প্রায় বেশ কয়েকদিন। এসময় উপজেলার ৭ইউনিয়নের বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষনে দেখা গেছে যে, আকষ্মিক প্লাবনে পেকুয়া সদর ও শিলখালী ইউনিয়ন বেশি পরিমানে আক্রান্ত হলেও উজানটিয়া, মগনামা, রাজাখালী, বারবাকিয়া ও টইটং ইউনিয়নেও ছড়িয়ে পড়ে তার ভয়াবহতা। সরোজমিন পরিদর্শনে দেখা যায় যে, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের একাধিক পয়েন্ট বিধ্বস্ত হয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশের ফলে, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পূর্ব, উত্তর, দক্ষিণ মেহেরনামার বলিরপাড়া, সৈকতপাড়া, চৈরভাংগা, আঁধাখালী, আলেকদিয়াকাটা, চড়াপাড়া, নন্দীরপাড়া, বাঘগুজারা, ছিরাদিয়া, বিলহাঁচুড়া, গোঁয়াখালী, রাহাতজানীপাড়া, শেখেরকিল্লাহঘোনা, মাতবরপাড়া, মৌলভীপাড়া, চরপাড়া, আবদুল হামিদ সিকদারপাড়া, সাবেকগুলদী, সরকারীঘোনা, হরিনাফাঁড়ি, সিকদারপাড়া সহ প্রায় সকল পাড়া-মহল্লা, শিলখালীর হাজিরঘোনা, সবুজপাড়া, বাজারপাড়া, জনতাবাজার, হেদায়তাবাদ, কালুর বাপের পাড়া, ভারুয়াখালী, আলেকদিয়াপাড়া, শিলখালী হাই স্কুল ষ্টেশন, মুন্সিমুরা, এতিমখানা, বদু মুন্সিরঘোনা, মাঝেরঘোনা, জারুলবুণিয়ার নি¤œাঞ্চলের মহল্লাগুলো, দোকানপাড়া, পেঠান মাতবরপাড়া, আলী চাঁন মাতবরপাড়া, আক্কু মিয়ার খাচারী সহ অধিকাংশ পাড়া মহল্লা তলিয়ে যায় পানির নীচে। আর প্রায় সপ্তাহ খানেকেরও বেশী সময় যাবত এসব এলাকার প্রায় সব বাড়িঘর, মসজিদ, মাদ্রাসা, শিক্ষা প্রতিষ্টান, রাস্তাঘাট, গ্রামীণ অবকাটামোসহ সব কিছুই পানির নীচে তলিয়ে পড়ে। এতে করে উপজেলার বন্যাক্রান্ত এলাকায় হাজার হাজার ঘর বাড়ি, গবাধি পশু ও অন্যান্য সহায় সম্পদ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়। পেকুয়া সদরের প্রাক্তন চেয়ারম্যান জননেতা এডভোকেট কামাল হোছাইন, সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম, আ’লীগ নেতা মোঃ আবুল কাসেম, যুবলীগ নেতা মোঃ জাহাঙ্গির আলম, মেহেরনামার ইউপি সদস্য জকরিয়া মেম্বার সহ আরো অনেকেই জানিয়েছেন, সম্প্রতির বন্যায় পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরনামা, বলিরপাড়া, সৈকতপাড়া, চৈরভাংগা, আন্ধাখালী, তেলিয়াকাটা, সরকারীঘোনা, সাবেকগুলদী, আবদুল হামিদ সিকদারপাড়া, আন্নর আলী মাতবরপাড়া, মৌলভীপাড়া, সুতাবেপারীপাড়া, রাহাতজানীপাড়া, শেকেরকিল্লাহঘোনা, মিয়ারপাড়া, হরিণাফাঁড়ি, নন্দিরপাড়া, বাঘগুজারা গুরা মিয়া চৌধুরী বাজার, ছিরাদিয়া, বিলহাঁচুড়া, বাইম্মেখালী, মিঠাবেপারী পাড়া, গোঁয়াখালী, জাইল্লেখালী সহ প্রায় সব পাড়া-মহল্লা বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় সেখানে প্রায় ২/৩হাজারেরও বেশি কাঁচা, আধা কাঁচা ও মাটির তৈরী বসতঘর সম্পূর্ণ রূপে মাটির সাথে মিশে গেছে। ফলে মানুষ বাধ্য হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান ও আভ্যন্তরীন সড়ক ছাড়াও গাছের উপর মাছা তৈরী করে গবাধিপশু ও পরিবার পরিজন নিয়ে আশ্রয় নেয়। অন্যদিকে, পেকুয়া সদরের একাধিক পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে অবাধে জোঁ’র পানি প্রবেশ আর টানা বর্ষন ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে একাকার হয়ে প্লাবিত হয় শিলখালী ইউনিয়ন। সেখানে হাজি¦রঘোনা, সবুজপাড়া, দোকানপাড়া, আলী চাঁন মাতবরপাড়া, জনতা বাজার, মুন্সিমুরা, হেদায়তাবাদ, চেপ্টামুরা, এতিমখানা, ছৈয়দ নগর, আলেকদিয়াপাড়া, ভারুয়াখালী, কালুর বাপেরপাড়া, বদু মুন্সিরঘোনা, মাঝেরঘোনা, জারুলবুণিয়ার নীচু এলাকায় সম্প্রতির বন্যায় হাজারো বাড়িঘর অর্ধ বা পুরোপুরি বিলিন হয়ে গেছে। এসময় বীজতলা, ফসলের মাঠ ও মৎস্যঘেরগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ভেসে গেছে অধিকাংশ ছোট বড় মৎস্য প্রজেক্টের মাছ। এমনকি পাহাড়ি ঢল ও ভুমি ধ্বসের কারণে গ্রামটির পাহাড়ি এলাকার কয়েক শতাধিক বাড়িঘরও হয়েছে বিধ্বস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত। অন্যদিকে, সম্প্রতির বন্যায় উপজেলার ৭ইউনিয়নের প্রায় সকল পাড়া-মহল্লার রাস্তাঘাট, সড়ক, উপ-সড়ক, গলি, উপ-গলির গ্রামীণ অবকাটামো ব্রীজ, সেতু ও কার্লভার্টগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কম বেশী। যার ফলে, চলতি সিয়াম সাধনার মাস রমজানেও অনেক লোকজনের ঘরে ঘরে যেমন থাকা খাওয়ার নিশ্চয়তার পরিবেশ নেই তেমনি আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ উদযাপন নিয়েও হাজার হাজার পরিবারে দেখা দিয়েছে নানা শংকা ও চরম অনিশ্চয়তা। স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের মতে সম্প্রতির বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ৯১’র প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডবতাকেও হার মানিয়েছে। তার কারন হলো তখনকার বন্যায় পানির অবস্থানের স্থায়ীত্ব না থাকলেও এবারের প্লাবনে দিনের পর দিন লোকালয়গুলোয় পানি আটকে থাকা আর জোয়ার ভাটার পানিতে সয়লাব থাকার কারণেই এ অবস্থা বলে মন্তব্য করেন। এদিকে, পেকুয়া বন্যাক্রান্ত হওয়ার পর পরেই স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মারুফুর রশিদ খান পরিস্থিতির সার্বক্ষনিক মনিটরিংয়ের পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সক্রিয় ও আন্তরিক করে তুলে এলাকাবাসীর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃস্থানীয়, সাংবাদিক, শিক্ষক, সুশীল সমাজ, সমাজপ্রতিনিধি, পেশাজিবী নেতৃবৃন্দ সহ দলমত নির্বিশেষে সকল মহলের মধ্যে সমন্বয় সৃষ্টির মাধ্যমে ত্রাণ ও পূর্ণর্বাসন প্রক্রিয়া জোরদার ও অব্যাহত রাখলেও তা ছিল খুবই অপ্রতুল। যার কারণে বন্যা পরিস্থিতি উত্তরনের সপ্তাহখানেক পেরুলেও এখনো অধিকাংশ এলাকার লোকজন ফিরতে পারেনি তাদের বসতঘরে। সব মিলিয়ে পর্যালোচনায় প্রতিয়মান যে, সম্প্রতির বন্যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ৯১’র প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ের মাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে। যার ফলে, উপজেলার ৭ইউনিয়নের ঘরে ঘরে দেখা দিয়েছে সর্বস্বঃ হারানোর সরব নিরব আর্তনাদ আহাজারী।

আরও পড়ুন

কক্সবাজার ঘিরে মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে নেয়া হচ্ছে জনগণের মতামত

৩৩ দিন পর টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে নৌযান চলাচল 

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পড়ে আছে ভারতের দেয়া উপহার আইসিইউ এ্যাম্বুলেন্স

রামুতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার

কক্সবাজারের শ্রেষ্ঠ পুলিশ অফিসার টেকনাফ থানার ওসি ওসমান গনি

সেন্টমার্টিনে আসা রোহিঙ্গা বোঝাই ট্রলারটি মিয়ানমারে ফিরে গেছে

২ রোহিঙ্গা যুবকের দেহ তল্লাশিতে মিললো অস্ত্র গুলি

সেন্টমার্টিনে ভিড়ল মিয়ানমারের রোহিঙ্গা বোঝাই ট্রলার

কক্সবাজারে বন্য হাতির আক্রমণে মৎস্য ব্যবসায়ীর মৃত্যু 

রামুর ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন পরিষদ উপ-নির্বাচনে   চেয়ারম্যান পদে পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা

উখিয়ায় উপনির্বাচনে ৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল

কক্সবাজারে টানা ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা