ঢাকাশনিবার , ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  1. সর্বশেষ
  2. কক্সবাজার

কক্সবাজার পৌর নির্বাচন
পর্যটন শহরে উৎসব-শঙ্কা

প্রতিবেদক
সৈয়দ আলম
৫ জুন ২০২৩, ৯:৩০ অপরাহ্ণ

Link Copied!

পর্যটন শহর কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা এখন তুঙ্গে। আগামী ১২ জুন নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের প্রচারণায় পর্যটন নগরী এখন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। প্রার্থীরা ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ওয়ার্ডে পাড়া-মহল্লায় ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাচ্ছেন এবং ভোটারদের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তীব্র গরম উপেক্ষা করে চলছে জমজমাট প্রচার-প্রচারণা। চায়ের দোকান থেকে অফিস-আদালত সবখানেই আলোচনায় এখন নির্বাচন। মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থনে শহরের পাড়া-মহল্লার অলিগলি ও বিভিন্ন সড়কে চলছে মাইকিং। লিফলেট বিলিসহ করছেন গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠক। জমজমাট প্রচারণার মধ্যেও ভোটারদের মনে নানা প্রশ্ন। কে জিতবে? কে হারবে? ভোট দিতে পারবে তো? এমন নানা প্রশ্ন নিয়েই চলছে তুমুল আলোচনা। মেয়র প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও তুলছেন। যার ফলে নির্বাচন নিয়ে প্রধান দুই মেয়র প্রার্থীর কথার যুদ্ধে চলছে টানটান উত্তেজনা। এর মধ্যে কক্সবাজার নৌকার মেয়র প্রার্থী মাহবুবুর রহমান ও স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থী মাসেদুল হক রাশেদ সংবাদ সম্মেলন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনে সরব হওয়ার ঘোষণায় নির্বাচনী উত্তেজনা আরো বেড়ে গেছে।
একই সাথে মাসেদুল হক রাশেদ এর নির্বাচনী কয়েকজন মহিলাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক জরিমানা করায় উৎকন্ঠা এবং আতঙ্কও বাড়ছে। এ পর্যন্ত কক্সবাজারের নির্বাচনী পরিবেশ বেশ শান্ত ছিল। ভোটারদের মনে নির্বাচন নিয়ে ছিল উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনা। তবে কয়েকদিন ধরে ভোটারদের মনে আবারো উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে কক্সবাজার পৌরসভার ১২ ওয়ার্ডে ৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বপালন করছেন।
৩ জুন শনিবার প্রার্থীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: আহসান হাবিব খান (অব:)। তিনি বলেছেন, কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। প্রত্যেকটি কেন্দ্রে বসানো হবে সিসি ক্যামেরা। যাতে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। নির্বাচনে কেউ পেশীশক্তি ও কালো টাকার ব্যবহার করলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, অধিকাংশ প্রার্থী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছে। তাই সবাইকে সতর্ক করা হচ্ছে। কেউ নির্দেশনা না মানলে বাতিল করা হবে প্রার্থিতা। নির্বাচনে পর্যাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হবে।
জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন- কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মোঃ মাহফুজুল ইসলাম, জেলা নির্বাচন অফিসার এস. এম শাহাদাত হোসেন। সদর নির্বাচন অফিসার শিমুল শর্মার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় নৌকার মেয়র প্রার্থী মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, নারিকেল গাছ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসেদুল হক রাশেদ, জোসনা হক, জগদীশ বড়ুয়া পার্থ, জাহেদুর রহমান, কাউন্সিলর ও মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরা নানা অভিযোগ তুলে ধরেন।
আগামী ১২ জুন সোমবার ইভিএম পদ্ধতিতে সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হবে। কক্সবাজার পৌরসভায় মোট ৪৫ টি ভোট কেন্দ্রে ২৪৪ টি বুথ রয়েছে। এছাড়া অস্থায়ী আরো ১৪ টি বুথ রয়েছে। সবশেষ ভোটার তালিকায় কক্সবাজার পৌরসভায় মোট ৯৪ হাজার ৮১১ জন ভোটার রয়েছে। তারমধ্যে ৪৯ হাজার ৮৮৫ জন পুরুষ ভোটার এবং ৪৪ হাজার ৯২৬ জন মহিলা ভোটার।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্বাচনের আর মাত্র হাতেগোনা ৭ দিন বাকি। এ পর্যন্ত কক্সবাজারের পরিবেশ অনেকটা শান্তিপূর্ণ থাকলেও সামনের দিনগুলোতে কি হয় তা নিয়ে ভোটারদের মনে দুশ্চিন্তা দানা বাঁধতে শুরু করেছে।
কক্সবাজার পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫ জন প্রার্থী। তবে মূল লড়াইটা হবে সরকারি দল আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মাহবুবুর রহমান ও স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থী মাসেদুল হক রাসেদ এর মধ্যে।
কক্সবাজার পৌর নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। কারণ দেশে চলমান নির্বাচনে যেভাবে নৌকার ভরাডুবি হচ্ছে তাতে কক্সবাজার পৌর নির্বাচন নিয়ে তারা বেশ সতর্ক। এ কারনে নৌকার বিজয়ের ব্যাপারে তারা অনেকটা মরিয়া।
তবে নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের কোন প্রার্থী না থাকায় তারা ভোট কেন্দ্রে না গেলে সেটাও প্রভাব পড়বে কারন কক্সবাজার পৌর এলাকা বিএনপি-জামায়াতের বড় একটা ভোট ব্যাংক রয়েছে।
আওয়ামী লীগের জেলার অধিকাংশ নেতারা প্রতিদিনই মাবুর পক্ষে প্রচার প্রচারণায় অংশ নিতে ছুটে যাচ্ছেন বিভিন্ন সভা-সমাবেশে। স্থানীয় নেতাদের মধ্যে বিরোধ বা দ্বন্ধ নিরসনেও তারা চেষ্টা করছেন। নৌকার পক্ষে কাজ না করায় কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কক্সবাজারে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান মেয়র মুজিবুর রহমান মনোনয়ন দেয়ার শুরুতে নীরব থাকলেও কয়েকদিন ধরে জোরেসোরে নৌকার পক্ষে নির্বাচনে নেমেছেন। নৌকার প্রার্থী মাবুর পক্ষে মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।
অন্যদিকে নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা স্বতন্ত্রপ্রার্থী মাসেদুল হক রাসেদ এর পক্ষেও মাঠে রয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা। এছাড়া বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠনের নেতাকর্মী রাসেদ এর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।
তাছাড়া রাসেদ এর আপন ভাই জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহিনুল হক মার্শাল, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কায়সারুল হক জুয়েল ও একমাত্র বোন সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য তাহমিনা চৌধুরী লুনা রাতদিন কাজ করছেন। তারাও ভোটের মাঠে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখছেন।
তবে ভোটের বাইরে থাকা বিএনপি-জামায়াতের অনেক নেতারা মনে করছেন- কক্সবাজার পৌর নির্বাচন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের জন্যও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এ কমিশনের অধীনে গাজিপুরের পর দ্বিতীয় পর্যায়ের পরীক্ষামূলক নির্বাচন। অতীতের সংসদ নির্বাচন এবং উপজেলা ও বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ায় ইসি সমালোচিত হচ্ছেন। এ অবস্থায় কক্সবাজার পৌর নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করে নিজেদের ব্যর্থতার কালিমা কিছুটা হলেও লাগব করতে পারে। তবে তারা মনে করছেন এ নির্বাচন কমিশনের ব্যাপারে নুন্যতম আস্থাও নেই। তাই বিএনপি-জামায়াত ভোটে অংশ নেয়নি। তারা মনে করেন এ নির্বাচন কমিশন মেরুদ-হীন। তাদের পক্ষে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব নয়।
এ অবস্থায় নির্বাচন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রধান দুই মেয়রপ্রার্থী এবং ভোটাররা কী ভাবছেন বাস্তবে দেখা গেছে, নির্বাচনের তারিখ যত ঘনিয়ে আসছে ততই সরগরম হয়ে উঠছে পৌর এলাকা। আওয়ামী লীগ মনোনীত মাহবুবুর রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসেদুল হক রাসেদ দু’জনেই জয়ের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী। তাদের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যেও উৎসাহ উদ্দীপনার কমতি নেই। তবে দুজনই নির্বাচন নিয়ে একের পর এক মন্তব্যে বিব্রত ভোটাররা।
নৌকার প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বলেন, নৌকা স্বাধীনতা ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতীক। আমি নিরাপদ ও জনবান্ধব নেতা বলেই আমাকে নৌকা উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নিশ্চয় জনগণ ১২ জুন প্রমান দিবেন নৌকায় সীল মেরে।
তিনি আরো বলেন, আমি কোন দখলবাজ ও টেন্ডারবাজ না। ৩ বার কাউন্সিলর ও ৩ বছর ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করছি। কেউ দুর্নীতি করেছে বলে প্রমান দিতে পারবেন না।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসেদুল হক রাসেদ বলেন, আমি দলীয় প্রতীকের বিরোদ্ধে ভোট করছিনা। ভোট করছি ব্যক্তির বিরোদ্ধে। সারাজিবন আওয়ামী লীগ করে এ পর্যন্ত এসেছি আমার বাবা মরহুম একেএম মোজাম্মেল হক কক্সবাজার পৌর সভার দুইবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের আমরণ সভাপতি ছিলেন। আমার আপন দুই জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। পৌরবাসীর সূখে-দূখে আমরা নিয়োজিত আছি। ১২ জুন বিপুল ভোটে রায় দিয়ে জনগণ বুঝিয়ে দিবে মোজাম্মেল পরিবারের জনপ্রিয়তা কেমন।
কক্সবাজার পৌর নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা এমএম শাহাদাত হোসেন জানান, ১২ জুন পৌর নির্বাচন অবাধ নিরপেক্ষ করতে কমিশন বদ্ধ পরিকর। যে যতই প্রভাবশালী হোক না কেন ভোটে বিশৃংখলা ও প্রভাব বিস্তার করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা। সুন্দর ও রক্তপাতহীন নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে পৌরবাসীসহ সকলের সহযোগিতা চান তিনি।

 

আরও পড়ুন

বাপা’র কক্সবাজার সদর উপজেলা শাখার কমিটি গঠন

কক্সবাজারে আগুনে পুড়ে পাঁচ দোকান ছাই

আবুধাবি দূতাবাসে  অমর একুশ স্মরণে নানা কর্মসূচি পালিত

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ২০,৬৪৭

কক্সবাজারে অসাধু ডাক্তার-হাসপাতাল ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বেপরোয়া 

কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন: বাদ পড়া ক্লাব প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করতে হাইকোর্টের নির্দেশ

দেশের ৯৫ শতাংশ জনগণ ৭ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছে

কক্সবাজারে ৬ অবৈধ ইটভাটায় অভিযান : ২১ লক্ষ টাকা জরিমানা, কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ

রামু ১০ পদাতিক ডিভিশন ও কক্সবাজার এরিয়া পরিদর্শন করলেন সেনাপ্রধান 

কুরিয়ার সার্ভিসের গাড়িতে ইয়াবা : ৩ পাচারকারী আটক

সাংবাদিক সংসদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন

শাহপরীরদ্বীপ সীমান্ত দিয়ে নৌকায় চেপে আসল গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গা নারী